বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাস বয়কট করলেন সরকারি প্যানেলে থাকা আইনজীবীরা। সোমবার এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি টিবি নায়ার রাধাকৃষ্ণণকে চিঠি দিয়ে মামলার সওয়াল-জবাবে অংশ নেবেন না বলে জানান। এর পরই বনগাঁ, হালিশহর, গঙ্গারামপুর-সহ বিভিন্ন পুরসভা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি নিয়ে জটিলতাও তৈরি হয়।

এ দিন দুপুর তিনটে নাগাদ গঙ্গারামপুর পুরসভার অনাস্থা ভোট সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। মঙ্গলবার সকাল ১১টার সময় অনাস্থা নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন ওই পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান। তারই প্রতিবাদ জানিয়ে গঙ্গারামপুর পুরসভার কয়েক জন কাউন্সিলরের পক্ষে তাঁদের আইনজীবী হাইকোর্টে মামলা করেন। তাঁদের দাবি, ভাইস চেয়ারম্যান এই বৈঠক ডাকতে পারেন না। বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসে এই মামলারই শুনানি রয়েছে। সরকারি আইনজীবীরা তাঁর এজলাস বয়কট করলেও, মামলাটি শোনেন বিচারপতি। এবং তিনি ওই দিনের গঙ্গাঁরামপুরের বৈঠক বাতিল ঘোষণা করে দেন। তার পরিবর্তে আগামী ৫ অগস্ট বৈঠকের নির্দেশ দেন। তার সঙ্গে ১৮ জন কাউন্সিলরকে পুলিশি নিরাপত্তা দিতেও বলেন তিনি।

শুধু গঙ্গারামপুর পুরসভার অনাস্থাই নয়, বনগাঁ পুরসভার মামলাও চলছে বিচারপিতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসে। গত ১৯ জুলাই বনগাঁ পুরসভার অনাস্থা মামলাটিও তাঁর এজলাসে ওঠে। বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যকে তীব্র ভৎর্সনা করে বিচারপতি চট্টোপাধ্যায় বলেন, “সংখ্যাগরিষ্ঠতা সঙ্গে নেই, তবুও চেয়ার আঁকড়ে আছেন? আপনি এত নির্লজ্জ কেন?” এ দিন বনগাঁ মামলারও শুনানি ছিল। সেই মামলারও শুনানি হয়। সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের সরকারি আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “প্রধান বিচারপতির পদকে সম্মান করুন। প্রধান বিচারপতিই ঠিক করে দেন কোন মামলা কে শুনবেন? সরকারী আইনজীবী তা ঠিক করে দেন না।

বিচারপতি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসেই বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা সংক্রান্ত মামলা শুনানিও চলছিল। এ রকম অনেক মামলাতেই তাঁর পর্যবেক্ষণ নিয়ে পুরসভা এবং সরকারি পদে থাকা সাংবিধানিক পদাধিকারীরা অস্বস্তিতে পড়েন। এর প্রেক্ষিতেই সরকারি  আইনজীবীদের এই সিদ্ধান্ত কি না, তা নিয়ে আইনজীবীদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন।

আরও পড়ুন: গাঁধী পরিবারের বাইরের কেউ সভাপতি হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেস ভেঙে টুকরো হয়ে যাবে, মন্তব্য নটবরের

আরও পড়ুন: হোঁচট সামলে আজই চাঁদে পাড়ি​

যদিও সরকারি প্যানেলে থাকা আইনজীবীরা কেন এ দিন সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের ১১ নম্বর এজলাস বয়কট করলেন, প্রধান বিচরপতিকে দেওয়া চিঠিতে তার কারণ উল্লেখ করা হয়নি বলে হাইকোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও আইনজীবী মহলের একটা অংশের মতে, বিচাপতি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসে সওয়াল-জবাবে আইজীবীরা অংশগ্রহণ না করলেও তিনি এ দিনের মামলাগুলি শোনেন। এবং রায় দানও করতে পারেন। তবে, বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাস বয়কটকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে হাইকোর্ট চত্বরে।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।