E-Paper

অনুমতির জট দশক আগেও

২০১৫ সালের ৬-৮ নভেম্বর ‘অল ইন্ডিয়া সান্তালি রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর বার্ষিক সম্মেলন হয় বেতকুন্দ্রি ময়দানে।

কিংশুক গুপ্ত

শেষ আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ ১০:২৩
২০১৫ সালে ঝাড়খণ্ডের তৎকালীন রাজ্যপাল দ্রৌপদী মুর্মু ঝাড়গ্রামে সাঁওতালি সাহিত্য সম্মেলনে।

২০১৫ সালে ঝাড়খণ্ডের তৎকালীন রাজ্যপাল দ্রৌপদী মুর্মু ঝাড়গ্রামে সাঁওতালি সাহিত্য সম্মেলনে। পাশে তৃণমূল বিধায়ক দুলাল মুর্মু। ফাইল চিত্র

উত্তরবঙ্গে সাঁওতাল সংগঠনের অনুষ্ঠান ঘিরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর মন্তব্য নিয়ে যখন বিতর্ক বেধেছে, তখন জঙ্গলমহলে ফিরছে এক দশক আগের স্মৃতি। ২০১৫ সালের নভেম্বরে ঝাড়গ্রাম শহরের উপকণ্ঠে বেতকুন্দ্রি ময়দানে সাঁওতালি সাহিত্য সম্মেলনে এসেছিলেন তৎকালীন ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল দ্রৌপদী মুর্মু। সে সফরেও প্রশাসনিক অনুমতি ঘিরে জটিলতা বেধেছিল।

২০১৫ সালের ৬-৮ নভেম্বর ‘অল ইন্ডিয়া সান্তালি রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর বার্ষিক সম্মেলন হয় বেতকুন্দ্রি ময়দানে। ৭ নভেম্বর, রাঁচি থেকে হেলিকপ্টারে আসার কথা ছিল দ্রৌপদীর। সংগঠকদের দাবি, সম্মেলনস্থলের কাছাকাছি কোথাও হেলিকপ্টার নামানোর অনুমতি চেয়ে প্রশাসনে আবেদন করা হলেও মেলেনি। শেষে রাঁচি থেকে কলাইকুন্ডার বায়ুসেনা ঘাঁটিতে নামে তাঁর কপ্টার। পরে গাড়িতে বেতকুন্দ্রি ময়দানে পৌঁছন দ্রৌপদী।

ওই সংগঠনের বর্তমান সর্বভারতীয় সভাপতি লক্ষ্মণ কিস্কু ২০১৫ সালের সম্মেলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। লক্ষ্মণ বলেন, “সে সময় প্রশাসনের অসহযোগিতায় আমাদের খুবই খারাপ লেগেছিল। উত্তরবঙ্গের ঘটনাটিও অনভিপ্রেত।” প্রশাসন কেন তখন অনুমতি দেয়নি, তা জানা যায়নি। তবে সেই সময় জেলায় দায়িত্বে থাকা বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘উনি তখনও বিজেপি মনোনীত রাজ্যপাল ছিলেন। এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।’’

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বেতকুন্দ্রির অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী না এলেও ঝাড়গ্রামের তৎকালীন তৃণমূল সাংসদ উমা সরেন ও নয়াগ্রামের বিধায়ক দুলাল মুর্মু উপস্থিত ছিলেন। দুলাল বর্তমানে তৃণমূলের ঝাড়গ্রাম জেলা সভাপতি। তিনি বলেন, “কপ্টার নামায় সমস্যা হয়েছিল কি না, জানা নেই। তবে তখন উনি (দ্রৌপদী মুর্মু) সহজ-স্বাভাবিক ছিলেন। এখানকার মতো বিজেপির পুতুল ছিলেন না।”

সুর চড়াচ্ছে বিজেপি, বেতকুন্দ্রির প্রসঙ্গ টেনে। বিজেপির ঝাড়গ্রাম জেলা সহ-সভাপতি সনাতন সরেনের দাবি, “উনি রাজ্যপাল থাকাকালীন ঝাড়গ্রামে তাঁর কপ্টার নামার অনুমতি দেওয়া হয়নি। দেশের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে গোড়া থেকেই অসম্মান করছে তৃণমূল।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Jharkhand Droupadi Murmu

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy