Advertisement
E-Paper

কল্পনায় নয়, বাস্তবেই আছে গুমরো পাহাড়, কোথায় তার সাকিন? ঘুরে নিন বর্ষায়

বর্ষায় ঘুরে আসতে পারেন গুমরো পাহাড়। সবুজ প্রকৃতি দোসর হবে। গতিময় জীবনে দু’দণ্ড থমকে যাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেবে এই জাযগা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ১০:০৬

ছবি: সংগৃহীত।

বর্ষা এলেই খোঁজ শুরু হয় পাহাড়, নদী, ঝর্না, জঙ্গলের। কেউ চান ডুয়ার্সের ঘন সবুজে ডুব দিতে, কারও পছন্দ সাগর সৈকতে সঙ্গীর হাত ধরে রিমঝিম বৃষ্টিতে ছুটি উপভোগ করা।

তবে হাতের কাছেই আছ আরও এক ঠিকানা। তার নাম গুমরো পাহাড়। এমন নাম শুনলে, অরণ্যদেবের কল্পকাহিনি মনে পড়তে পারে। মনে হতে পারে, আফ্রিকা মুলুকের কথা। কিন্তু, তার বাস্তব অবস্থান ঝাড়খণ্ডের দুমকা জেলা থেকে ৩৬ কিলোমিটার দূরে।প্রকৃতি এখানে অকৃত্রিম। বর্ষায় ঘন সবুজ। ঢেউখেলানো ভূমির বুক চিরে কালো পিচের রাস্তা। সেই রাস্তাই পৌঁছেছে পাহাড়তলে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২১৭ মিটার উঁচুতে অবস্থিত এই পাহাড়ে, পর্বতারোহণের কৌশলও শেখানো হয়। পড়ুয়াদের নিয়ে হয় ক্যাম্পিং।

শীতকালে এই পাহাড়তলিতে পিকনিকের আসর বসে। বাকি সময় এই পাহাড় থেকে যায় একলা। পথচলতি কেউ হয়তো অবহেলায় সেই সৌন্দর্য চাক্ষুষ করেন।

গুমরো পাহাড় সেই ঠিকানা, যেখানে পর্যটন নিয়ে এখনও কেউ মাথা ঘামাননি। ফলে কেয়ারি করা বাগান বা থাকার জন্য রিসর্ট তৈরি হয়নি। এখানে বেড়াতে যান মূলত স্থানীয়েরা। তাঁদের বেশির ভাগই আসেন বাইকে। অত্যুৎসাহী কয়েক জন বাঙালি পর্যটক বা ট্রেকিং নিয়ে উৎসাহীরা মাঝেমধ্যে আসেন রোমাঞ্চের সন্ধানে।

গুমরো পাহাড়ের অনেক আগে থেকেই প্রকৃতির রূপের বাহার চোখে পড়ে। শীতকালে দিনের বেলা আবহাওয়া থাকে মনোরম। তবে সেই সময় বর্ষার শ্যামলিমা, সজীবতা অমিল।

মোটামুটি ঘণ্টাখানেকেই পাহাড়ে চড়া যায়। আশপাশে কোনও দোকানপাট, লোকালয়, কিচ্ছু নেই। বুনো ঝোপের মাঝ দিয়ে গিয়েছে চড়াই রাস্তা। তবে এই পথের প্রতিটি বাঁকই উপভোগ্য। লাল শক্ত মাটিতে কাদা হওয়ার বিশেষ ভয় নেই। শুধু মুষলধারে বৃষ্টি হলেই যা বাড়তি সতর্কতা দরকার।

পাহাড়ে চড়তে গেলে কখনও ক্লান্তি আসতে পারে। তবে সেই সব ঘুচে যাবে পাহাড়ের মাথায় পৌঁছলে। পাহাড়ি চটিতে বসে দেখা যায় দূর-দূরান্ত। বর্ষার সেই সবুজে আটকে যায় দুই চোখ। সেই রূপ যেন ডুব দেওয়ার জন্যই।

দুমকা থেকে এক দিনে ঘুরে নেওয়া যায় গুমরো পাহাড়। আশপাশে পানীয় জল বা খাবারের জোগান নেই। তাই কিছু খাবার, জল সঙ্গে রাখাই ভাল। দুপুর বা বিকালের মধ্যে গুমরো পাহাড় ঘুরে দুমকা থেকে প্রায় ৪১ কিলোমিটার দূরে ম্যাসাঞ্জোর ড্যামের কাছে চলে আসতে পারেন। ম্যাসাঞ্জোরে থাকার বেশ কয়েকটি জায়গা রয়েছে।

পাহাড় ঘেরা ম্যাসাঞ্জোর বর্ষায় আরও সুন্দর। পাশেই রয়েছে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। বর্ষার মরসুমে সেখানে দেখতে পাওয়া যায় প্রবল জলের তোড়। শব্দ শোনা যায় দূর থেকে।

কী ভাবে যাবেন?

হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে সিউড়ি বা সাঁইথিয়া গিয়ে, সেখান থেকে বাকি পথটা গাড়িতে যাওয়া যায়। সিউড়ি থেকে দুমকার দূরত্ব প্রায় ৬৩ কিলোমিটার। সেখান থেকে গুমরো পাহাড় আরও ৩৬ কিলোমিটার। সরাসরি গাড়িতেও যাওয়া যায়।কলকাতা থেকে গুমরো পাহাড়ের দূরত্ব ২৮০ কিলোমিটারের মতো।

কোথায় থাকবেন?

গুমরো পাহাড়ের আশপাশে তেমন থাকার জায়গা নেই। সেখানে ঘুরে সাঁইথিয়া বা সিউড়ি চলে আসতে পারেন। না হলে থাকতে পারেন মাসাঞ্জোরে। পশ্চিমবঙ্গ যুব আবাসের অতিথি নিবাস আছে সেখানে। থাকতে পারেন ঝাড়খণ্ড পর্যটন বিভাগের বাংলোতেও।

Offbeat travel destinations Travel Destination Jharkhand
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy