মন চাইছে বেড়াতে যেতে। কিন্তু ছুটি সংক্ষিপ্ত। সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে আরও দু’টি দিন জুড়ে নিলে কিন্তু দিব্যি হাওয়া বদল হতে পারে। বর্ষা ঢুকে পড়েছে বঙ্গে। মাঝেমধ্যেই বৃষ্টির ধারাপাত মন উদাস করে দিচ্ছে? তালিকায় থাক কলকাতার আশপাশের এমন ঠিকানা যা গাড়ি করে বা লোকাল ট্রেনেই চলে যাওয়া সম্ভব।
বাগদা সৈকত
বাগদার সৈকতে ঘুরে আসতে পারেন ছোট্ট ছুটিতে। ছবি:সংগৃহীত।
ওড়িশা মানেই পুরী নয়। কলকাতা থেকে ঘণ্টা ছয়েক সড়ক পথে পাড়ি দিলে পৌঁছোনো যায় এমন এক সৈকতে যেখানে রয়েছে ঝাউবন। গত কয়েক বছর ধরে নিরালা সৈকতের খোঁজে বেরিয়ে পড়া পর্যটকদের হাত ধরে একটু একটু করে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ওড়িশার ডবলাগড়ির বাগদা বিচ। দু’টি দিন সমুদ্রের ধারে জন কোলাহল থেকে দূরে মন্দ লাগবে না। বাড়তি পাওনা, স্থানীয় লোকজনের হাতের ঘরোয়া রান্না।
বাগদা সৈকতের আশপাশে থাকার একাধিক জায়গা রয়েছে। এখান থেকে ঘুরে নিতে পারেন ৩৬ কিলোমিটার দূরে ক্ষীরচোরা গোপীনাথ মন্দির, ৪০ কিলোমিটার দূরে জগন্নাথ মন্দির, ৫৪ কিলোমিটার দূরে নীলগিরি হ্রদ। চাইলে চলে যেতে পারেন পঞ্চলিঙ্গেশ্বর এবং কুলডিহা অভয়ারণ্যেও। ছোট ছোট টিলা রয়েছে পঞ্চলিঙ্গেশ্বরে। গাছপালায় ভরা এই স্থান বেশ মনোরম।
কোথায় থাকবেন?
ডবলাগড়িতে একাধিক থাকার জায়গা রয়েছে। সৈকতকে কেন্দ্র করে ঝাউবনের পাশে তৈরি হয়েছে একাধিক পরিবেশবান্ধব স্টে। তাঁবুতে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। থাকা-খাওয়া নিয়ে প্যাকেজ হয় এখানে।
কী ভাবে যাবেন?
বালেশ্বর হয়ে যেতে হয় ডবলাগড়ি। ট্রেনে বালেশ্বর পৌঁছে ৩০-৩৫ কিলোমিটার পথ গাড়ি ভাড়া করে পৌঁছে যেতে পারেন। কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও স্থান থেকে সরাসরি সড়কপথেও যাওয়া যাবে। দূরত্ব কলকাতা থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার।
বড়ন্তি
ভ্রমণ তালিকায় রাখতে পারেন বড়ন্তি। বর্ষায় বেশ উপভোগ্য এই স্থান। ছবি: সংগৃহীত।
পুরুলিয়ার বড়ন্তিও বর্ষায় ঘোর সবুজ, সতেজ এবং সুন্দর। পাঞ্চেৎ হয়ে গেলে, পাঞ্চেৎ জলাধারও দেখা নেওয়া যায়। সাঁওতালদের নিয়ে একটি ছোট্ট গ্রাম বড়ন্তি। চারদিকে পাহাড়ের হাতছানি। পায়ের তলায় লালমাটি, আর চারপাশ পলাশের রঙে মোড়া। শাল, পিয়াল, পলাশ, আকাশমণি, মহুয়া গাছের জঙ্গলে ঘেরা লালমাটির পথ ধরে যেতে মন্দ লাগবে না। এই জায়গা ক্লান্তিময় জীবনে এনে দিতে পারে ক্ষণিকের স্বস্তি। মুরাডি পাহাড়ের কোল ঘেঁষে রয়েছে বড়ন্তি হ্রদ। সূর্যাস্ত এই স্থান থেকে ভারি মনোরম দেখায়। ঘুরে নিতে পারেন গড় পঞ্চকোটও।
কী ভাবে যাবেন?
হাওড়া, শিয়ালদহ কিংবা কলকাতা স্টেশন থেকে যে কোনও ট্রেনে আসানসোল। সেখান থেকে আদ্রা লাইনে তিনটি স্টেশন পরেই মুরাডি। স্টেশনে নেমে গাড়ি কিংবা রিকশায় চেপে ছয় কিলোমিটার দূরে বড়ন্তি পৌঁছোনো যায়। আবার আসালসোল থেকে সরাসরি গাড়ি ভাড়া করে যাওয়া যায়। কলকাতা থেকে গাড়িতেও যাওয়া যেতে পারে।
কোথায় থাকবেন?
বড়ন্তিতে বেশ কয়েকটি থাকার জায়গা রয়েছে। হোটেল এবং রিসর্ট মিলবে। বড়ন্তিতে ঘর না পাওয়া গেলে পাঞ্চেতের কাছে থাকার জায়গা মিলবে।
শুশুনিয়া
বাঁকুড়ার শুশনিয়া পাহাড়। ছবি:সংগৃহীত।
বাঁকুড়ার শুশুনিয়া পাহাড়ও হতে পারে ছোট্ট ছুটির গন্তব্য। বর্ষার যে কোনও সময় দিন তিনেক ছুটির ব্যবস্থা করতে পারলে দু’দিন টিলা পাহাড়ের কোলে জিরিয়ে নিতে পারবেন। বর্ষার পাহাড় ঘন সবুজ, সজীব। পাহাড়ের কোলে আরামদায়ক থাকার বন্দোবস্ত হয়েছে। রয়েছে রিসর্টও। ১২০০ ফুট উচ্চতার এই পাহাড়ের রয়েছে পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন, প্রাচীন শিলালিপি। শিলালিপিটি রাজা চন্দ্রবর্মণের সময়ের বলে অনুমান করা হয়। পাহাড়ের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে বয়ে গিয়েছে গন্ধেশ্বরী নদী।
কোথায় থাকবেন?
সরকারি এবং বেসরকারি শুশুনিয়া পাহাড়ের আশপাশে একাধিক থাকার জায়গা রয়েছে।
কী ভাবে যাবেন?
হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে বাঁকুড়া বা ছাতনা স্টেশনে নামতে হবে। বাকি পথ বাস, অটো করে যাওয়া যেতে পারে। তবে গাড়ি ভাড়া করে নিলে সুবিধা হবে। কলকাতা থেকে দূরত্ব খুব বেশি নয়। ২২০ কিলোমিটারের মতো। গাড়িতে ৫-৬ ঘণ্টাতেই পৌঁছোনো যাবে।