• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

খাবারের সঙ্কট যেন না হয়: প্রশাসনকে মমতা

Mamata Banerjee
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গোটা দেশে ২১ দিনের জন্য ‘লকডাউন’ চালু হয়েছে মঙ্গলবার মাঝ রাত থেকে। কার্যকর হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা আইন। এ অবস্থায় রাজ্যে জরুরি পরিষেবা সচল রাখতে বুধবার একগুচ্ছ নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সর্বস্তরের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছেন মমতা। ৩১ মার্চ ফের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন তিনি।

মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি এবং পুলিশের তত্ত্বাবধানে থাকা একটি টাস্ক ফোর্স সক্রিয় করেছে রাজ্য। এই দু’টি কমিটিই সাধারণ প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা-সহ সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘‘মানুষ তো না-খেয়ে থাকবেন না। তাঁদের জরুরি পরিষেবা দিতে আমরা দায়বদ্ধ।’’

লকডাউন কার্যকর করে কেন্দ্র জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা আইনের বিধি স্থির করে দিয়েছে। সব রাজ্যকেই সেই বিধি মেনে চলতে হবে। তার আওতায় জরুরি পরিষেবা সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলির কথা জানানো হয়েছে। তার পরেও কোথাও কোথাও জরুরি জিনিসের হোম ডেলিভারি পরিষেবায় বাধাদানের অভিযোগ পেয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, আবশ্যিক পণ্যগুলির হোম ডেলিভারি সচল রাখতে দায়িত্ব নিতে হবে পুলিশ প্রশাসনকে। সব থানাকে এই পরিষেবা বাধাহীন রাখতে নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। স্থানীয় থানার আইসি, বিডিও, এসডিও, জেলার পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসকদের এই কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন মমতা। সরকারের নির্দেশ, পুলিশ ডেলিভারি-কর্মীদের ‘পাস’ দেবে। তা দেখিয়ে তাঁরা পার্শ্ববর্তী জেলাতেও যাতায়াত করতে পারবেন।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ

• খাবার-সহ জরুরি পণ্যের হোম ডেলিভারি চালু।

• চাষি, আনাজ বিক্রেতা, আনাজের মোটবাহককে ছাড়। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।

• গরিব কেউ খেতে না-পেলে বিডিও, থানার আইসি-রা ব্যবস্থা করবেন।

• ফুটপাতবাসীদের খাবার দেবে পুরসভা-পুলিশ। কমিউনিটি কিচেন চালু থাকবে।

• চিকিৎসক, চিকিৎসাকর্মীর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করবে সরকার।

•  নিরাপত্তারক্ষী, কর্মীদের খাবারের ব্যবস্থা করবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল।

• অশক্ত এবং একা থাকা বয়স্কদের সাহায্য করতে আবাসনগুলিকে আর্জি।

• সামাজিক পেনশনভোগীরা দু’মাসের পেনশন এক বারে পাবেন।

• বয়স্ক-অশক্তদের খাবার, ওষুধ পৌঁছে দিতে দৈনিক ২৫০ টাকা ভাতায় ৫০০ জনকে নিয়োগ করা হবে।

• মুখ্যসচিব এবং পুলিশের দু’টি পৃথক টাস্ক ফোর্স।

• এক জানলা কন্ট্রোলরুম। টোল-ফ্রি নম্বর ১০৭০, ল্যান্ডলাইন ০৩৩-২২১৪৩৫২৬

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার জানিয়েছে, লকডাউন সত্ত্বেও খাদ্যদ্রব্যের বাজার খোলা থাকবে। কিন্তু অনেক জায়গায় আনাজ বিক্রিতে বাধাদানের অভিযোগ উঠছে। মোটবাহকদেরও বাজারে আনাজ নিয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। ফলে অনেক জায়গায় জিনিসের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। উৎকণ্ঠা তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

এমনিতেই সরকার বার বার জমায়েত না-করার আবেদন জানাচ্ছে। ছোঁয়া বাঁচাতে নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে লাইনে দাঁড়িয়ে শান্ত ভাবে কেনাকাটা করার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন। কিন্তু পণ্যের ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় কেনাকাটা করতে হুড়োহুড়ি পড়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি বদলাতেই পুলিশ-প্রশাসনকে মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিলেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

সাহায্যের ঠিকানা

• স্টেট ইমার্জেন্সি রিলিফ ফান্ডের অ্যাকাউন্ট নম্বর ৬২৮০০৫৫০১৩৩৯, আইএফএস কোড- ICIC0006280, এমআইসিআর- 700229010

• উপকরণ দিতে ফোন করুন স্বাস্থ্যকর্তা সঞ্জয় বনসলকে, ৯০৫১০২২০০০ নম্বরে।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেই  পুলিশকে অপ্রয়োজনে বলপ্রয়োগ না- করার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা।

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘‘অনেক সময় আটকে দেওয়ার খবর আমরা পাচ্ছি। জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে সেটা করা যাবে না, বলে দেওয়া হয়েছে। কেউ এই পরিষেবা না-পেলে স্থানীয় থানা বা লালবাজারে জানান। আনাজ বিক্রিও আটকানো হচ্ছে। এটা অজ্ঞতা। চাষি, আনাজ বিক্রেতা এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যের মোটবাহকদের আটকানো চলবে না। ওসি-দের সক্রিয় হতে হবে। নির্দেশ না-মানলে সংশ্লিষ্ট অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

খাদ্য সঙ্কট যেন না তৈরি হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য এ দিন প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সব রেশন দোকান খোলা রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। দরকারে এক মাসের চাল একবারে দিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। খাদ্য দফতর এ দিনই আশ্বাস দিয়েছে, অন্তত ছ’মাসের চাল মজুত আছে। মুদিখানার জিনিস ও ওষুধ নিয়েও সমস্যা হবে না জানিয়ে প্রশাসন সূত্রে বলা হয়েছে বেআইনি মজুত আটকাতে নজর রাখা হবে।

কোনও এলাকায় কেউ খাবার জোগাড় করতে সমস্যায় পড়লে পুলিশকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আবাসনগুলির কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা বা একা থাকা কেউ অসুবিধায় পড়লে, যেন সহযোগিতা করা হয়। ফুটপাতবাসীদের নির্দিষ্ট নাইট শেল্টারে পাঠিয়ে দিতে বলা হয়েছে পুলিশকে। তাঁদের খাওয়ার দায়িত্ব পুলিশ এবং পুরসভাগুলি সামলাবে। সেই কারণে কমিউনিটি কিচেনগুলি খোলা রাখা হচ্ছে। চিকিৎসক, চিকিৎসাকর্মীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী এবং অন্য কর্মীদের খাবারের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলিকে নিতে বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে প্রাথমিক ভাবে ৫০০ জন যুবককে দৈনিক ২৫০ টাকা পারিশ্রমিকে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শহরে একা, অশক্ত, বয়স্ক বা অন্য কারও প্রয়োজনে খাবার, ওষুধ পৌঁছে দেবেন তাঁরা।

সামাজিক পেনশন প্রকল্পগুলির আওতায় থাকা উপভোক্তাদের দু’মাসের পেনশন একবারে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।

মুখ্যমন্ত্রীর আর্জি, ‘‘রোগ ভারী করে দেখতে গিয়ে মানুষকে আলাদা করে দেওয়া যেন না হয়। চিকিৎসক, চিকিৎসাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিষেবা দিচ্ছেন, তাঁদের প্রতি যেন অমানবিক আচরণ করা না হয়।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন