স্মার্টফোনের পিঠে (পড়ুন ব্যাক প্যানেল) ভেগান লেদার চাপিয়ে দিয়ে ঠকানো হচ্ছে গ্রাহকদের? ইতিমধ্যেই এই প্রশ্নের মুখে পড়েছে যাবতীয় নির্মাণকারী সংস্থা। কেন কাচ সরিয়ে ব্যাক প্যানেলে ভেগান লেদার নিয়ে এল তারা? আদৌ কি সেটা কাচের বিকল্প হয়ে উঠতে পেরেছে? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল তার হদিস।
গোড়ার দিকে কাচ দিয়েই তৈরি হত সমস্ত স্মার্টফোনের ব্যাক প্যানেল। কয়েক বছর আগে সেখানে প্লাস্টিক নিয়ে আসে দুনিয়ার তাবড় নির্মাণকারী সংস্থা। ওই সময় ফোনকে ‘বাজেট-বান্ধব’ করতে এ-হেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে যুক্তি দিয়েছিল তারা। তা ছাড়া কাচের ব্যাক প্যানেলের ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। প্লাস্টিক যে অনেক বেশি টেকসই হবে, তা বলাই বাহুল্য।
কিন্তু, প্লাস্টিকের ব্যাক প্যানেল গ্রাহকেরা সে ভাবে পছন্দ করেনি। ফলে ‘বাজেট-বান্ধব’ স্মার্টফোনের বিক্রির সূচক হু-হু করে নামতে থাকে। এর পরই মুঠোবন্দি ডিভাইসের পিঠে ভেগান লেদার চাপিয়ে দেন নির্মাণকারীরা। বাড়ানো হয় দামও। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ম্যাজিকের মতো কাজ করতে থাকে এই স্ট্র্যাটেজি। দর বাড়তেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে ফোনের চাহিদা।
মজার বিষয় হল, এই ভেগান লেদার কিন্তু আসলে প্লাস্টিক, আলাদা কোনও বস্তু নয়। সাধারণ ব্যাক প্যানেলের প্লাস্টিকের তুলনায় কিছুটা ঝকঝকে করে বানানো হয়েছে তাকে, যার জেরে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন গ্যাজেট বিশ্লেষকদের একাংশ। কারণ, ভেগান লেদারের নামে প্লাস্টিকের ব্যাক প্যানেলই যে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা গোপন করছেন অধিকাংশ স্মার্টফোন নির্মাণকারী সংস্থা।
‘বাজেট-বান্ধব’ ফোনগুলিতে প্লাস্টিক বা ভেগান লেদারের ব্যাক প্যানেল আনলেও প্রিমিয়াম ফোনের ক্ষেত্রে কিন্তু এখনও কাচের ব্যাক প্যানেল ব্যবহার করা হচ্ছে। আর তাই বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন, ভেগান লেদার যতই ঝকঝকে ও সুন্দর দেখতে হোক না কেন, তা কখনওই কাচের বিকল্প হতে পারবে না।