Advertisement
E-Paper

সপ্তাহশেষে পর পর তিনটি ছুটির দিন! শেষ মুহূর্তে যাবেন কোথায়? রইল কাছেপিঠে ঘোরার তিন ঠিকানা

উঠল বাই তো বেড়াতে যাই। শুক্র থেকে রবি, তিন দিনের ছুটি কি বাড়িতেই কাটাবেন? হুট বলতেই যাবেন কোথায়?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৩৯
সপ্তাহশেষে তিন দিন ছুটি? কলকাতা থেকে কোথায় যেতে পারেন?

সপ্তাহশেষে তিন দিন ছুটি? কলকাতা থেকে কোথায় যেতে পারেন? ছবি: সংগৃহীত।

শনি-রবি অনেকেরই ছুটি থাকে। এবার তার সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে গুড ফ্রাইডেও। সপ্তাহশেষে টানা তিন দিন ছুটি কিছুটা পড়ে পাওয়া চোদ্দো আনার মতোই! পায়ের তলায় যাঁদের সর্ষে, তাঁরা কি এমন সুযোগ ছাড়তে চাইবেন? গরমের দাপট এবার বাড়ছে। এই সময়ে চড়া রোদ বাঁচিয়ে কেমন ভাবে, কোথায় ভ্রমণ হবে?

পুরী, দিঘা, মন্দারমণি, দার্জিলিং— বাঙালির পছন্দের চার জায়গা আছেই। তার বাইরেও কিন্তু ভ্রমণসূচি সাজাতে পারেন। বেড়ানো মানেই বহু দূরের গন্তব্য বাছাই নয়, বরং ঘরের কাছের অনেক ঠিকানাই হতে পারে উপভোগ্য।

শান্তিপুর

শান্তিপুরের শ্যামচাঁদ মন্দির রাখুন ভ্রমণতালিকায়। একচালার মন্দিরের কারুকাজ মুগ্ধ করবে।

শান্তিপুরের শ্যামচাঁদ মন্দির রাখুন ভ্রমণতালিকায়। একচালার মন্দিরের কারুকাজ মুগ্ধ করবে। —নিজস্ব চিত্র।

তাঁতের জন্য শান্তিপুরের খ্যাতি। বিখ্যাত এখানকার রাসও। তবে বাংলার পর্যটন মানচিত্রে একপ্রকার ব্রাত্যই রয়ে গিয়েছে গঙ্গার তীরের জনপদটি। রাসের সময়টুকু বাদ দিয়ে শান্তিপুর যে ভ্রমণতালিকায় রাখা যেতে পারে, এমনটা বোধ হয় অনেকেই ভাবতে পারেন না। অথচ জানা যায়, সন্ন্যাস গ্রহণের পরে গঙ্গা পেরিয়ে প্রথম শান্তিপুরেই এসেছিলেন চৈতন্য। শান্তিপুর কিন্তু শুধু চৈতন্যতীর্থই নয়, এখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে স্থাপত্য আর ইতিহাসের নানা উপকরণ। সেই তালিকায় যেমন রয়েছে তোপখানার মসজিদ, ইটের তৈরি আটচালার শ্যামচাঁদ মন্দির, তেমনই আছে অদ্বৈতাচার্যের সাধনক্ষেত্র অদ্বৈতপীঠ। এ ছাড়া রয়েছে গোস্বামী বাড়ি-সহ একাধিক বিগ্রহ বাড়ি, আগমেশ্বরী মন্দির, জলেশ্বরের শিবমন্দির। আর আছে এখানকার তাঁত শিল্প, দিবারাত্র সেখানে ব্যস্ততা থাকে। যে শাড়ি শখ করে কেনেন, সেই শাড়ি তৈরির পিছনে কতটা শ্রম থাকে, চাক্ষুষ করতে পারেন এখানকার তাঁতি পাড়ায়।

বনগাঁয় ইছামতীর পাড়ে মঙ্গলগঞ্জে অবস্থিত নীলকুঠি নিয়ে ইদানীং পর্যটকদের উৎসাহ বেড়েছে। গা ছমছমে পরিবেশে ‘তেনা’-দের যদি সাক্ষাৎ মেলে, এমনই আশায় পা বাড়াচ্ছেন পর্যটকেরা। আসলে এই নীলকুঠি ঘিরে রয়েছে জমজমাট সব ভৌতিক গল্প। শান্তিপুর থেকে ঘুরে আসতে পারেন সেখানেও। দূরত্ব বড় জোড় ৫০ কিলোমিটার হবে।

দিন দুই শান্তিপুরে থাকলে প্রাপ্তি হবে গ্রামীণ পরিবেশের সান্নিধ্য, এখানকার সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানা আর খানিক ঘোরাঘুরি। তিন দিন কাছেপিঠে ঘোরার পরিকল্পনা থাকলে শান্তিপুর মোটেই হতাশ করবে না।

থাকার জায়গা: শান্তিপুরে নদীর ধারে তৈরি হয়েছে একাধিক আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যুক্ত রিসর্ট। যেখানে ঘরোয়া খাবারও মেলে, প্রকৃতির কোলে দু’দিন কাটানোও যায়, আশপাশ ঘুরেও দেখার সাধও মেটে। শান্তিপুরের নিখুঁতি বেশ জনপ্রিয়। এখানে গেলে চেখে দেখতে ভুলবেন না।

কী ভাবে যাবেন?

শিয়ালদহ থেকে শান্তিপুরগামী একাধিক ট্রেন আছে। কলকাতার যে কোনও প্রান্ত থেকেই সড়কপথে শান্তিপুরে আসা যায়।

জলটুঙ্গি

জলটুঙ্গির রূপ রাতেই উপভোগ্য।

জলটুঙ্গির রূপ রাতেই উপভোগ্য। ছবি: সংগৃহীত।

রাজস্থান যাওয়া তো বেশ ঝক্কির! বললেই যাওয়া যায় না। কিন্তু ঘরের কাছেই যদি মেলে এমন এক স্থাপত্য যা রাজপুতানার স্থাপত্যশৈলীর কথা মনে করিয়ে দেয়, তবে তো যাওয়া যেতেই পারে। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের দিগনগরে রয়েছে চাঁদনি জলটুঙ্গি। জ্যোৎস্নারাতে আজও বিস্ময় তৈরি করে এই স্থান। জানা যায়, বর্ধমানের মহারাজা কীর্তিচাঁদ তাঁর রানি রাজরাজেশ্বরীর জন্য রাজস্থানের হাওয়া মহলের আদলে বানিয়েছিলেন এই স্থাপত্য। বাংলার প্রেক্ষাপটে তৈরি স্থাপত্যটি রাজস্থানি দুর্গ বা হাওয়া মহলের মতো বিশাল না হলেও, খুবই সুন্দর। লোকমুখে কথিত, জ্যোৎস্নারাতে এক আঁজলা জল তুললে, তাতে প্রতিফলিত হত চাঁদ! সে কারণেই একে বলা হয় চাঁদনি জলটুঙ্গি। পূর্ণিমারাতে এখানকার সৌন্দর্য দেখার মতো। তবে জলটুঙ্গিতে এখন রয়েছে বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জা। সন্ধ্যা নামলেই সেই আলো জ্বলে ওঠে। মায়াবি পরিবেশ তৈরি হয়। জলটুঙ্গি থেকে বেশি দূরে নয় ওড়গ্রাম। শালের জঙ্গল আর একটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি রয়েছে এখানে। আছে চাষের ক্ষেত। জলটুঙ্গি গেলে ঢুঁ মারতে পারেন সেখানেও।

থাকার জায়গা: জলটুঙ্গির ধারেই বেসরকারি রিসর্ট রয়েছে। সেখানে থাকতে পারেন। থাকার ব্যবস্থা আছে ওড়গ্রামেও।

কী ভাবে যাবেন?

হাওড়া থেকে ট্রেনে কাটোয়া গিয়ে সেখান থেকে গাড়িতে গন্তব্যে পৌঁছোতে পারেন। কলকাতা থেকে স়ড়কপথে জলটুঙ্গির দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। সরাসরি গাড়ি নিয়েও ঘুরে আসতে পারেন।

হাতিবাড়ি

হাতিবাড়িতে আছে এমনই ঘন শালের জঙ্গেল।

হাতিবাড়িতে আছে এমনই ঘন শালের জঙ্গেল। ছবি: সংগৃহীত।

শাল গাছের ঘন বন, নদীর রূপ উপভোগে ছোট্ট ছুটির ঠিকানা হতে পারে ঝাড়গ্রামের হাতিবাড়ি। দিন দুয়েকের ছুটিতে যদি শহরের কোলাহল এড়িয়ে পশু-পাখির ডাক শুনতে চান তবে হাতিবাড়ি হয়ে উঠতে পারে আদর্শ গন্তব্য। এখানে রয়েছে একটি হাতি চলাচলের পথ বা ‘এলিফ্যান্ট করিডর’। ফলে ভাগ্য ভাল থাকলে দেখা মিলতে পারে হাতির পালের। হাতিবাড়র অরণ্য এবং সুবর্ণরেখা দেখার পরেও, ঘোরার ইচ্ছা থাকলে চলে যেতে পারেন চিল্কিগড়। এখানে ৩০০ বছরের পুরনো রাজবাড়ি রয়েছে। ভগ্ন দশার এই রাজবাড়ি বহন করছে কালের চিহ্ন। ঘুরে দেখতে পারেন কনকদুর্গা মন্দির।

থাকার জায়গা: পশ্চিমবঙ্গ বনোন্নয়ন নিগমের অতিথি আবাস রয়েছে হাতিবাড়িতে। শালের জঙ্গলের মধ্যেই অবস্থিত সেটি।

কী করে যাবেন?

ট্রেনে যেতে হলে, হাওড়া থেকে ঝাড়গ্রাম পর্যন্ত এক্সপ্রেস ও লোকাল ট্রেন আছে। ট্রেনে কলকাতা থেকে ঝাড়গ্রামে পৌঁছোতে সময় লাগে কম পক্ষে আড়াই ঘণ্টা। ঝাড়গ্রাম শহর থেকে সড়কপথে গোপীবল্লভপুর ৪২ কিলোমিটার। গোপীবল্লভপুর থেকে সড়কপথে ২২ কিলোমিটার পথ এগোলেই হাতিবাড়ি।

Travel Destinations Weekend Trip
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy