গ্যাসের অভাবে চাল ফোটেনি। মিড-ডে মিলে শুধুই ডিম সিদ্ধ পেলেন ছাত্রীরা। স্থান, হুগলি গার্লস হাই স্কুল। নিম্ন এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রীদের মুখে একবেলা ভাত তুলে দিতে না পারার আক্ষেপ প্রধানশিক্ষিকার গলাতেও। কিন্তু জানালেন, তিনি নিরুপায়। গ্যাস ব্যতীত বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা নেই স্কুলে।
রাজ্য সমগ্র শিক্ষা মিশনের নির্দেশ অনুযায়ী চলতি মাসে পড়ুয়াদের অতিরিক্ত ডিম দেওয়ার কথা। কিন্তু সে জন্য গ্যাসের অপচয় না করে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। এখন গ্যাসের সঙ্কটের মধ্যে একটি মাত্র পদ রান্না করে স্কুলের মিড-ডে মিল সামাল দেওয়া গেলেও এই সমস্যা দীর্ঘ দিন চললে কী হবে, তা নিয়ে চিন্তায় বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ। হুগলি গার্লস হাই স্কুলে সিলিন্ডারের গ্যাস ফুরিয়েছে দিন তিনেক। তার পর আর সিলিন্ডারের জোগাড় করা যায়নি। শিক্ষিকাদের বক্তব্য, দু’-এক দিন ‘ম্যানেজ’ করে মিড-ডে মিল দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শনিবার সেটাও সম্ভব হয়নি। তাই ছাত্রীদের হাতে হাতে একটি করে ডিম সিদ্ধ তুলে দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট স্কুলের ছাত্রীসংখ্যা ৯২৩ জন। তার মধ্যে ৬০০ ছাত্রীর জন্য মিড-ডে মিলের রান্না হয়। শিক্ষিকারা জানাচ্ছেন, ছাত্রীদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত পরিবারের। দুপুরে দু’মুঠো খাবারের জন্য অনেকেই মিড-ডে মিলে ‘নির্ভরশীল’। কিন্তু জ্বালানির অভাবে সেই খাবার তৈরি করাই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার কেবল ডিম সিদ্ধ দেওয়া হয়েছে ছাত্রীদের। সোমবার থেকে হয়তো সেটাও দিতে পারবেন না বলে আশঙ্কাপ্রকাশ করেন প্রধানশিক্ষিকা। তিনি জানান, গ্যাস সরবরাহকারী ডিলারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি এক দিন অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। কিন্তু তার পরে দু’দিন গড়িয়েছে। গ্যাসের বন্দোবস্ত হয়নি। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলে বহু দুঃস্থ এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েরা পড়াশোনা করে। তারা মিড-ডে মিলের উপর অনেকটাই নির্ভর করে। আমরাও যথেষ্ট ভাল মানের খাবার রান্না করে তাদের দেওয়ার চেষ্টা করি। সপ্তাহে সপ্তাহে পদ বদল করি। কিন্তু জ্বালানির অভাবে এখন খাবারটাই দিতে পারছি না।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আজ এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, শুধুমাত্র ডিম সিদ্ধ করা গিয়েছে। মেয়েদের হাতে শুধু ডিম তুলে দিতে গিয়ে ভীষণ খারাপ লেগেছে। আশা করব, দু’-এক দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু না-হলে অন্য উপায় দেখতে হবে।’’
আরও পড়ুন:
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব রাজ্যের হেঁশেলে সরাসরি পড়েছে। গত কয়েক দিন ধরে গ্যাস সরবরাহকারী অফিসগুলোর সামনে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। শনিবারও তার অন্যথা হয়নি। যাঁরা হোয়াটস্অ্যাপের মাধ্যমে গ্যাস বুকিং করতে পারছেন না, তাঁরা গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে গিয়ে ‘ম্যানুয়ালি’ গ্যাস বুকিং করছেন। বিভিন্ন জেলাতেই দেখা গিয়েছে, শিক্ষক-শিক্ষিকারা গ্যাসের ডিলারের কাছে গিয়ে কথা বলছেন। স্কুলে যাতে মিড-ডে মিল চালু রাখা যায়, সেটাই তাঁদের লক্ষ্য।