‘গ্যালাক্সি এস২৬’ সিরিজ়ের স্মার্টফোনে নতুন একটা প্রযুক্তি এনেছে স্যামসাং। তার নাম ‘প্রাইভেসি ডিসপ্লে’। যদিও এই সিরিজ়ের সব অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এই সুবিধা পাবেন না গ্রাহক। এর জন্য ‘গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা’ স্মার্টফোন বেছে নিতে হবে তাঁদের। কী ভাবে কাজ করছে ‘প্রাইভেসি ডিসপ্লে’? আর তাতে কতটা সুবিধা হবে ব্যবহারকারীর? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল তার হদিস।
স্যামসাঙের ‘প্রাইভেসি ডিসপ্লে’র কাজের ধরন বুঝতে হলে, প্রথমেই জানতে হবে মানুষের চোখের গঠন। উল্লেখ্য, কোনও বস্তু থেকে নির্গত আলো চোখে এসে পড়লে, তার ছবি তৈরি করে মানবদেহের এই ইন্দ্রিয়। ফলে সেটিকে দেখতে পান ওই ব্যক্তি। এই নিয়মের উপর ভিত্তি করেই এস২৬ আল্ট্রার ‘প্রাইভেসি ডিসপ্লে’ বানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দক্ষিণ কোরীয় সংস্থা।
অসংখ্য ছোট ছোট ব্লাবে তৈরি হয় স্মার্টফোনের ডিসপ্লে। যেগুলির আকার বিন্দুর মতো। প্রযুক্তির দুনিয়ায় ওই ব্লাবের নাম পিক্সেল। ব্যবহারের সময় ব্লাবগুলি জ্বলে উঠলেই ডিসপ্লে থেকে আলো ঠিকরে এসে লাগে গ্রাহকের চোখে। তখনই মুঠোবন্দি ডিভাইসের পর্দায় ছবি, ভিডিয়ো বা লেখা পড়তে পারেন তিনি।
এত দিন পর্যন্ত ডিসপ্লেতে দু’ধরনের পিক্সেল ব্যবহার করে এসেছে যাবতীয় স্মার্টফোন নির্মাণকারী সংস্থা। এর মধ্যে একটা থেকে আলো সামনের দিকে ঠিকরে বার হয়। আর একটা কোনাকুনি ভাবে ছড়িয়ে দেয় আলো। ফলে সোজাসুজি এবং পাশ থেকে ফোনের ডিসপ্লের সব কিছু দেখতে পান সবাই। এর জেরে ব্যবহারকারীর আশপাশে থাকা অন্যরাও অনায়াসেই জানতে পারেন কী চলছে মুঠোবন্দি ডিভাইসের স্ক্রিনে।
আরও পড়ুন:
‘প্রাইভেসি ডিসপ্লে’তে ঠিক এই জায়গাতেই বদল এনেছে স্যামসাং। গ্যাজেট বিশ্লেষকদের দাবি, কৃত্রিম মেধা বা এআইকে (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) ব্যবহার করে কোনাকুনি জ্বলে ওঠা পিক্সলগুলিকে প্রয়োজনমাফিক বন্ধ রাখছে তারা। ফলে সোজাসুজি স্মার্টফোনের স্ক্রিনে সব কিছু দেখতে পাচ্ছেন গ্রাহক। কিন্তু, আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা কেউ বুঝতে পারছেন না, সেখানে ঠিক কী চলছে।
পিক্সলের এই আলোর বিষয়টা বোঝাতে গিয়ে টর্চের সঙ্গে তুলনা টেনেছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের কথায়, টর্চের আলো অনেক সময় ছড়িয়ে যায়। তখন দেখার সুবিধার জন্য আলোকে সুনির্দিষ্ট একটি বিন্দুর দিকে নিয়ে যান ব্যবহারকারী। এই কৌশলকেই কাজে লাগিয়ে ‘প্রাইভেসি ডিসপ্লে’ তৈরি করেছে স্যামসাং।