আতান্তরে বাংলার বিজেপি, ২ আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য হাতে মাত্র ১ দিন
মঙ্গলবার রাতে দিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দীর্ঘ বৈঠক হয় বিজেপির নির্বাচন কমিটির।
bjp

এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি বিজেপি নেতৃত্ব। —ফাইল চিত্র।

প্রার্থী ঘোষণায় বিলম্বের জেরে জোর আতান্তরে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি। প্রথম দফায় বাংলার যে দুই আসনে ভোটগ্রহণ হবে, সেই আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার কেন্দ্রের প্রার্থীরা মাত্র এক দিন সময় পাবেন মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য। আজ অর্থাৎ বুধবার যদি ঘোষিত হত প্রার্থীদের নাম, তা হলে মনোনয়ন জমার কাজ কিছুটা অন্তত এগিয়ে রাখা যেত। সে কথা মাথায় রেখে এ দিন বিকেলের আগেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপরে চাপ বাড়িয়েছিলেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হল না।

মঙ্গলবার রাতে দিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দীর্ঘ বৈঠক হয় বিজেপির নির্বাচন কমিটির। কিন্তু বাংলার নেতাদের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠকে বসার সুযোগ কেন্দ্রীয় নেতারা পাননি। তাই বাংলার প্রার্থীতালিকার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। বুধবার দুপুরে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বৈঠকে বসেন দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, কৈলাস বিজয়বর্গীয়দের সঙ্গে। বিজেপি সূত্রের খবর, প্রথম তিনটি দফায় বাংলার যে ১০টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে, এ দিন সেই আসনগুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রত্যেকটি আসনের জন্য ৪ জন করে প্রার্থীর নামের তালিকা তৈরি করে সর্বভারতীয় সভাপতির সামনে পেশ করেছে বঙ্গ বিজেপি। কেন ৪ জন? বিজেপি সূত্রের খবর, রাজ্য বিজেপির শীর্ষনেতাদের মধ্যে মতানৈক্য ছিল প্রার্থী বাছাই নিয়ে। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বা সঙ্ঘের পছন্দের প্রার্থীকে কোনও কোনও ক্ষেত্রে মেনে নিতে চাননি কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় বা রাজ্য বিজেপির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক মুকুল রায়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে আবার রাজ্য নেতৃত্বের পছন্দের সঙ্গে মেলেনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মতামত। তাই চূড়ান্ত বৈঠকের আগে প্রত্যেক আসনের জন্য ৪ জন করে প্রার্থীর নামের তালিকা তৈরি করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন: চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের দ্বিতীয় সম্মেলনও বয়কট? ইঙ্গিত নয়াদিল্লির​

বুধবার অমিত শাহের সঙ্গে যে বৈঠক হয়েছে দিলীপ-মুকুল-কৈলাসদের, সেখানেও খুব মসৃণ ভাবে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা যায়নি বলেই খবর। ৪ জনের মধ্যে কাকে বেছে নেওয়া হবে, অধিকাংশ আসনের ক্ষেত্রেই তা নিয়ে নেতাদের মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে বিজেপির তরফে কেউই তা নিয়ে মুখ খোলেননি। কবে বা ঠিক কখন প্রার্থীদের নাম ঘোষিত হবে, সে বিষয়েও কেউ স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।

প্রথম দফায় ভোট হবে আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার আসনে। তার পরের দফায় দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং রায়গঞ্জে। আর তৃতীয় দফায় ভোট হবে বালুরঘাট, উত্তর মালদহ, দক্ষিণ মালদহ, জঙ্গিপুর ও মুর্শিদাবাদে। যত দ্রুত সম্ভব এই ১০ আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করার জন্য বিজেপি নেতৃত্ব তৎপর হয়েছেন বলে খবর।

আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভোটগ্রহণ হবে প্রথম দফায়। ওই দুই আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ মার্চ অর্থাৎ সোমবার। কিন্তু সোমবারের আগে যে চারটে দিন পড়ে রয়েছে, তার মধ্যে ২১ ও ২২ মার্চ দোল এবং হোলির ছুটি। ২৩ ও ২৪ মার্চ সপ্তাহান্তিক ছুটি অফিস-কাছারিতে। অর্থাৎ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য শুধু সোমবারটাই থাকছে বিজেপির হাতে। ওই দিনেই আদালতে গিয়ে হলফনামা জমা করতে হবে। তার পরে জেলাশাসকের দফতরে গিয়ে জমা দিতে হবে মনোনয়নপত্র। দুটো কাজই সময় সাপেক্ষ। এক দিনে ওই দুটো কাজ করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয় রাজ্য বিজেপিতে। তাই বুধবার বিকেলের আগেই আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের প্রার্থীদের নাম অন্তত ঘোষণা করে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপরে চাপ বাড়ায় রাজ্য বিজেপি। কিন্তু বুধবার অফিস-কাছারি বন্ধ হওয়ার আগে প্রার্থীদের নামে চূড়ান্ত সিলমোহর দিতে পারেননি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

আরও পড়ুন: লন্ডনে গ্রেফতার ঋণখেলাপি পলাতক নীরব মোদী, পেশ করা হল আদালতে​

বিজেপি সূত্রের খবর, অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকেই বেছে নেওয়া হয়েছে প্রার্থী। কিন্তু সংসদীয় বোর্ডের সিলমোহর না পাওয়া পর্যন্ত প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত নয়। তাই অমিত শাহের সঙ্গে বাংলার নেতাদের বৈঠক শেষ হওয়ার পরেই সংসদীয় বোর্ডের সামনে নামের তালিকা পেশ হওয়ার কথা। সেখানে অনুমোদিত হওয়ার পরে ঘোষিত হবে প্রার্থীদের নাম।

বুধবার রাতে বাংলার ১০ আসনের জন্য প্রার্থীতালিকা বিজেপি ঘোষণা করতে পারে বলে খবর। তবে তাতে পরিস্থিতির হেরফের খুব একটা হবে না। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখেই সব কাজ সারতে হবে বিজেপি-কে।

(বাংলার রাজনীতি, বাংলার শিক্ষা, বাংলার অর্থনীতি, বাংলার সংস্কৃতি, বাংলার স্বাস্থ্য, বাংলার আবহাওয়া -পশ্চিমবঙ্গের সব টাটকা খবর আমাদের রাজ্য বিভাগে।)

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত