সুন্দরবনের জঙ্গলে ফের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের হামলা। মধু সংগ্রহ করতে যাওয়া এক মউলেকে জঙ্গলের ভিতরে টেনে নিয়ে গেল বাঘ। ঘটনাটি ঘটেছে সুন্দরবনের কলসদ্বীপ সংলগ্ন জঙ্গলে। বনকর্মীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও ভানু ভক্তা নামে ওই মউলের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনি এখনও বেঁচে আছেন কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।
আক্রান্ত ভানু দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের পশ্চিম দ্বারিকাপুরের বাসিন্দা। অন্য মউলেদের সঙ্গে তিনিও গিয়েছিলেন কলসদ্বীপ লাগোয়া জঙ্গলে। ভানুর সঙ্গে ছিলেন আরও ১১ জন। দলে তিন মহিলাও ছিলেন। বৈধ অনুমতিপত্র নিয়েই মধু সংগ্রহে গিয়েছিলেন তাঁরা। কলসদ্বীপের কাছে নৌকা থামিয়ে মধু সংগ্রহের জন্য জঙ্গলের ভিতরে প্রবেশ করে মউলেদের দল। সকলে যখন মৌচাকের সন্ধানে ব্যস্ত, সেই সময়ে আচমকা ভানুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, ভানুর ঘাড়ে কামড় বসায় বাঘটি। তার পর তাঁকে টেনে নিয়ে যায় জঙ্গলের ভিতরে।
প্রায় ১২ বছর আগে ভানুর স্ত্রী রুমকি ভক্তাও বাঘের কামড়েই মারা যান। কাঁকড়া সংগ্রহ করতে জঙ্গলে গিয়েছিলেন রুমকি। সেই সময়েই বাঘের হামলার মুখে পড়েন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, সে সময়ে ঘটনার দু’দিন পরে উদ্ধার হয়েছিল রুমকির দেহ। এ বার জঙ্গল থেকে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের মুখে পড়লেন ভানুও।
আরও পড়ুন:
ভানুর সঙ্গীরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। গ্রামে ফিরে ভানুর সঙ্গীরা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, তাঁরা ভানুর চিৎকার শুনে সে দিকে ছুটে যান। তত ক্ষণে বাঘ হামলা করে ফেলেছে ভানুর উপর। তাঁরা হাতে থাকা লাঠি দিয়ে বাঘকে তাড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বাঘটি বার বার তাঁদের দিকে তেড়ে যেতে থাকে। ফলে লাঠি দিয়ে বাঘকে তাড়ানো এবং ভানুকে বাঁচানোর চেষ্টা বিফলে যায়। এর পর নিমেষের মধ্যে ভানুকে টেনে নিয়ে জঙ্গলের ভিতরের দিকে চলে যায় বাঘটি। পরে ঘটনার খবর পেয়ে বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। তাঁরা খোঁজাখুঁজিও শুরু করেন। তবে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত ভানুর কোনও সন্ধান মেলেনি।