সরকারি কর্মীদের দাবিদাওয়া নিয়ে ফের উষ্মা প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সমান বেতন চাইলে কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি করুন— আন্দোলনকারী সরকারি কর্মী ও শিক্ষকদের উদ্দেশে বার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে সরকারি কর্মীদের মধ্যে। সরকারি কর্মীদের দাবিদাওয়া না বুঝে মুখ্যমন্ত্রী ‘আনতাবড়ি’ কথা বলছেন, মন্তব্য বিধানসভার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীর।

সরকারি কর্মীদের আন্দোলনকে নাম করে আক্রমণ করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু রবিবার শহিদ স্মরণের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘হঠাৎ দেখছি, কাজ নেই-কর্ম নেই বসে পড়ছে রাস্তায়। সবাইকে টাকা দাও, আর কেন্দ্রীয় সরকারের সমান মাইনে দাও।’’ এটুকু বলেই সুর আরও চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের সমান মাইনে চান, তাঁরা কেন্দ্রে চলে যান, দিল্লির চাকরি করুন। আমার কোনও আপত্তি নেই, আমি খুশি হব।’’

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি যে হারে হয় বা তাঁদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বছরে যত বার এবং যে হারে ঘোষিত হয়, সেই হার রাজ্য সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত বলে বেশ কয়েকটি কর্মী সংগঠন দাবি করছে। তা নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন একে একে পথেও নামছে। সংগঠনগুলি বলছে, কেন্দ্রীয় কর্মীদের সমান বেতন চাওয়া হয়নি, কেন্দ্র যে হারে বেতন এবং ডিএ বাড়ায়, সেই হারে রাজ্যের বেতনও বাড়ুক।

কিন্তু কর্মী সংগঠনগুলির দাবিদাওয়া নিয়ে তিনি কতটা বিরক্ত, তা এ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ বুঝিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘রাজ্যে করলে রাজ্যের মতো, কেন্দ্রে করলে কেন্দ্রের মতো। কেন্দ্রের একটা সিস্টেম আছে, রাজ্যের একটা সিস্টেম আছে।’’

আরও পড়ুন: ‘কাটমানি’ সামলাতে ‘ব্ল্যাকমানি দাওয়াই, দাবি ব্যালট ফেরানোর, একুশের মঞ্চে তীব্র আক্রমণাত্মক মমতা

আরও পড়ুন: ‘অনেকেই এখন হাওয়া মাপছে, তাই ওদের ভিড়টা এ বার ফিকে’ বলছে মিছিলের মুখ

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কটাক্ষ করেছেন বিধানসভার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। রাজ্য সরকারি কর্মীরা বা শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সমান বেতন চাননি, অন্যান্য রাজ্যের সরকারি কর্মীরা যা পাচ্ছেন, সে রকম বেতন কাঠামো পশ্চিমবঙ্গেও প্রযোজ্য হোক— এই দাবিই সরকারি কর্মীরা তুলেছেন বলে সুজন চক্রবর্তী মন্তব্য করেন। মুখ্যমন্ত্রী কিছুই না বুঝে মন্তব্য করছেন, কটাক্ষ সুজনের।