Advertisement
E-Paper

‘বাংলাটা শিখে ফেলুন’, এজলাসেই আইনজীবী মেনকাকে বললেন বিচারপতি বাগচী! কী জবাব হবু তৃণমূল সাংসদের?

মঙ্গলবার এসআইআর মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি বাগচী এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে শুনানিতে রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন মেনকা গুরুস্বামী। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ ২২:০১
Supreme Court Justice Joymalya Bagchi advises lawyer Menaka Guruswamy to learn Bengali

(বাঁ দিকে) বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

রাজ্যসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন তিনি। অপেক্ষা সাংসদ হিসাবে শপথ নেওয়ার। সেই আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে ‘বাংলা শেখার’ পরামর্শ দিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। এজলাসে মেনকার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘এ বার বাংলাটা শিখে ফেলুন!’’

মঙ্গলবার এসআইআর মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি বাগচী এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে শুনানিতে রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন মেনকা। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার দুপুরে এসআইআরের মূল মামলার শুনানি ছিল। তার আগে রাজ্যের আবেদনের শুনানি হয়। ফলে আলাদা করে আর মূল মামলার শুনানি হয়নি। এই শুনানিতেই যা নির্দেশ দেওয়ার দিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

তবে মঙ্গলবারের শুনানিতে প্রথমেই প্রশ্নের মুখে পড়ে রাজ্য। কেন এই ধরনের আবেদন করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি। মূলত আইনজীবী মেনকাকে উদ্দেশ্য করেই একের পর এক প্রশ্নবাণ ছো়ড়েন তিনি। তবে মেনকা জানান, এই আবেদন তিনি করেননি। অন্য আবেদনকারী আবেদন করেছিলেন। রাজ্যের হয়ে তিনি সওয়াল করছেন। বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষ নামের কি ভোটের আগেই নিষ্পত্তি হবে, তা নিয়ে ‘সন্দেহপ্রকাশ’ করেন মেনকা।

কখনও প্রধান বিচারপতি, কখনও বেঞ্চে থাকা অন্য বিচারপতিরা নানা মন্তব্য করেন। রাজ্যের হয়ে কখনও মেনকা, আবার কখনও সওয়াল করেন কল্যাণ। ছিলেন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীও। শুনানিপর্বে রাজ্য যেমন প্রশ্নের মুখে পড়েছিল, তেমনই প্রশ্ন ওঠে কমিশনের ভূমিকা নিয়েও। এককথায়, শুনানি শেষে কমিশনের ‘হাত বেঁধে’ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। প্রায় ঘণ্টাখানেকের শুনানিপর্ব শেষে মেনকা প্রধান বিচারপতিকে বলেন, ‘‘আজ আর পশ্চিমবঙ্গের কোনও বিষয় (ম্যাটার) নেই!’’ সঙ্গে সঙ্গে কল্যাণ তা সংশোধন করে বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ সব সময়ই ম্যাটার (গুরুত্বপূর্ণ)। আজ আর এসআইআরের বিষয় নেই।’’

তার পরেই বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘‘আমি সব সময়ই পশ্চিমবঙ্গের ম্যাটার ভালবাসি।’’ এখানে ‘ম্যাটার’ বলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি বিচারপতি। তার পরেই মেনকা বলেন, ‘‘আমরা চেষ্টা করব এমন বিষয় আরও আনার।’’ রাজ্যের আইনজীবীর কথা শুনে তাঁর উদ্দেশে বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘‘এ বার বাংলাটা শিখে ফেলুন।’’ উত্তরে মেনকা বলেন, ‘‘আমি সেই চেষ্টাই করছি।’’ উল্লেখ্য, বিচারপতি বাগচী নিজে বাঙালি। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার আগে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি ছিলেন তিনি। আর মেনকা এক দিকে যেমন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হয়ে মামলা লড়ছেন, অন্য দিকে, এ রাজ্য থেকেই রাজ্যসভার সাংসদ হতে চলেছেন। তাই তাঁর সঙ্গেও পশ্চিমবঙ্গ জড়িয়ে গিয়েছে। আইনজীবীদের একাংশের মতে, সেই কারণেই মজা করে মেনকাকে বাংলা শেখার বিষয়টি বলেছেন বিচারপতি বাগচী।

Supreme Court SIR
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy