E-Paper

অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ কোথায়, প্রশ্ন কোর্টেরই

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে আজ নির্বাচন কমিশনের হয়ে রাকেশ দ্বিবেদী অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের আমলে ২০০৩-এ নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের প্রসঙ্গ তুলে এনেছেন।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:১৬
সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্ট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বিজেপির নেতারা বলেন, এসআইআর-এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশে বসবাসকারী বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা হবে এবং বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের ভোটের ভরসায় তৃণমূল-সহ বিরোধীরা আর জিততে পারবে না। আর আজ সুপ্রিম কোর্ট বলল, নির্বাচন কমিশন যে এসআইআর-নির্দেশিকা জারি করেছে, তাতে স্পষ্ট ভাবে বেআইনি অনুপ্রবেশের কথা বলা নেই। প্রথমে বিহার, তারপরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ্যে এসআইআর-এর সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে মামলার শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এই মন্তব্য করেছেন।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে আজ নির্বাচন কমিশনের হয়ে রাকেশ দ্বিবেদী অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের আমলে ২০০৩-এ নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের প্রসঙ্গ তুলে এনেছেন। ওই সংশোধনীতেই প্রথম ‘বেআইনি অনুপ্রবেশকারী’-র সংজ্ঞা ও ভাবনা নিয়ে আসা হয়। যাঁদের জেলে ঢোকানো ও ফেরত পাঠানো যায়। জন্মের ভিত্তিতে ভারতের নাগরিকত্ব নাকচ করে দিয়ে এ-ও বলা হয়, বাবা-মায়ের এক জন বেআইনি অনুপ্রবেশকারী হলে সন্তান ভারতের নাগরিক হবে না। এই আইনি সংশোধনীতেই এনআরসি বা জাতীয় নাগরিক পঞ্জি তৈরির কথা বলা হয়।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী বলেন, ২০০২-এ শেষ এসআইআর-এর পরে নাগরিকত্ব আইনে সংশোধন হয়েছে। এখন জন্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব পেতে হলে বাবা-মা দু’জনকেই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। বিচারপতি বাগচী নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীকে বলেন, ‘‘এসআইআর যে বেআইনি অভিবাসনের জন্যও, তা আপনাদের এসআইআর নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা নেই।’’ নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী বলেন, মানুষের ঠিকানা বদল বা ‘মাইগ্রেশন’ দেশের মধ্যে হতে পারে। দেশের বাইরে থেকে হতে পারে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়া বেআইনি নয়। বেআইনি অভিবাসনের প্রশ্ন আসবে শুধুমাত্র বাইরের দেশ থেকে কেউ এলে।

এসআইআর-এর বিরুদ্ধে মামলাকারীদের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ তুলেছিলেন, এসআইআর-এর প্রক্রিয়া আইন মেনে হচ্ছে না। তাঁরা আমেরিকার আইন মেনে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মান্য করার উদাহরণ এবং আমেরিকার আদালতের রায় তুলে ধরেছিলেন। পাল্টা জবাবে আজ কমিশনের আইনজীবী ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই নিশানা করেছেন। দ্বিবেদী বলেন, ‘‘আমেরিকা কোন ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলে? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইচ্ছেমতো ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্টকে তুলে এনে তাঁর বিচার শুরু করে দিলেন। কোথায় আইনি প্রক্রিয়া মেনে কাজ হল? এখন তাঁর গ্রিনল্যান্ড চাই। মামলাকারীরা এখানে এ সব আমদানি করতে চাইছেন!’’

বিরোধী শিবির বা সুপ্রিম কোর্টে মামলাকারীদের অভিযোগ, এ দেশে আগেও এসআইআর হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ২০০২-এই শেষ এসআইআর হয়েছে। কিন্তু এ বার যে ভাবে এসআইআর হচ্ছে, আগে তা হয়নি। আজ সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশন যুক্তি দিয়েছে, নির্বাচন কমিশন যখন জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২১(৩) ধারা মেনে এসআইআর-এর নির্দেশিকা করে, তখন তা কোন প্রক্রিয়া মেনে হবে, সেটাও নির্বাচন কমিশন ঠিক করে। আইনে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই যে প্রতি বার এসআইআর একই রকম হতে হবে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, যদি এই যুক্তি মেনে নেওয়া হয়, তা হলে গোটা মামলা এখানেই শেষ হয়ে যায়।

দ্বিবেদী বলেন, দেশে ২০ বছর ধরে এসআইআর হয়নি। এখন প্রয়োজন পড়েছে। তাই হচ্ছে। এত দিন রাজনৈতিক দলগুলি ভোটার তালিকায় ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল। এখন এসআইআর-এর নির্ঘণ্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এসআইআর-এ প্রভাবিতদের কেউ আদালতে আসেননি। রাজনৈতিক দল, অসরকারি সংগঠনগুলো মামলা করেছে। বিহারে যে ৬৫ লক্ষ লোকের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা কেউ সুপ্রিম কোর্টে আসেননি। কমিশন স্বচ্ছ প্রক্রিয়া মেনে কাজ করছে। ঘরে ঘরে বিএলও-রা গিয়েছেন। পাঁচ কোটি এসএমএস পাঠানো হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Supreme Court of India Special Intensive Revision Illegal Immigrants West Bengal government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy