দু’জনেরই প্রিয় নেশা শরীরচর্চা। দু’জনেরই মন্ত্র ‘ফিটনেস’। তাই আজ দীর্ঘ আড়াই বছর পরে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে দু’জনের সাক্ষাতে প্রিয় বিষয়টি উঠে আসতে দেরি হল না। সূত্রের খবর, নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা হওয়ার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ তাঁকে বলেন, আগের চেয়ে অনেকটা ওজন কমিয়েছেন মোদী! জবাবে হেসে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, দিদির ‘বিশ কিলোমিটার’ কেমন চলছে? রহস্য-কৌতুক মিশিয়ে মোদী ইঙ্গিত দেন যে, মমতা রোজ কতটা হাঁটছেন, সে ব্যাপারে সব খবর তিনি রাখেন। 

নিজেকে ‘ফিট’ রাখাটা মমতার কাছে নেশার মতো। মোদীও গত পাঁচ বছরে যোগাসনকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডে পরিণত করেছেন নিজস্ব উদ্যোগে। ‘নমো’ অ্যাপে অ্যানিমেশনের মাধ্যমে নিয়মিত দেখানো হয় মোদীর যোগ। সম্প্রতি মোদী শুরু করেছেন ‘ফিট ইন্ডিয়া’ আন্দোলন। গত কাল বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও বিদেশ সফর প্রসঙ্গে মোদীর প্রাণশক্তিতে ভরপুর থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। 

আর মমতা? হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও নিয়ম করে প্রতিদিন অনেকটা সময় শরীরচর্চায় বরাদ্দ রাখেন তিনি। যার বেশিটাই হাঁটা। সম্প্রতি মোদীর ‘ফিটনেস ডে’-তে মমতার ব্যাডমিন্টন খেলার ভিডিয়োও আপলোড হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। মমতা যে নেতা-মন্ত্রী থেকে শুরু করে আমজনতাকেও শরীর ঠিক রাখতে সব সময়ে পরামর্শ দেন, সে কথা লেখা হয়েছিল ওই ভিডিয়োতে। সাংসদ থাকাকালীন তো বটেই, পরেও যখনই সংসদে এসেছেন মমতা, সুযোগ পেলেই বৃত্তাকার করিডরে হনহনিয়ে হেঁটেছেন। সাউথ অ্যাভিনিউতে থাকলে তো হাঁটেনই। মোদী ‘২০’ বলেছেন, কিন্তু রাজ্যে ট্রেডমিল-সহ সব মিলিয়ে রোজ অন্তত ১২-১৪ কিলোমিটার হাঁটেনই মমতা।  

৭ লোককল্যাণ মার্গে দীর্ঘদিন পরে এসে মোদীর কাছে মমতা জানতে চান, তাঁর বাসভবনের অফিসটি কবে অন্য ঘরে সরানো হল? সূত্রের খবর, মোদী তখন ‘দিদি’কে বলেন, অফিস রয়েছে একই জায়গায়। মমতা এর পর তুলে দেন তাঁর উপহার। হলুদ গোলাপের তোড়া আর কলকাতার মিষ্টি।