উৎসবের মধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক পদে চাকরি-প্রার্থীদের মেধাতালিকা। কিন্তু সেই তালিকাতেও বিস্তর গোলমালের অভিযোগ! পরিস্থিতি এমনই যে, উৎসবের ছুটি শেষ হলে ওই মেধাতালিকা বাতিল করে নতুন তালিকা প্রকাশের দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বামেরা।

পুজোয় ঠাকুর দেখতে মানুষ যখন রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছেন, সেই সময়েই প্রকাশ করা হয়েছে উচ্চ প্রাথমিকের জন্য মেধাতালিকা। চাকরি-প্রার্থীদের অভিযোগ, সেই তালিকায় অনেকেরই টেট-এ প্রাপ্ত নম্বর বেড়ে গিয়েছে। কারও আবার কমেছে। চাকরি-প্রার্থীদের প্রশ্ন, টেট-এ প্রাপ্ত নম্বর চূড়ান্ত মেধাতালিকায় এসে বদলে যায় কী ভাবে? অসঙ্গতি খুঁজে পেলেও এখন পুজোর ছুটি চলায় স্কুল সার্ভিস কমিশনে গিয়ে অভিযোগ জানানোর সুযোগ গত কয়েক দিনে পাননি ভুক্তভোগীরা। শেষ পর্যন্ত কমিশন অভিযোগ নথিভুক্ত করার জন্য উদ্যোগী হলেও বাম সংগঠনের নেতারা জানাচ্ছেন, অসঙ্গতি পাওয়া যাচ্ছে ভূরি ভূরি। তাই গোটা তালিকা বাতিলের দাবি তুলেই আন্দোলনে যেতে তৈরি হচ্ছেন তাঁরা।

বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী টেট সংক্রান্ত বেনিয়মের কথা এর আগে অসংখ্য বার জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। সুজনবাবু রবিবার বলেন, ‘‘দীর্ঘ টালবাহানার পরে, আদালতের নির্দেশে উচ্চ প্রাথমিকের মেধাতালিকা প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তাতেও এত ভুল! অসংখ্য প্রার্থীর টেট-এর নম্বর বা অ্যাকাডেমিক নম্বর বেড়েছে, কারও কমেছে বলে অভিযোগ আসছে। এগুলো কি জেনেশুনে করা? সবই কি স্বজনপোষণ এবং দুর্নীতির ফল?’’ তাঁর আরও দাবি, ‘‘যোগ্যতা নয়, টাকার খেলাই এখন আসল! চাকরি-প্রার্থীদের জীবন নিয়ে ছেলেখেলা কোনও মতেই বরদাস্ত করা হবে না।’’

শিক্ষামন্ত্রী পার্থবাবু এ দিন এই বিষয়ে মন্তব্য করেননি। তবে কমিশন সূত্রে খবর, আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রার্থীরা যাতে অভিযোগ নথিভুক্ত করাতে পারেন, তার ব্যবস্থা হচ্ছে। যদিও চাকরি-প্রার্থীদের নিয়ে আন্দোলনের মঞ্চের নেতা ইন্দ্রজিৎ ঘোষের বক্তব্য, ‘‘অস্বাভাবিক ভাবে বহু প্রার্থীর টেট নম্বর বদলে গিয়েছে! কত আর অভিযোগ নথিভুক্ত করানো হবে? শেষমেশ এই গোলমেলে তালিকা বাতিল করে স্বচ্ছতা রেখে নতুন তালিকা প্রকাশের দাবিই সম্ভবত তুলতে হবে। পুজোর ছুটি কেটে গেলেই আমরা কর্মসূচি চূড়ান্ত করব।’’