Advertisement
E-Paper

প্রকৃতির সঙ্গ চাই! শহর ছাড়িয়ে কোথায় পাড়ি দেবেন? দু’দিনে ঘোরার ৩ ঠিকানা জেনে নিন

ঘুম থেকে ওঠা, ছকে বাঁধা রুটিনে ক্লান্ত? প্রকৃতির সান্নিধ্য ভুলিয়ে দিতে পারে কষ্ট। তল্পি-তল্পা গুটিয়ে বেরিয়ে পড়ুন এই বেলা। কাছেপিঠে রয়েছে শীতে ভ্রমণের তিন ঠিকানা।

শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৫
কানাইচট্টা সৈকত।

কানাইচট্টা সৈকত। ছবি: সংগৃহীত।

শহুরে জীবন, একঘেয়ে অফিস! মুক্তির সন্ধান দিতে পারে শুধুই প্রকৃতি। পরিকল্পনা ছাড়া ঘুরে আসা যায় এমন জায়গার খোঁজ করছেন? তা হলে দেরি কেন, ব্যাগ গুছিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন। দিন দুয়েকেই ঘুরে আসার তিন ঠিকানা জেনে নিন।

গুড়গুড়িপাল: শাল-সেগুনে ঘেরা অরণ্যের অপূর্ব শোভার শরিক হতে চলুন পশ্চিম মেদিনীপুরের গুড়গুড়িপালে। মূলত শালের এই বনে মাঝেমধ্যে দেখা মেলে সেগুন, আকাশমণিরও। খানিক দূর দিয়ে বয়ে গিয়েছে কাঁসাই নদী। এখানেই রয়েছে একটি ইকো পার্কও। মেদিনীপুর শহর থেকে যার দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার।

শুধু ইকো পার্ক দর্শন নয়। এই জায়গায় যাওয়া যায় প্রকৃতির সঙ্গে একলা হতে, যাওয়া যায় নিঝুম দুপুরে গাছেদের সঙ্গ পেতে, প্রিয়জনের সঙ্গে কাঁসাইপারে বসে কিছু ভাললাগা ভাগ করে নিতে, নদীর পারে সূর্যাস্ত দেখতে। এখানে আনাগোনা হরেক পাখির। পক্ষীপ্রেমী হলে, ক্যামেরা কাঁধেই কাটিয়ে দিতে পারবেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতেও ঢুঁ মারতে পারেন।

কী ভাবে যাবেন?

হাওড়া থেকে মেদিনীপুর চলুন ট্রেনে। সেখান থেকে গাড়ি বুক করে ঘুরে নিন গুড়গুড়ি পালের অরণ্য। গাড়িতে কলকাতা থেকেও যেতে পারেন। ঘণ্টা চারেকের পথ।

কোথায় থাকবেন?

গুড়গুড়িপালে বেসরকারি উদ্যোগে তৈরি একটি নেচার ক্যাম্প রয়েছে। সেখানে জঙ্গলের মধ্যে তাঁবুতে থাকার ব্যবস্থা। এ ছাড়া আর কোনও থাকার জায়গা নেই। তবে মেদিনীপুর শহরে ছোট-বড় থাকার জায়গা পেয়ে যাবেন।

কানাইচট্টা: দিঘার অদূরে কানাইচট্টা সৈকত প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানোর আর এক ঠিকানা।কাঁথি বাস স্ট্যান্ড থেকে খানিক দূরে দরিয়াপুর গ্রামেই রয়েছে তার ঠিকানা। সৈকটির নাম কানাইচট্টা। এখনও সে ভাবে পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে জনপ্রিয় হয়নি জায়গাটি। বরং ভ্রমণপিপাসু কিছু মানুষ নিরালা প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে যেতে শুরু করেছেন সেখানে। থাকার জায়গা বলতে একটি মাত্র ‘বিচ ক্যাম্প’। গাছপালা ঘেরা উন্মু্ক্ত পরিবেশে তাবুঁতে থাকার ব্যবস্থা। তবে গুঁড়ি মেরে ঢুকতে হবে না তাতে। দিব্যি দাঁড়ানো যায়। খাট-বিছানা সবই আছে। আতিশয্য না থাকলেও প্রয়োজনের সবটুকুই মিলবে এখানে। বাড়তি পাওনা, গাছের ছায়া, উন্মুক্ত পরিবেশ জমিয়ে মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি খাওয়া।এখানে এলে দেখা যায় ট্রলারের আনাগোনা। পড়ন্ত বিকেল প্রিয় মানুষটির সঙ্গে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়া যায় সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে।

চাইলে একটা অটো ভাড়া করে চলে যেতে পারেন দরিয়াপুর বাতিঘরে। টিকিট কেটে ঢুকতে হয় ভিতরে। এখান থেকে চলে যেতে পারেন পেটুয়াঘাট। সেখান থেকে ভেসেলে রসুলপুর নদী পেরিয়ে পৌঁছনো যায় হিজলি শরিফে।

কী ভাবে যাবেন?

ট্রেনে এলে কাঁথি স্টেশনে নেমে অটো ভাড়া করে পৌঁছতে হবে কানাইচট্টা সৈকতে। সড়কপথে এলে কলকাতা থেকে দিঘাগামী বাস ধরে নামতে হবে কাঁথির রূপশ্রী বাইপাস। সেখান থেকে অটো ভাড়া করে কাঁথি সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড আসতে হবে।এ ছাড়া রপশ্রী বাইপাস থেকে পেটুয়াঘাটের ট্রেকার পাওয়া যায়।তাতে চেপেই আসতে হবে দরিয়াপুর। সেখান থেকে টোটো করে কানাইচট্টা সমুদ্র সৈকত। গাড়িতেও কলকাতা থেকে সরাসরি এই পথ ধরে আসতে পারেন সৈকতে।

কোথায় থাকবেন?

সৈকতের আশপাশে থাকার জন্য একটি বেসরকারি ক্যাম্প রয়েছে থাকার জন্য। বড় তাঁবুতে থাকার ব্যবস্থা। আতিশয্য না থাকলেও প্রয়োজনের সব কিছু মিলবে সেখানে।লাইট হাউসের পাশেও রয়েছে বেসরকারি রিসর্ট।

বড়দি পাহাড়: পাহাড় না বলে টিলা বলাই ভাল। চারপাশে শাল-মহুয়ার বন। খানিক দূর দিয়ে বয়ে গিয়েছে কংসাবতী নদী। অরণ্য পথে হাঁটলে পা জড়িয়ে ধরে বুনো লতাপাতা। পাখিদের ডাকে সেই পরিবেশ আরও সুন্দর হয়ে ওঠে। বাঁকুড়ায় গরম বড় মারাত্মক। তার চেয়ে শীতের মরসুমে রোদে ঘোরা আরামদায়ক।

কেউ বলেন, স্থানীয় বড়দি গ্রামের নামেই এর নাম। আছে ভিন্ন মতও। বড়দি পাহাড় থেকে কংসাবতীর রূপ বড় সুন্দর। পাহাড়ে ওঠার সময় চোখে পড়ে নদী। উঁচু থেকে তা আরও সুন্দর দেখায়। এক বার পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে পারলে, চোখের সামনে বদলে যায় দৃশ্যপট।এখানে থেকে ঘুরে নিতে পারেন মুকুটমণিপুর। আবার এখানে ঘুরে মুকুটমণিপুরে গিয়েও রাত্রিবাস করতে পারেন।

কী ভাবে যাবেন?

কলকাতা থেকে বড়দি পাহাড়ের দূরত্ব মোটামুটি ২১০ কিলোমিটারের মতো। ট্রেনে হাওড়া থেকে বাঁকুড়া এসে বাকি পথটা গাড়ি ভাড়া করে চলে আসতে পারেন।

Tour and Travels tourism
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy