যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী পুজোর সময় যেন অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা না-ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে কর্তৃপক্ষকে। বৃহস্পতিবার এমনই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তার জন্য প্রয়োজনে স্থানীয় থানার সাহায্য নিতে পারবেন কর্তৃপক্ষ। সরস্বতী পুজোয় প্রবেশ ও প্রস্থানে থাকবে বাড়তি নজরদারি।
অতীতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তা উল্লেখ করে রাজ্য সরকারের তরফে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়। কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি ছিল। আদালতের নির্দেশ, পুজোর সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে যাতে কোনও গোলমাল না-হয়, তা কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে। আগে থেকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করবে যাদবপুর থানার পুলিশ। ক্যাম্পাসের ভিতরে এবং বাইরে বাড়তি নজরদারি থাকবে সরস্বতী পুজোয়। কারা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করছেন, কারা বেরিয়ে যাচ্ছেন, প্রয়োজনে সেই নজরদারিতেও পুলিশি সহায়তা নেওয়া যাবে, জানিয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন:
রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছিল, অতীতের নজির মনে রেখে এ বারেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, ক্যাম্পাসে সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সেই কাজ সম্পূর্ণ হবে।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, সরস্বতী পুজোর সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই অগ্রাধিকার। তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বহিরাগতের আনাগোনা নিয়ে এর আগেও বার বার প্রশ্ন উঠেছে। হস্টেলে প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যু থেকে শুরু করে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ, বার বার নিরাপত্তাজনিত কারণে শিরোনামে উঠে এসেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। রাজ্য সরকার সরস্বতী পুজোয় তাই আর কোনও ঝুঁকি নিতে না-চেয়ে সরাসরি আদালতের হস্তক্ষেপের আবেদন জানায়। সেই মামলাতেই কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিল হাই কোর্ট।