Advertisement
E-Paper

কেমন হবে পাঠ্যক্রম! কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে এ বার পরামর্শ দেবেন কর্পোরেট কর্তারা

কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রথাগত পাঠ্যক্রমের বদলে এ বার ‘কর্পোরেট’ ধাঁচে পাঠ্যক্রম তৈরি করতে চাইছেন কর্তৃপক্ষ। সে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ‘বোর্ড অফ স্টাডিজ়’-এ পরামর্শদাতা হিসেবে বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থার কর্তা ও বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে উপাচার্যের কাছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬ ১৫:১১

— প্রতীকী চিত্র।

গত দু’দশকে প্রথাগত পড়াশোনার ক্ষেত্রে কমে গিয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগ। বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল বা গণিত, রসায়ন, পদার্থবিদ্যায় স্নাতক-স্নাতকোত্তরদের কাজে সুযোগ ক্রমশ কমে আসছে। বাড়ছে কর্মমুখী পঠনপাঠনের কদর। পড়ুয়ারা সেই সব বিষয় নিয়ে পড়তে চাইছেন দ্বাদশের পর। অভিযোগ উঠছে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি আকর্ষণ হারাচ্ছে।

সেই প্রবণতায় রাশ টানতে এ বার উদ্যোগী হচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। জানা গিয়েছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রথাগত পাঠ্যক্রমের বদলে এ বার ‘কর্পোরেট’ ধাঁচে পাঠ্যক্রম তৈরি করতে চাইছেন কর্তৃপক্ষ। সে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ‘বোর্ড অফ স্টাডিজ়’-এ পরামর্শদাতা হিসেবে বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থার কর্তা ও বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে উপাচার্যের কাছে। বোর্ড অফ স্টাডিজ়ের সদস্যেরাই এই প্রস্তাব করেছেন। যদিও বিষয়টি সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন এক কর্তা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, পেশামুখী পাঠ্যক্রম তৈরি করার বিষয়ে গত কয়েক মাস আগেই আলোচনা হয়েছিল। স্নাতক বা স্নাতকোত্তর শেষ করার পরে বিভিন্ন কলেজের পড়ুয়ারা যেন নিজেদের পছন্দের পেশা বেছে নিতে পারেন, সে চেষ্টা চলছিল। সম্প্রতি এই বিষয়ে দফায় দফায় আলোচনা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানান, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থা যেমন ধরনের কর্মীদের নিয়োগ করতে চায়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক তেমন ভাবেই পড়ুয়াদের তৈরি করতে চায়। এ ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রম সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃপক্ষ মনে করছেন, পাঠ্যক্রম যদি কর্পোরেট ধাঁচে হয়, তা হলে ভবিষ্যতে কর্পোরেট চাকরি পেতেও সুবিধা হবে পড়ুয়াদের।

সাম্প্রতিক প্রবণতা বলছে, প্রতিযোগিতার বাজারে বেশির ভাগ সংস্থাই নবাগত চাকরিপ্রার্থীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে বহাল করতে চাইছে না। তাতে সময় এবং অর্থ নষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। দক্ষ বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত প্রার্থীকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে তারা। তাই কর্পোরেট সংস্থাগুলি ভবিষ্যৎ কর্মীদের কাছে ঠিক কোন কোন যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রত্যাশা করছেন, তা জেনে নিয়েই পাঠ্যক্রম তৈরি করতে চাইছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

তবে শুধু চাকরি নয়, পড়ুয়াদের পেশার উপযুক্ত করে তোলাও আধুনিক পঠনপাঠনের উদ্দেশ্য হতে চলেছে। আগামী দিনে পড়ুয়ারা নিজেরাই যেন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেন, সে দিকে নজর রেখে ‘ইনকিউবেশন সেন্টার’ তৈরি করার উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধীনস্থ কলেজগুলিতে এই ধরনের কেন্দ্র তৈরি করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন কলেজের পরিকাঠামো ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পরিদর্শনও করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা বলেন, “বিভিন্ন পেশা বা ব্যবসার কাজে যেন কলেজগুলি পড়ুয়াদের সাহায্য করতে পারে সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। একই ভাবে পাশ করার পরেই যেন তারা দক্ষ তৈরি হয় সেটাই আমাদের লক্ষ্য। ঐতিহ্যের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান অক্ষুণ্ণ রাখতে পড়ুয়াদের পেশাগত ভাবে দক্ষ করে তোলা আমাদের কর্তব্য।”

syllabus Calcutta University
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy