আবার বিস্ফোরক রাজ্যপাল। কার্নিভালে তাঁকে অপমান করা হয়েছে— মঙ্গলবার এমনই অভিযোগ করলেন জগদীপ ধনখড়। কারও নাম করে আক্রমণ করেননি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে ‘জরুরি অবস্থা’র মতো পরিস্থিতি চলছে বলে এ দিন তিনি মন্তব্য করেছেন। চার ঘণ্টারও বেশি কার্নিভালে তিনি ছিলেন, কিন্তু তাঁর ছবি দেখাতে দেওয়া হয়নি টেলিভিশনে— এ দিন এমনই বলেছেন রাজ্যপাল। গোটা পশ্চিমবঙ্গকে অপমান করা হয়েছে বলেও মনে করছেন তিনি।

এ বছর ১১ অক্টোবর রেড রোডে আয়োজিত হয়েছিল বিসর্জনের কার্নিভাল। রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ও আমন্ত্রিত ছিলেন সেখানে। মাসখানেক ধরেই একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসছিল। কিন্তু তার জন্য রাজ্যপালকে আমন্ত্রণ জানাতে পিছপা হয়নি রাজ্য সরকার। আমন্ত্রণে সাড়া দিতেও কার্পণ্য করেননি রাজ্যপাল।

কার্নিভাল নির্বিঘ্নেই মিটেছিল। সে দিন রাজ্যপালের থেকে কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া মেলেনি। কিন্তু দিন চারেক পরে বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া দিলেন রাজ্যপাল। তাঁকে অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন। রাজ্যপাল এ দিন বলেন, ‘‘আমি চার ঘণ্টারও বেশি সেখানে ছিলাম। কিন্তু আমাকে দেখাতেই দেওয়া হয়নি।’’ নাম না করলেও, তাঁর অভিযোগের আঙুল যে রাজ্য সরকারের দিকে, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। টেলিভিশন চ্যানেলগুলির ক্যামেরা কার্নিভাল চত্বরের ভিতরে সে দিন ছিল না। মিডিয়াকে কার্নিভালের লাইভ ফুটেজ দেওয়া হচ্ছিল রাজ্য সরকারের তরফ থেকেই। সুতরাং তাঁর ছবি সচেতন ভাবেই না দেখানোর যে অভিযোগ রাজ্যপাল তুলছেন, তাতে আসলে যে রাজ্য সরকারকেই কাঠগড়ায় তোলা হয়, সে কথা বুঝতে কোনও পক্ষেরই অসুবিধা হয়নি।

 

 

আরও পড়ুন: জিয়াগঞ্জ কাণ্ডের কিনারা, ২৪ হাজার টাকার জন্য খুন, আততায়ী গ্রেফতার সাগরদিঘি থেকে

রাজ্যপাল এ দিন জানিয়েছেন যে, তিনি অত্যন্ত অপমানিত বোধ করেছেন। নিমন্ত্রণ করে ডেকে নিয়ে গিয়ে যে ভাবে ‘অপমান’ করা হয়েছে তাঁকে, তাতে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত বলে রাজ্যপাল এ দিন জানান। তাঁকে যে ভাবে ‘ব্ল্যাক আউট’ করা হয়েছে, তা ‘জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি’ বলে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় এ দিন মন্তব্য করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতিকেও অপমান করা হয়েছে বলে রাজ্যপাল এ দিন মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ হল সংস্কৃতির পীঠস্থান। সেখানে এক জন সাংবিধানিক পদাধিকারীকে যে ভাবে অপমান করা হল, তাতে পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতিকেই অপমান করা হল। এটা শুধু আমার অপমান নয়, এটা পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেকটা মানুষের অপমান।’’ তাঁর পর্যায়ের এক জন পদাধিকারীর সঙ্গে যে ‘ব্যবহার’ করা হয়েছে, সে রকম কোথাও কখনও হয়নি— দাবি ধনখড়ের। তাঁর কাছে পুরো পরিস্থিতিটা অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত ছিল এবং ধাক্কা সামলাতে তাঁর বেশ সময় লেগেছে— এ দিন এমনও বলেছেন রাজ্যপাল।

রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। নিজস্ব চিত্র

আরও পড়ুন: গরিবের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়লে নিস্তার নেই ভারতীয় অর্থনীতির, বলছেন নোবেলজয়ী

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও রাজ্যপালের এই অভিযোগের কোনও জবাব দেননি। রাজ্যপালের বিভিন্ন মন্তব্যের জবাব এত দিন যাঁকে দিয়ে দেওয়ানো হচ্ছিল, সেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও কোনও মন্তব্য এখনও করেননি। তবে আর এক মন্ত্রী তাপস রায় মুখ খুলেছেন। রাজ্যপালের মন্তব্যকে তিনি একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত বলে আখ্যা দিয়েছেন। রাজ্যপালের আচরণ নিয়ে বিস্ময়ও প্রকাশ করে তাপস রায়ের মন্তব্য, ‘‘উনি এক জন প্রচার সর্বস্ব রাজ্যপাল। প্রচারে থাকার জন্যই এই সব কথা বলছেন।’’