পাহাড়-সমুদ্র-জঙ্গল নাকি ইতিহাসের গল্প বলা প্রাচীন শহর? বেড়ানোর জায়গা বাছতে বসে এমন প্রশ্ন করলে ইদানীং এ কালের ছেলেমেয়েরা ঠোঁট বাঁকাচ্ছেন। বিশেষত তাঁরা, যাঁরা বেড়ানোর জন্য হাতে ছুটি পান কোনও মতে, তা-ও অল্প দিনের জন্য। ভ্রমণপ্রেমীদের সেই অংশের বক্তব্য, জায়গা যেমনই হোক, দেখার জিনিস যা-ই থাক, হোটেলে একটি সাজানোগোছানো সাঁতার কাটার জায়গা বা সুইমিং পুল অন্তত থাকতে হবে। যাতে সেখানে গা ডুবিয়ে আয়েশ করে কাটানো যায় কিছু অলস সময়। যেমনটা সাধারণ দিনে সম্ভব নয়। যেখানে জলে ভাসতে ভাসতে আকাশ লাল করে সূর্য ডুবতে দেখা যাবে। ছোট ছোট চুমুকে মেজাজ তৈরি করবে কাচের গ্লাসে কেতাদুরস্ত সাজের পানীয়। আর ঠিক এমনই ছুটির সুযোগ দিচ্ছে ‘পুলকেশন’। যার বাংলা তর্জমা করে বলা যেতে পারে জল-ছুটি।
‘পুল’ হল সাঁতারের জলাধার। আর ‘কেশন’ শব্দটি নেওয়া হয়েছে ‘ভ্যাকেশন’ বা ছুটি কাটানো থেকে। যেহেতু সুইমিং পুল দেখেই বেড়ানোর জায়গা বাছা হচ্ছে, তাই ওই নাম। ভ্রমণপ্রেমীদের মধ্যে কিছু দিন আগেও স্টেকেশনের জনপ্রিয়তা বেশি ছিল। পুলকেশন বা ‘জল-ছুটি’ তারই একটি ধরন।
কেন জনপ্রিয় হচ্ছে এই ট্রেন্ড?
ঘুরতে যাওয়া মানে যতটা সম্ভব দেখে নেওয়ার মানসিকতা এখন পুরনো। ইনস্টাগ্রামের যুগে একটি বড় সংখ্যক মানুষ এমন জায়গায় যেতে চান, যেখানে ভাল ছবি উঠবে। আর লটবহর নিয়ে ছুটোছুটির চাপ ছাড়াই কয়েকটা দিন কাটিয়ে দেওয়া যাবে। ছবি তুলে, বই পড়ে বা কেবলই ভাবনায় ডুবে থেকে। পুলকেশনে তার সুযোগ বিপুল। মানসিক বা শারীরিক ক্লান্তিরও জায়গা নেই। আর তাই তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তা বাড়ছে এই বেড়ানোর।
সুদৃশ্য জল-ছুটির বন্দোবস্ত করতে কী কী দেখে নেবেন?
ইনফিনিটি পুল
এই ধরনের পুল মাটির সাধারণ উচ্চতা থেকে বেশ খানিকটা উঁচুতে হয়। সাধারণ হোটেল বা রিসর্টের ছাদে। আর এমন ভাবেই তা তৈরি করা হয়, যাতে মনে হয় জলের পরে কেবল আকাশ বা দিগন্তরেখা রয়েছে। অনেকটা দিকচক্রবালে মেশা অসীম সমুদ্রের অনুভূতি দেয় বলেই ওই পুলের নাম ইনফিনিটি, যার অর্থ অনন্ত বা অসীম। ছবি সুন্দর তোলার জন্য এমন একটি ইনফিনিটি পুল থাকা জরুরি। একান্তই না হলে নানারকম বিশেষ ভাবনায় সাজানো সুইমিং পুলের খোঁজও করতে পারেন।
ফ্লোটিং ব্রেকফাস্ট
ঘুম থেকে উঠেই নেমে পড়ুন জলে। প্রাতরাশ হোক সেখানেই। জলে ভেসে ভেসে ট্রে ভর্তি প্রাতরাশের বিপুল সম্ভার চলে আসবে হাতের কাছে। খাঁটি ভারতীয় লুচি-তরকারি, উপমা, পোহা, দোসা হোক বা কফি-টোস্ট-ওমলেট-সসেজ বিদেশি প্রাতরাশ হোক বা কফি-টোস্ট-ওমলেট-সসেজ-ফলের টুকরি দেওয়া বিদেশি প্রাতরাশ। জল-ছুটিতে এসে এমন একটি প্রাতরাশের ছবি ছাড়া কী চলে? তাই হোটেল বুক করার আগে জেনে নিন সেখানে ফ্লোটিং ব্রেকফাস্ট পরিষেবা রয়েছে কি না।
সাঙ্কেন বার
আক্ষরিক অর্থে জলেডুবে থাকা পানশালা। তবে সত্যিই পানশালা জলে ডুবে থাকে না। বরং পানশালায় পান করতে আসা মানুষজন জলে ডুবে থেকেই হাতের নাগালে বারের টেবিল পেতে পারেন। অর্ডার করতে পারেন পছন্দের পানীয়। পুলকেশনের সম্পূর্ণ মজা নিতে এমন একটি পানশালার খোঁজ নিতে ভুলবেন না।
ক্যাবানা
পুলে নামার পাশাপাশি পুলের ধারে বসে সময় কাটানোর রিসর্ট বা হোটেলগুলিতে খোলামেলা মাথা ঢাকা ছড়ানো জায়গা থাকে। কোথাও সেখানে রাখা থাকে ডেক চেয়ার কোথাও অন্যরকম বসার জায়গা। সুন্দর ভাবে সাজানো এই বসার জায়গাগুলিতে বসে হাতে কোনও পানীয়ের গ্লাস নিয়ে সূর্যাস্ত দেখা যায় বা পছন্দের বইও পড়া যায়। অথবা মাসাজ নেওয়া যায়। মাথা ঢাকা ওই ধরনের বসার জায়গাগুলিকেই বলা হয় কাবানা। যদি পুলকেশনের পরিকল্পনা করেন, তবে অবশ্য রিসর্ট বা হোটেলের কাবানার ছবি দেখে নেবেন।