জঙ্গি সংগঠন লশকর-এ-ত্যায়বার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র হাতে গ্রেফতার হওয়া সৈয়দ মহম্মদ ইদ্রিসকে দোষী সাব্যস্ত করল বিশেষ এনআইএ আদালত। বুধবার ইদ্রিসকে সাজা শুনিয়েছেন মুখ্য বিচারক সুকুমার রায়। ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানাও হয়েছে তার।
জঙ্গি-যোগের অভিযোগে ধৃত ইদ্রিস আদতে কর্নাটকের উত্তর কন্নড় জেলার বাসিন্দা। সূত্রের খবর, আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেছে সে। সব দিক খতিয়ে দেখার পর বুধবার তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা শুনিয়েছেন বিচারক। এনআইএ-র আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, ইদ্রিসের ৭০,০০০ টাকা জরিমানা হয়েছে।
তানিয়া পারভিন মামলার তদন্তে নেমে বছর ছয়েক আগে ইদ্রিসের খোঁজ পান তদন্তকারীরা। কলেজপড়ুয়া তানিয়া উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় বসে লশকরের হয়ে কাজ করত। নিজে কোনও দিন রাজ্যের বাইরে না গেলেও তার মাধ্যমেই অনেক যুবক পৌঁছে যেত ওয়াজিরিস্তানের জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরে। দেশ-বিদেশে তানিয়ার যোগাযোগ খতিয়ে দেখে রীতিমতো হকচকিয়ে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তো বটেই, পাকিস্তান, ইরান, ইরাক, সৌদি আরব— সর্বত্র বিস্তৃত ছিল তানিয়ার ‘নেটওয়ার্ক’। ২০২০ সালের মার্চে তানিয়াকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। পরে মামলার তদন্তভার যায় এনআইএ-র হাতে। তানিয়াকে টানা জেরার পর ২০২০ সালে কেরল থেকে ইদ্রিসকে গ্রেফতার করে এনআইএ। আলতাফ মহম্মদ রাঠৌর নামে আর এক অভিযুক্তকেও গ্রেফতার করা হয়। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।