প্র: ‘মণিকর্ণিকা: দ্য কুইন অব ঝাঁসি’তে ঝলকারি বাঈয়ের ভূমিকার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন। কেমন অভিজ্ঞতা হল?

উ: প্রথমে যখন চরিত্রটার নাম শুনেছিলাম, খুব ভাল লেগেছিল। প্রযোজক কমল জৈন, লেখক প্রসূন জোশি, কৃষ (তখন তিনি ছবিটির পরিচালক ছিলেন)... সকলে আলোচনা করতাম। পাশাপাশি ঘোড়সওয়ারি, তরোয়াল চালানো... এ সব শিখতে হল। আসলে আমি ঝলকারির চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে দিয়েছি। ভাবতাম, ঝলকারি আজ বেঁচে থাকলে কী করতেন...

প্র: ‘পবিত্র রিস্তা’ শেষ হওয়ার এত দিন পরে ‘মণিকর্ণিকা...’। একটু বেশিই অপেক্ষা করতে হল না?

প্র: হ্যাঁ, এটা সত্যি। তবে আমি কিন্তু দর্শকের মনেই ছিলাম। এই বড় সময়টা ধরে আমাকে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে। ভাল চিত্রনাট্য, ভাল পরিচালক, ঠিক সময়— সব কিছুরই অপেক্ষা করেছি। এখন মনে হয়, আমার অপেক্ষাটা সার্থক হয়েছে। এই চরিত্রটা করতে গিয়ে আমি অভিনয়ের প্যাশনটা খুঁজে পেয়েছি।

প্র: কঙ্গনা রানাওয়াতের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন?

উ: ও ভীষণ মিষ্টি। শুটিংয়ের সময়ে আমাকে সামলে রেখেছে। আমার কিছু দৃশ্য তো কঙ্গনা ভীষণই পারদর্শিতার সঙ্গে পরিচালনা করেছে। আমার পুরো বিশ্বাস ওঁর উপরে ছিল। কৃষ পরিচালনা ছেড়ে চলে যাওয়ার পরে নেগেটিভিটি ছিল। কিন্তু কোনও কিছুকে গুরুত্ব দিইনি। কঙ্গনাকে সাহায্য করেছি।

প্র: তা হলে কি টেলিভিশন থেকে এ বার পুরোপুরি বিদায় নিলেন?

উ: না। আমি কোনও দিন টিভি ছাড়ব না। টিভি আমার মায়ের বাড়ির মতো। ‘পবিত্র রিস্তা’র ছ’বছরের সফরের বহু স্মৃতি আমার কাছে এখনও উজ্জ্বল। তবে নিজের ডেবিউ ফিল্মের জন্য অপেক্ষা করতে চাই।

প্র: আপনি নাকি সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর অফার ফিরিয়ে দেন!

উ: বিশেষ কিছু কারণের জন্য ছবিটা করা হয়নি। আমি বিভ্রান্তও ছিলাম। তখন অনেক চিত্রনাট্য পড়ছিলাম। পাশাপাশি, ব্যক্তিগত জীবনে নানা সমস্যাও চলছিল। খুব মন খারাপ থাকত ওই সময়টা জুড়ে। বুঝতে পারতাম না, কী করব। সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর কাজটা না করার জন্য সামান্য হলেও আক্ষেপ তো রয়েছেই। তবে এটা বলব, ইন্ডাস্ট্রিতে আমার কোনও গডফাদার নেই।

প্র: সম্পর্ক ভাঙার কষ্ট সামলালেন কী করে?

উ: শুধু আমি নই, আমার গোটা পরিবারও ওই সময়ে খুব কষ্টে ছিল। তবে মা-বাবার ভালবাসাই আমাকে আজ এখানে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। এটা বুঝেছি যে, আমার খুশি অন্য কারও দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে না। আমিই পারি নিজেকে ভাল রাখতে। ইদানীং আধ্যাত্মিক বক্তৃতা শুনি, ধ্যান করি। আর বিশ্বাস করি যে, পিস ইজ় উইদিন ইউ।

প্র: আপনার এখনকার প্রেম নিয়ে অনেক কথাই তো শোনা যায়। সত্যিটা বলবেন?

উ: (লজ্জা পেয়ে) এই মুহূর্তে কিছু বলতে চাই না। ভালবাসার অনুভূতি ভীষণ স্পেশ্যাল। তবে বিয়ে যখন করব, সবাইকে জানিয়েই করব।

প্র: সুশান্তের (সিংহ রাজপুত) সঙ্গে কোনও দিন কাজ করবেন?

উ: সব কিছুই নির্ভর করছে চিত্রনাট্যের উপরে!