• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

‘কৃষক বিরোধী’ মমতা: চি‌ঠি লিখে, টুইট করে তোপ ধনখড়ের

jaGDEEP dhankar
কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দূরে থাকা নিয়ে আগেও একাধিক বার ধনখড় মুখ খুলেছেন। ফাইল চিত্র।

কৃষক ইস্যুতে পাল্টা সঙ্ঘাতে যাওয়ার ইঙ্গিত রাজ্যপালের তরফ থেকে। সংসদে সদ্য পাশ হয়েছে কৃষি বিল। সেই বিলকে ‘কৃষক বিরোধী’ আখ্যা দিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে স্বর তুঙ্গে তুলেছে তৃণমূল। ঠিক সেই মুহূর্তেই আসরে নামলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ও। দেশের সবক’টি রাজ্যে কৃষকরা ‘পিএমকিসান’ (প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি) প্রকল্পের সুবিধা পেলেও পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদেরকে সেই টাকা পেতে দিচ্ছে না রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে এই অভিযোগ তুললেন ধনখড়। কেন্দ্রের ঘোষিত করোনা প্যাকেজের আওতায় যে টাকা প্রাপ্য ছিল, তা-ও পেতে দেওয়া হয়নি বাংলার চাষিদের, চিঠিতে লিখলেন রাজ্যপাল।

পিএমকিসান-সহ নানা কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দূরে থাকা নিয়ে আগেও একাধিক বার ধনখড় মুখ খুলেছেন। এ সব বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর চিঠিও এই প্রথম নয়। কিন্তু এ বারের চিঠির সময়টা তাৎপর্যপূর্ণ। যে সময়ে মোদী সরকারকে ‘কৃষক বিরোধী’ আখ্যা দিয়ে পথ নামছে তৃণমূল, সেই সময়েই কৃষক ইস্যুতে মমতাকে চিঠি ধনখড়ের। সেই চিঠিতে মমতার সরকারকেই ‘কৃষক বিরোধী’ বলে দেগে দেওয়া।

মমতার উদ্দেশে যে দু’পাতার চিঠি ধনখড় লিখেছেন, সেটিকে টুইটারেও তুলে ধরেছেন তিনি। লম্বা টুইটে একটি ভিডিয়োও প্রকাশ করেছেন। সে ভিডিয়োয় প্রায় ভাষণ দেওয়ার ঢঙে মমতার সরকারকে আক্রমণ করতে দেখা গিয়েছে ধনখড়কে। চিঠিতে যে কথাগুলো লিখেছেন, ভিডিয়োতেও মূলত সেগুলিই বলতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। টুইটে মুখ্যমন্ত্রীকে ট্যাগ করে রাজ্যপালের প্রশ্ন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের ৭০ লক্ষ চাষি ৮৪০০ কোটি টাকার সুবিধা পেলেন না কেন? পিএমকিসান সম্মান নিধি প্রকল্পে কেন যোগ দিলেন না?’’
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যের কৃষকদের পেতে দেওয়া হলে এত দিনে প্রত্যেক কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১২ হাজার টাকা করে জমা পড়ে যেত বলে রাজ্যপাল লিখেছেন। করোনাকালীন সহায়তা হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকার যে সাড়ে ৩ লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তার আওতায় প্রাপ্য ৩০ হাজার কোটি টাকাও পশ্চিমবঙ্গ পায়নি মমতার ‘অকর্মণ্যতার’ জন্য— এই রকম কঠোর শব্দই টুইটে লিখেছেন ধনখড়।

এই সময়ে মমতাকে এই চিঠি লিখে ধনখড় আসলে বিজেপির হাতে অস্ত্র তুলে দিতে চেয়েছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেরই দাবি। মোদী সরকারের বিরুদ্ধে যখন কৃষকের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়ার অভিযোগ তুলছে তৃণমূল, তখনই মমতার সরকারকে ‘কৃষক বিরোধী’ আখ্যা দিচ্ছেন রাজ্যপাল। এটা সমাপতন হতে পারে না বলে বিশ্লেষকদের মত। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই রাজ্যপালের এই চিঠি ও টুইট বলে পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন।

আরও পড়ুন: সব বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নামতে হবে: মমতা

আরও পড়ুন: জেএমবি-র ছাতা বদল, রাজ্যে এল আল কায়দা

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন