E-Paper

সাগরে আছড়ে পড়ল জনজোয়ার

মঙ্গলবার থেকেই জনসমাগম বাড়ছিল। বুধবার সকালে ভিড় ফুলেফেঁপে ওঠে। সন্ধ্যায় কচুবেড়িয়া জেটি থেকে গঙ্গাসাগরের দিকে শুধুই জনস্রোত। ভিড় সামলাতে গিয়ে হিমসিম খেতে হয়েছে প্রশাসনকে।

ফিরোজ ইসলাম 

শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:২১
সংক্রান্তির ভোরে সাগরে পুজো ও স্নান পুণ্যার্থীদের। বুধবার।

সংক্রান্তির ভোরে সাগরে পুজো ও স্নান পুণ্যার্থীদের। বুধবার। ছবি: দেবস্মিতা ভট্টাচার্য।

পুণ্যস্নানের আগে কার্যত জনজোয়ার যেন আছড়ে পড়ল সাগরদ্বীপে!

মঙ্গলবার থেকেই জনসমাগম বাড়ছিল। বুধবার সকালে ভিড় ফুলেফেঁপে ওঠে। সন্ধ্যায় কচুবেড়িয়া জেটি থেকে গঙ্গাসাগরের দিকে শুধুই জনস্রোত। ভিড় সামলাতে গিয়ে হিমসিম খেতে হয়েছে প্রশাসনকে। রেলের দাবি, মঙ্গলবার শিয়ালদহ থেকে প্রায় ২ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি যাত্রী ট্রেনে রওনা দিয়েছিলেন। রেল এদিন দৈনিক ট্রেনের সংখ্যা ১৮ থেকে বাড়িয়ে ২২ করেছে। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সাগর অভিমুখে শিয়ালদহ থেকে রওনা দেওয়া যাত্রীর সংখ্যা তিন লক্ষ ছুঁয়ে ফেলতে পারে বলে রেলের দাবি। সরকারি, বেসরকারি বাসে চেপে সাগরে পৌঁছনো মানুষের সংখ্যা ধরলে পুণ্যার্থীর সংখ্যা আরও এক লক্ষ বাড়তে পারে।

ভিড়ের চাপে বুধবার বিকেলের দিকে কচুবেড়িয়া থেকে গঙ্গাসাগরমুখী রাস্তায় প্রবল যানজট তৈরি হয়। নদীর ঘাট থেকে পুণ্যার্থীদের একাংশ পথ ধরে হাঁটা শুরু করেন বলে খবর। জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা দিনভর বিভিন্ন ঘাট ছাড়াও মন্দিরমুখী রাস্তা এবং সাগরদ্বীপের বিভিন্ন রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণের কাজ করলেও শেষ বেলায় রীতিমতো নাকাল হতে হয়েছে।

বাসকর্মীরা বলছেন, সাগরে নতুন বাস স্ট্যান্ড তৈরি হলেও সেখানে ২০টির বেশি বাস রাখার পরিসর নেই। ফলে কচুবেড়িয়া, বেণুবন, চেমাগুড়ি থেকে বাসে যাত্রীদের গঙ্গাসাগরের মেলা প্রাঙ্গণে আনার সময় বাস ঘুরিয়ে পর্যাপ্ত সংখ্যায় ফেরৎ পাঠানোর ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বাস এবং পর্যাপ্ত বিকল্প গাড়ি না পেয়ে হাজারে হাজারে পুণ্যার্থী রাস্তায় নেমে হাঁটতে শুরু করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এ দিন সন্ধ্যায় ভিড় সামলাতে সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার কোটেশ্বর রাও এবং মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মোটরবাইকে কচুবেড়িয়ার দিকে রওনা দেন।

গঙ্গাসাগর মেলায় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মেলার একেবারে অন্তিম মুহূর্তে ভিড়ের চাপ প্রশাসনের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের বছরে মেলার আয়োজন নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ তৎপরতা রয়েছে। মেলা চত্বরে এবং গঙ্গার ঘাটে ব্যবস্থাপনা নিখুঁত রাখতে জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পঞ্চায়েত, সেচ-সহ একাধিক দফতর সমন্বয় রেখে কাজ করেছে। প্রায় তিনশ কোটি টাকা বিভিন্ন পরিকাঠামো তৈরিতে খরচ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।মেলা চত্বর পরিচ্ছন্ন রাখতে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর স্থায়ী এবং অস্থায়ী মিলে সাড়ে ১১ হাজারের বেশি শৌচাগার তৈরি করেছে। দফতরের ওই তৎপরতায় মেলায় খোলা জায়গায় শৌচ বন্ধ করা গিয়েছে বলে দাবি আধিকারিকদের। মেলায় পানীয় জল এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা গড়ে প্রায় প্রতি ১০০ মিটার দূরত্বে করা হয়েছে। স্নানের ঘাটেও ভ্রাম্যমাণ শৌচালয়ের ব্যবস্থা করেছে দফতর। ত্রিস্তরীয় নজরদারি ব্যাবস্থায় দিনরাত ওই সব শৌচাগার পরিচ্ছন্ন রাখার প্রক্রিয়ায় নজরদারি চলছে। ভ্রাম্যমাণ এবং অন্য কিছু শৌচালয়ের বর্জ্য সরাতে ১৩টি সেস পুল ট্যাঙ্কার ব্যবহার করা হচ্ছে।

পানীয় জলের পাউচ বিতরণের কিয়স্ক থেকে প্রায় এক লক্ষ পাউচ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলা উপলক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর দৈনিক প্রায় ৭০ লক্ষ লিটার জল সরবরাহ করছে। এ জন্য ১৩টি মেগা ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট কাজ করছে বলে দফতর সূত্রে খবর। প্রায় ৭৯ হাজার মিটারের জলের লাইন নির্মাণ ছাড়াও দমকলের ব্যবহারের জন্য মেলা জুড়ে হাইড্রান্ট তৈরি করা হয়েছে। মেলায় আগুনের বিপদ সামাল দিতে ২২টি অস্থায়ী স্টেশনের সব কটিতে জলের জোগান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Gangasagar Mela 2026 gangasagar

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy