পেট্রল-ডিজেল থেকে রান্নার গ্যাস। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে আমজনতার নাজেহাল দশা। এ-হেন পরিস্থিতিতে এসি ও রেফ্রিজ়ারেটরের দাম আকাশ ছুঁতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। কেন হঠাৎ ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রক এই দুই যন্ত্রের দর? নেপথ্যে রয়েছে কোন রহস্য? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল তার হদিস।
এসি ও রেফ্রিজ়ারেটরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল কমপ্রেসার, বর্তমানে যা বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে ভারত। প্রযুক্তিবিদদের দাবি, এই অবস্থারই পরিবর্তন চাইছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। ফলে কমপ্রেসারের আমদানি হ্রাস করার দিকে নজর দিচ্ছে প্রশাসন। এর জেরে যন্ত্রাংশের অভাবে চরম বিপাকে পড়তে পারে এসি ও রেফ্রিজ়ারেটর নির্মাণকারী যাবতীয় সংস্থা।
বিশ্লেষকদের অনুমান, চলতি বছরের শেষের দিকে কমপ্রেসারের সঙ্কটের জন্য লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্রগুলির দাম। শুধু তা-ই নয়, ডিসেম্বর আসতে আসতে আকাশছোঁয়া হতে পারে এর দর। কেন্দ্র অবশ্য চাইছে এই সময়সীমার মধ্যে কোনও দেশীয় সংস্থা তৈরি করুক অত্যাধুনিক কমপ্রেসার। যদিও তাতে সমস্যার সমাধান খুব দ্রুত হবে না বলেই মনে করছে স্যামসাং, এলজি ও ব্লুস্টারের মতো সংস্থা।
এসি ও রেফ্রিজ়ারেটর নির্মাণকারী কোম্পানিগুলির দাবি, এখনও কমপ্রেসার তৈরির পরিকাঠামো তৈরি করতে পারেনি ভারত। দ্বিতীয়ত, কোনও দেশীয় সংস্থা কমপ্রেসার তৈরি করে ফেললেই যে সেটা এসি বা রেফ্রিজ়ারেটরে ব্যবহার করা যাবে, এমনটা নয়। সে ক্ষেত্রে নতুন করে তার পরীক্ষা চালাতে হবে স্যামসাং, এলজি বা ব্লুস্টারকে। পাশাপাশি, লাগবে একগুচ্ছ সরকারি অনুমোদন।
আর তাই খুব তাড়াতাড়ি কমপ্রেসার-সঙ্কট মিটে যাওয়ার নয়। ফলে আপাতত এসি বা রেফ্রিজ়ারেটরের দাম কমার আশা না করাই ভাল। তবে সরকারি সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন প্রযুক্তিবিদেরা। তাঁদের কথায়, আগামী দিনে কমপ্রেসারের মতো যন্ত্রের ক্ষেত্রে পুরোপুরি স্বনির্ভর হয়ে উঠবে ভারত। কমবে বিদেশি নির্ভরশীলতা। দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পাবেন এ দেশের বাসিন্দারা।