ঘরছাড়া তৃণমূল কর্মীরা, অভিযোগ তুলে নৈহাটি পুরসভার সামনে ধর্নায় বসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা
কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষদের প্রশ্ন, কার বিরুদ্ধে ধর্না, প্রতিবাদ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ যদি সত্যিও হয়, তা হলেও সেই ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর দায়িত্ব তাঁর প্রশাসনের।
Mamata Banerjee

বৃহস্পতিবার নৈহাটি পুরসভার সামনে ধর্নায় বসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র

তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক প্রধান তো বটেই, পাশাপাশি তিনি রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী। অথচ সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের ধর্নায়! আগামিকাল বৃহস্পতিবার নৈহাটি পুরসভার সামনে অবস্থানে বসছেন মমতা। নৈহাটি পুর এলাকায় বহু তৃণমূল কর্মী ঘরছাড়া— এই অভিযোগ তুলে এবং তার প্রতিবাদেই মমতার ধর্না। যদিও তৃণমূলের তরফে দলনেত্রীর এই আন্দোলনকে বলা হচ্ছে ‘সত্যাগ্রহ’।

বুধবারই নৈহাটি পুরসভা হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। ৩১ আসনের পুরসভায় ২৯ জন কাউন্সিলরই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ফলে এই পুরসভায় ক্ষমতার হাতবদল এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। এই পরিস্থিতিতেই ধর্নায় বসার ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সূত্রে খবর, নৈহাটি পুরসভার সামনে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ধর্নায় বসবেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূলের অভিযোগ, ওই পুর এলাকায় বিজেপির সন্ত্রাসে বহু দলীয় কর্মী ঘরছাড়া। তাঁদের ঘরে ফেরানোর দাবিতে ধর্নায় বসছেন তিনি। সঙ্গে থাকবেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম-সহ দলের অন্যান্য নেতা-নেত্রীরাও।

কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষদের প্রশ্ন, কার বিরুদ্ধে ধর্না, প্রতিবাদ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ যদি সত্যিও হয়, তা হলেও সেই ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর দায়িত্ব তাঁর প্রশাসনের। না পারলে সেই ব্যর্থতার দায়ও পরোক্ষে মুখ্যমন্ত্রীর কাঁধেই বর্তায়। একই সঙ্গে এক জন মুখ্যমন্ত্রী কোনও জেলায় গিয়ে একটি পুরসভার সামনে ধর্নায় বসছেন, এমন ঘটনাও কার্যত নজিরবিহীন।

আরও পডু়ন: অনুব্রতর গড়ে থাবা! বিজেপিতে যোগ দিলেন লাভপুরের তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলাম

আরও পড়ুন: ‘শহিদ’ পরিবারদের আমন্ত্রণের বিরোধিতায় সিদ্ধান্ত বদল, মোদীর শপথে যাচ্ছেন না মমতা

বন্‌ধ, ধর্না, অবস্থান, অনশন-সহ দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই বাংলায় ৩৪ বছরের বাম-শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও তাঁর সেই লড়াকু মানসিকতার খুব একটা বদল হয়নি। কেন্দ্রের কাছে দাবিদাওয়া আদায় থেকে অন্য যে কোনও ইস্যুতে তাঁর প্রতিবাদী ভাবমূর্তি বার বার ফুটে উঠেছে। কয়েক মাস আগে কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাসভবনে সিবিআই-হানার প্রতিবাদে ধর্মতলায় ‘সত্যাগ্রহে’ বসেছিলেন মমতা। একই রকম ভাবে এ বার নৈহাটিতেও ‘সত্যাগ্রহে’ তিনিই।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত