বৈদ্যুতিন গাড়ি বা ইভির (ইলেকট্রিক ভেহিকেল) বাজার চাঙ্গা রাখতে যথেষ্ট তৎপর কেন্দ্র। সরকারি উৎসাহে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে ব্যাটারিচালিত গাড়ি বিক্রির সূচক। এ-হেন পরিস্থিতিতে ভারতের ইভির বাজার কাঁপাচ্ছে কোন কোন সংস্থা? কতটা বিক্রি হচ্ছে ধনকুবের মার্কিন শিল্পপতি ইলন মাস্কের কোম্পানি টেসলার তৈরি বৈদ্যুতিন গাড়ি? সেই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই ইভি শিল্পে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ দেশে বৈদ্যুতিন গাড়ি বিক্রির সূচক বছর থেকে বছরের (ইয়ার-অন-ইয়ার) হিসাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৩ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি ইভি বিক্রি করেছে ঐতিহ্যবাহী শিল্পসংস্থা টাটা। গত এক মাসে তাদের মোট ৭,৮৫২টা বৈদ্যুতিন গাড়ি বিক্রি হয়েছে।
ইভির বাজারে টাটার ঠিক পরেই আছে এমজি নামের একটি সংস্থা। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাদের ৪,৬০৬টি বৈদ্যুতিন গাড়ি বিক্রি হয়েছে। অন্য দিকে গত এক মাসে ৩,৫৮৯টি ইভি বিক্রি করেছে মাহিন্দ্রা। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে তারা। চতুর্থ স্থানে থাকা ভিনসেন্টের বৈদ্যুতিন গাড়ি বিক্রি হয়েছে ৪৩২টি।
এ বছরের জানুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্থা হুন্ডাইয়ের ইভি বিক্রি হয়েছে ৩২৬টি। বিলাসবহুল বৈদ্যুতিন গাড়ির মধ্যে জার্মান সংস্থা বিএমডব্লিউ বিক্রি করেছে ৩১২টি ইভি। তালিকায় পরবর্তী তিনটি স্থানে রয়েছে কিয়া, বিওয়াইডি এবং মারুতি সুজ়ুকি। জানুয়ারিতে তাদের তৈরি বৈদ্যুতিন গাড়ি বিক্রির সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৩০৬, ২২৪ এবং ২১০।
এই তালিকায় ১১ নম্বর স্থানে আছে মাস্কের টেসলা। জানুয়ারিতে মাত্র ৩৭টি ইভি বিক্রি করতে পেরেছে তারা। টেসলার ঠিক আগে আছে আরও একটি বিলাসবহুল জার্মান গাড়ি সংস্থা মার্সিডিজ় বেঞ্চ। সবশেষে বলতে হবে ভলভো, রোলস রয়েস এবং পোর্শের কথা। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিও বিলাসবহুল গাড়ি তৈরির জন্য বিখ্যাত। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ভারতের বাজারে রোলস রয়েসের দু’টি এবং পোর্শের একটি ইভি বিক্রি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
জানুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউয়ের সঙ্গে মেগা বাণিজ্যচুক্তি করেছে ভারত। ফলে আগামী দিনে ইউরোপ থেকে আমদানি করা বৈদ্যুতিন গাড়ির উপর কমবে কর। বিশ্লেষকদের দাবি, সে ক্ষেত্রে এ দেশের বাজারে বেশ সস্তা হতে পারে ইভি। প্রতিযোগিতায় তখন মাস্কের সংস্থা টিকে থাকতে পারবে কি না, সেটাই এখন দেখার।