প্রবল গরমে খনিক হিমেল ছোঁয়া পেতে কেউ ভ্রমণ করেন পাহাড়ে, কেউ আবার চিরকালীন সাগর প্রেমিক। তপ্ত বাতাসও তাঁদের কাবু করতে পারে না। কেউ আবার গরম অগ্রাহ্য করে ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজান জঙ্গলে। কারণ, এই গরমেই জাতীয় উদ্যানে সাফারি করলে বাঘের দর্শন মেলার সুযোগ থাকে। উদ্দেশ্যে এবং গন্তব্য যাঁর যে দিকে হোক না কেন, ভুললে চলবে না সময়টি গরমের। সবসময়েই মাথার উপর থাকবে গনগনে সূর্য। এমন মরসুমে বেড়াতে গেলে, কোন বিষয়গুলিতে নজর দেবেন?
পোশাক: গরমের মরসুমে ঠান্ডার জায়গায় বেড়াতে গেলে পোশাক হবে এক রকম, তবে গরমের জায়গা হলে সঠিক পোশাক বাছাই খুব জরুরি। জঙ্গল বা সমুদ্রের ধারে বা শহরাঞ্চলে বেড়াতে গেলে বেছে নিন সুতির বা গরমে পরার মতো আরামদায়ক পোশাক। জঙ্গলের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম খাটে। রোদ থেকে বাঁচতে সঙ্গে রাখুন টুপি এবং রোদচশমা। জঙ্গলে গেলে ফুলহাতা সুতির পোশাক পরুন। যে হেতু জঙ্গল এলাকায় গাছগাছালির থেকেও গায়ে পোকামাকড় উঠে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে তাই হাত এবং পা ঢাকা পোশাক ভাল। রোদ না থাকলেও মাথায় রাখুন টুপি।
সানস্ক্রিন: গন্তব্য পাহাড়, জঙ্গল বা সমুদ্র গন্তব্য যেখানেই হোক না কেন, সানস্ক্রিন জরুরি। চড়া রোদ শুধু ত্বকের বার্ধক্যের কারণ নয়, তা ক্ষতিও করতে পারে।
কখন, কী ভাবে ঘুরবেন: আপনার গন্তব্যস্থলে তাপমাত্রা বেশি থাকলে, দুপুরের রোদের সময়টায় ঘোরাঘুরি এড়িয়ে চলা ভাল। ভোর এবং বিকালের পর থেকে ঘোরা যায় এমন জায়গা বেছে নিতে পারেন। দিনের বেলা ঘুরতে হলে ছায়াঘেরা কোনও স্থান, দুর্গ এমন কিছু পর্যটন স্থল বেছে নিতে পারেন।
জল: ঘোরাঘুরির সময় সঙ্গে পানীয় জল রাখুন। উপকূলবর্তী এলাকা হলে ডাবের জল খেতে পারেন। কাটা ফলের চেয়ে, গোটা ফল বেছে নিন খাওয়ার জন্য। প্রবল গরমের জায়গায় বেড়ানোর পরিকল্পনা থাকলে সঙ্গে ওআরএস বা গ্লুকোজ় রাখা ভাল।
খাবার: তাপমাত্রা বেশি থাকলে পেটখারাপের ভয়ও বাড়ে। বেড়াতে গেলে অসুস্থ হয়ে পড়া কাঙ্ক্ষিত হতে পারে না। রাস্তার জল, খাবার এমন সময় এড়িয়ে যাওয়া ভাল। শরীর ঠান্ডা থাকে, এমন খাবার বা কম তেলমশলাযুক্ত খাবার বেছে নিন।
ওষুধ: অতি অবশ্যই পেটখারাপের ওষুধ সঙ্গে রাখা দরকার। পাশাপাশি, নিয়ে নিন ওআরএস। জ্বর, অ্যালার্জি-সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধও সব সময়েই সঙ্গে থাকা প্রয়োজন।