• আবাহন দত্ত
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

খনিজের সন্ধানে ঘুরেছেন বাংলা থেকে মায়ানমার

প্রমথনাথ বসু আজ প্রায়-বিস্মৃত। এই বাঙালি ভূতত্ত্ববিদই ওড়িশার ময়ূরভঞ্জে প্রথম খুঁজে পান লৌহ আকরিক। তার ভিত্তিতেই পরে জামশেদপুরে তৈরি হয় টাটার কারখানা।

Pramatha Nath Bose
প্রমথনাথ বসু

উনিশ শতকের বঙ্গসমাজের এক বিবাহবাসর। সেখানে উপস্থিত বঙ্কিমচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথ। রমেশচন্দ্র দত্তের জ্যেষ্ঠ কন্যা কমলার বিয়ে, পাত্র প্রথমনাথ বসু। তিনি বাংলার প্রথম ভূতত্ত্ববিদ, লোকের কাছে পরিচিত ‘পি এন বোস’ নামে। 

বিবাহসভায় দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। কাছাকাছি ছিলেন রবীন্দ্রনাথও। রমেশবাবু যথারীতি বঙ্কিমচন্দ্রের গলায় মালা পরাতে গেলেন। সাহিত্যসম্রাট তাড়াতাড়ি সেই মালা রবীন্দ্রনাথের গলায় পরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘এ মালা ইঁহারই প্রাপ্য। রমেশ, তুমি সন্ধ্যাসংগীত পড়িয়াছ?’ রমেশ দত্তর পড়া ছিল না। ‘সন্ধ্যাসংগীত-এর কোনও এক কবিতা নিয়ে মতামত জানাতে থাকলেন বঙ্কিমচন্দ্র। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, ‘তাহাতে আমি পুরস্কৃত হইলাম।’ প্রমথনাথের বিবাহবাসরে রমেশ দত্তর সূত্রেই দুই মহীরুহ এসেছিলেন। তবে শোনা যায়, ১৮৭৯-৮০ সালে বিলেতে থাকাকালীন প্রমথনাথের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের আলাপ হয়েছিল।

বিশ শতকের গোড়ায় ১৯০৩ সালে গরুমহিষানিতে লৌহ আকরিক আবিষ্কার করেন ওড়িশার ময়ূরভঞ্জের স্টেট জিয়োলজিস্ট প্রমথনাথ। ১৯০৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি চিঠি লেখেন জামশেদজি নাসেরওয়ানজি টাটাকে— “As you are interested in the development of the iron industry of this country, I have to bring to your notice an exceedingly rich and extensive deposit of iron ore which I have just explored in this State.” প্রমথনাথের নাম তখন টাটা ও তাঁর পরামর্শদাতাদের কাছে সুপরিচিত ছিল। তাঁদের ধুলি-রাজহরার কারখানার পরিকল্পনা হয়েছিল প্রমথনাথের এক গবেষণাপত্রের সূত্রেই। এ বারও ক্ষেত্রসমীক্ষা হল, এবং সুবর্ণরেখা ও খরকাই নদীর সঙ্গমের কাছে সাকচি-তে তৈরি হল কারখানা। ১৯০৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জন্ম নিল জামশেদপুর।

প্রমথনাথ বসুর পরিচয় কী? কেন তিনি গুরুত্বপূর্ণ? এক কথায় বললে, পরাধীন ভারতের বিস্তৃত ভূখণ্ডে— ব্রহ্মদেশ থেকে রাজস্থান এবং কাশ্মীর থেকে গোদাবরী— প্রথম খনিজ আকরিকের সন্ধান করেছিলেন এই ভূতত্ত্ববিদ। ১৯৫৫ সালে তাঁর জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনের সময় জওহরলাল নেহরু বলেছিলেন, “আমার ধারণায় তিনি আমাদের প্রথম উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞানীদের এক জন এবং এক মহান ভূতাত্ত্বিক।” এই ‘পথিকৃৎ’ বিজ্ঞানী সম্পর্কে আর এক বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর মন্তব্য ছিল, “জগদীশচন্দ্র ও প্রফুল্লচন্দ্র উভয়েই দেশখ্যাত বিজ্ঞানী। এঁদেরও আগে আর একজন বাঙ্গালী বিলাত থেকে বিজ্ঞানে কৃতবিদ্য হয়ে দেশে ফিরে আসেন, তিনি ভূতত্ত্ববিদ্ প্রমথনাথ বসু। প্রমথনাথের জীবনধারা কালে কালে তাঁকে বাঙ্গালা দেশের পূর্বাচার্যদের সমআসনে উঠিয়েছিল।”

১২ মে ১৮৫৫। চব্বিশ পরগনা তখন আক্ষরিক অর্থেই— ২৪টি পরগনার সমাহার। কুশদহ পরগনার গোবরডাঙা অঞ্চলের গৈপুর গ্রামে প্রমথনাথের জন্ম। খাঁটুরার আদর্শ বঙ্গ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া, কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুল থেকে দশম শ্রেণি পাশ মাত্র ১৫ বছর বয়সে। ১৬ বছরে এন্ট্রান্স (এখন যা মাধ্যমিক) দেওয়া যায় না, তাই এক বছর অপেক্ষা করে পরীক্ষায় বসা এবং কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সেকেন্ড হওয়া। দু’বছর পর এফএ বা ফার্স্ট আর্টস (অধুনা উচ্চমাধ্যমিক) পরীক্ষায় পঞ্চম হয়ে বিএ ক্লাসে ভর্তি হন সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে। ১৮৭৪-এ দেশে প্রথম স্থান অধিকার করে গিলক্রিস্ট বৃত্তি নিয়ে বিলেত যাত্রা। চার বছর লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে বি এসসি, দুর্দান্ত ফল করে রয়্যাল স্কুল অব মাইন্‌স-এ ভর্তি হওয়া, এবং প্যালিয়োন্টোলজি নিয়ে লেখাপড়া।

প্রত্নজীববিদ্যা অধ্যয়নের পাশাপাশি বিলিতি সমাজকেও খুঁটিয়ে দেখতেন প্রমথনাথ। ‘ভারতে বিলাতী সভ্যতা’ প্রবন্ধে সেই অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেন। দুই দেশের তুলনামূলক আলোচনা ফুটিয়ে তোলেন, কেন এবং কোথায় ভারত পিছিয়ে আর বিলেত এগিয়ে। মোটেই ঔপনিবেশিক শাসকের ঘাড়ে একতরফা দোষ চাপাননি, সতীদাহ প্রথার মতো ভারতের মন্দগুলোর প্রবল সমালোচনা করেছেন, রেলরোড বা শিক্ষা বিস্তারের মতো ব্রিটেনের শুভ উদ্যোগের প্রশংসাও করেছেন। তবে, ও দেশে থাকতেই পরাধীনতার গ্লানিও অনুভব করেন প্রমথনাথ। ছাত্রাবস্থায় ব্রিটিশ শাসনের ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে বক্তৃতা ও লেখালিখি করতে থাকেন। দাদাভাই নৌরজি, আনন্দমোহন বসু, লালমোহন ঘোষের সঙ্গে মিলে ‘ইন্ডিয়া সোসাইটি’-র কাজ শুরু করেন। তাঁকে আর বিলেতে রাখা সমীচীন বলে মনে করে না বিলেত সরকার, অতএব ভারত সচিবের পদে নিয়োগ করে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা হয়। ১৮৮০ সালে ১৩ মে মাত্র ২৪ বছর বয়সে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন ভূতত্ত্ববিদ প্রমথনাথ।

ছ’মাস তাঁবুতে, ঘোড়া আর উটের পিঠে, নৌকারোহণে দুর্গম পাহাড়-জঙ্গলে খনিজ অনুসন্ধানের কাজ— ফিল্ড সার্ভে। পরের ছ’মাস কলকাতার অফিসে সেই সব তথ্য বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট তৈরি। এই কাজের সূত্রেই বরাকর-রানিগঞ্জে অভ্র, দার্জিলিংয়ে কয়লা, সিকিমে তামা, অসমের রাইপুর ও বালারঘাটে আগ্নেয় শিলা, মধ্যপ্রদেশের ধুলি ও রাজহরায় আকরিক লোহা, রায়পুরে লিগনাইট কয়লা ও লৌহ খনিজ, জব্বলপুরে ম্যাঙ্গানিজ ও লোহা, নিম্ন নর্মদা অববাহিকায় খনিজ সম্পদ এবং ব্রহ্মদেশে কয়লা ও গ্রানাইট পাথর খুঁজে পান। মোট ১৩টি গবেষণাপত্র ও একটি ‘মেময়ার্স’ লেখেন। কাজ কেবল কাজ নয়, ভালবাসাও— ধরা দেয় তাঁর কলমে। হিমালয়ের খরস্রোতা নদী দেখে লিখছেন— “কি তেজ, কি বীর্য্য, কত স্ফূর্ত্তি, কত আনন্দ!... জীবনের প্রারম্ভে এইরূপই হইয়া থাকে।... আরও কিছুদূর যাও, বয়স একটু বাড়ুক, এত লাফালাফি এত তেজ রহিবে না, এত উচ্চে হাসিবে না, এত উচ্চে গাহিবে না।” যেন এক কবির মন!

তাঁর জীবনধারাই যে ব্যতিক্রমী— যে কথা উল্লেখ করেছিলেন সত্যেন্দ্রনাথও। কেমন? ভূতত্ত্ব বিভাগের উঁচু পদে চাকরি পেয়েছিলেন, যা তখন সাহেবদের একচেটিয়া অধিকার ছিল। দায়িত্ব নিয়ে ভারত ও ব্রহ্মদেশের নানা অংশে বহু রকম খনিজ আবিষ্কার করেছিলেন। আবার বেঙ্গল টেকনিক্যাল কলেজের (অধুনা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়) কর্ণধার ও উপদেষ্টা ছিলেন। ১৮৮৪ সালে লেখেন ‘প্রাকৃতিক ইতিহাস’— উদ্দেশ্য, বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষা। ভূতাত্ত্বিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা সংস্কার ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং সৃজনশীল লেখালিখি, এই তিন ক্ষেত্রেই বিপুল কাজ করেছিলেন প্রমথনাথ। সত্যেন্দ্রনাথের ভাষায়— “জনসেবায় নানা পথ। শিক্ষার বিস্তার, সমাজের কদাচারের দূরীকরণ, দুঃখ মোচন ও রাজনৈতিক জীবনে সৎপথের ইঙ্গিত— সবই প্রমথনাথের শেষ জীবনের কার্যের মধ্যে দেখতে পাই।” আসলে, নিজের মতো করে দেশকে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর কাজে সহায় হতে চেয়েছিলেন প্রমথনাথ। খাঁটি দেশপ্রেমিকের কাছে সেটাই ছিল স্বদেশি আন্দোলন। ‘উপায় কী?’ প্রবন্ধে ব্যাখ্যা করেছিলেন— “তুলা হইতে কাপড়, ইন্ডিয়া রবার হইতে ওয়াটার প্রুফ, লৌহঘটিত আকরিক পদার্থ হইতে লৌহ, এবং লৌহ হইতে ছুরি কাঁচি ইত্যাদি প্রস্তুত করাই শিল্পকর্ম্ম। শিল্পই দেশের ধনবৃদ্ধির প্রধান উপায়।”

এই সুবিপুল পরিমাণ কাজ করার পরেও সাত বছরে প্রোমোশন পেয়ে তিনি ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট হন। দু’বছর কার্যকরী সুপারিন্টেনডেন্টের দায়িত্ব সামলানো সত্ত্বেও তাঁর পদ পাকা হয়নি, বরং দশ বছরের জুনিয়র টমাস হেনরি হল্যান্ড তাঁর মাথার ওপর নিযুক্ত হন। চাকরি ছাড়েন ক্ষুব্ধ প্রমথনাথ। সঙ্গে সঙ্গেই অবশ্য দেশপ্রেমিক প্রমথনাথকে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান ময়ূরভঞ্জের অধিপতি। 

প্রমথনাথ চিরদিনই একরোখা। তাঁকে বিনা মূল্যে সংস্থার শেয়ার দিতে চেয়েছিলেন টাটা কর্তৃপক্ষ, সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেন ভূতত্ত্ববিদ। ব্রিটেন যাওয়ার পর যখন ‘জাত গেছে’ বলে নিদান দিলেন গৈপুরের সমাজপতিরা, তিনি বললেন, “সমুদ্র পেরোলে জাত যায়, এই কথা মানি না।” প্রায়শ্চিত্ত করলেন না। রমেশচন্দ্র ব্রাহ্ম, তাই ‘সিভিল ম্যারেজ অ্যাক্ট’-এ বিয়ের বন্দোবস্ত হয়েছিল, বর-বৌকে সই করে ঘোষণা করতে হত যে তাঁরা প্রচলিত ধর্মে বিশ্বাসী নন। প্রমথনাথ বেঁকে বসেন, “আমি তো জাতি বা ধর্ম ত্যাগ করিনি।” পরে পুরোহিত জোগাড় হয়, হিন্দু প্রথায় বিয়ে হয়।

এমনিতে, প্রমথনাথের কাজের ফিরিস্তি শুরু করলে থামা কঠিন। স্বদেশি শিল্প গড়তে ১৮৯১ সালে কলকাতায় ‘ভারতীয় শিল্পোদ্যোগ সম্মেলন’-এর ভিত্তি স্থাপন করেন, আসানসোলে কয়লাখনি পরিচালনা করেন, পূর্ব ভারতে প্রথম আধুনিক সাবান কারখানা তৈরি করেন, খনিজ সন্ধানের জন্য সংস্থা গড়েন। বিজ্ঞান শিক্ষার আধুনিকীকরণের উদ্দেশ্যে ১৮৮৬ সালে একটি পুস্তিকা লেখেন: ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড সায়েন্টিফিক এডুকেশন ইন বেঙ্গল’। ১৯০৬ সালে বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট-এর প্রথম অধ্যক্ষ হন, পরে রেক্টর। বছর চারেক পরে তা জাতীয় শিক্ষা পরিষদ-এর (অধুনা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়) অংশ হয়। ১৯২০ অবধি কৃতিত্বের সঙ্গে পদ সামলান। সারা জীবনে প্রচুর লিখেছেন— প্রকাশিত বই ও পুস্তিকার সংখ্যা তিরিশেরও বেশি। ১৮৮৪ সালে এশিয়াটিক সোসাইটির শতবর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত তিনটি বইয়ের বিজ্ঞান বিষয়ক তৃতীয় খণ্ডটি সম্পাদনা করেন প্রমথনাথ বসু। মাত্র ২৯ বছর বয়স তখন। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় কাজ তিন খণ্ডে ‘আ হিস্ট্রি অব হিন্দু সিভিলাইজ়েশন ডিউরিং ব্রিটিশ রুল’।

তবু, প্রমথনাথকে আজ কতটা মনে রেখেছে ভারত? এশিয়াটিক সোসাইটি, জিএসআই ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর তৈলচিত্র সংরক্ষিত আছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নামে পুরস্কার চালু আছে। কিন্তু লন্ডনের জিয়োলজিক্যাল সোসাইটির এই ফেলো (১৮৭৯) তাঁর মেধার তুলনায় স্বীকৃতি পাননি বলে আক্ষেপ করেন গবেষকেরা। যিনি ১৮৮০ সালে প্রথম ভারতীয় বিজ্ঞানী হিসেবে আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্র লিখলেন, যা থেকে জানা গেল হরিদ্বার থেকে জম্মু পর্যন্ত বিস্তৃত জীবাশ্ম সমৃদ্ধ শিবালিক পাহাড়ে শিব-পিথেকাস, ব্রহ্ম-পিথেকাস ও রাম-পিথেকাসের ফসিল পাওয়া যায় (ব্রিটিশ মিউজ়িয়ামে রক্ষিত), তাঁর এইটুকুমাত্র স্মৃতিরক্ষা যথেষ্ট হতে পারে না।

প্রমথনাথ যে প্রাইমারি স্কুলে লেখাপড়া করেছিলেন, সেখানে পড়তেন গোবরডাঙানিবাসী স্কুলশিক্ষক দীপককুমার দাঁ। অবসর নেওয়ার পর এলাকার মানুষের লেখাপড়ার জন্য গড়ে তুলেছেন ‘গোবরডাঙা গবেষণা পরিষদ’। প্রমথনাথ বিষয়ে জানতে গেলে তাঁর সম্পাদিত বই যেমন ভরসা, ভরসা এই গ্রন্থাগারও। দীপকবাবুর কথায়, “ভারতে শিল্পায়নের যুগপুরুষ বলা যায় প্রমথনাথকে। সারা দেশে আজ যত লোহার কারখানা, সে দিন প্রমথনাথ না থাকলে তা সম্ভবই ছিল না। দেশ জুড়ে তিনিই খুঁজে বার করেছিলেন লৌহ আকর ও চুনাপাথর। তবে, সেই তুলনায় স্বীকৃতিই পাননি।”

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন