কংগ্রেস এবং বামেরা মুখ খুলেছিল আগেই। চিদম্বরমের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দেশে আর গণতন্ত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করে বিজেপিকে তো আক্রমণ করলেনই, ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বললেন দেশের বিচারব্যবস্থা সম্পর্কেও।

গত কয়েক দিন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জেলা সফরে। আজ পূর্ব মেদিনীপুর থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন। প্রথমে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি সংক্রান্ত একটি বিষয়ে কথা বলছিলেন তিনি। তার পরেই ওঠে চিদম্বরমের গ্রেফতারি প্রসঙ্গ। সতর্ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাশ থেকে সরে যেতে বলেন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে।

নিজের পাশে পুলিশ-প্রশাসনের কর্তাদের দাঁড় করিয়ে রেখে রাজনৈতিক মন্তব্য যে করবেন না, সেটাই আসলে বুঝিয়ে দেন মমতা। তার পরে মুখ খোলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমি আইনি বিষয় নিয়ে কিছু বলছি না। কিন্তু অনেক সময় পদ্ধতিগুলো ভুল হয়।’’ মমতার কথায়, ‘‘চিদম্বরম একজন প্রবীণ রাজনীতিক। তিনি দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যে পদ্ধতিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হল, তা অত্যন্ত হতাশাজনক, দুঃখজনক এবং খারাপ।’’

আরও পড়ুন: দিলীপের গুঁতোতেও লক্ষ্যের থেকে ১৭ হাজার দূরে

চিদম্বরমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে, সে প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ খোলেননি। দেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনও অপরাধের সঙ্গে জড়িত, নাকি নির্দোষ, সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য যে তিনি করতে চান না, তা মমতা প্রথমেই বুঝিয়ে দেন। কিন্তু দেশে এই মুহূর্তে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক সমীকরণ যেটুকু রয়েছে, তার সঙ্গে সঙ্গতি রাখার বার্তা দেন মমতা। সঙ্কটকালে তিনি যে চিদম্বরমের পাশেই রয়েছেন, এ কথাও বুঝিয়ে দেন।

বিজেপিকে আক্রমণের প্রশ্নে অবশ্য এ দিনও চাঁছাছোলা মন্তব্যই করেছেন তৃণমূল চেয়ারপার্সন। মিডিয়া এখন বিজেপির মুখপাত্র হয়ে গিয়েছে, বিজেপি যা শিখিয়ে দিচ্ছে, মিডিয়া তাই বলছে— মন্তব্য তাঁর। মমতা বলেন, ‘‘দেশে গণতন্ত্রের অভাব ভীষণ ভাবে অনুভব করছি। গণতন্ত্র আজকে কাঁদছে।’’

গ্রেফতারি এড়াতে চিদম্বরমের আইনজীবীরা প্রথমে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেখানে আগাম জামিনের আর্জি খারিজ হয়। তার পরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে আবেদন জানানো হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে শুনানিই হয়নি সেই আবেদনের। শুক্রবারের আগে শুনানি সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। বুধবার রাতেই চিদম্বরম গ্রেফতার হন।

আরও পড়ুন: সংসদের ভোটেই চোখ, নজরে প্রতিষ্ঠা দিবস

এই ঘটনাক্রমের কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেননি। কিন্তু নিজের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়াতেও দু’বার বিচারবিভাগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। মমতা প্রথমে বলেন, ‘‘বিচারবিভাগ সম্পর্কে কিছু বলব না। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথায় বলি— বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে।’’ তার পরে তিনি আবার বলেন, ‘‘বিচারবিভাগ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য না করাই হল আমার একমাত্র মন্তব্য।’’