পাতা ঝরার মরসুম শেষে গাছে এসেছে ফুল। অশোক-পলাশে রাঙা হতে শুরু করেছে প্রকৃতি। আগামী সপ্তাহেই রঙের উৎসব। সপ্তাহ শেষে আর দোলের ছুটি জুড়ে চলুন বসন্ত প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে। গন্তব্য হোক শিউলিবনা।
ভিড়ভাট্টা নয়, বরং একেবারে নিজের মতো করে দু’দিন প্রকৃতির আঙিনায় আর আগুনরঙা পলাশের সান্নিধ্যে কাটাতে চাইলে শুশুনিয়া পাহাড়ের কোলে ছোট্ট গ্রামটি হতে পারে বসন্তের ঠিকানা। এ গ্রামে আপনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে অতীতে। মাচা ভর্তি শাকসব্জি, মাটির নিকোনো উঠোনে ছাগলছানার দৌড়োদৌড়ি, দাওয়াও বসে কাঠের জ্বালে মাটির হাঁড়িতে রান্না— এই সব ছবি এখানে এখনও জীবন্ত। প্রকৃতি এখানে নিষ্কলুষ, উপুড়হস্ত। আর যদি অলস দিনযাপনই লক্ষ্য হয়, চলে যাওয়া যায় খানিক দূরের গাংদুয়া জলাধারেও।
শিউলিবনার আশপাশে পাবেন এমন অনেক মাটির বাড়ি, যার দেওয়ালে আছে কারুকাজ। ছবি: সংগৃহীত।
শিউলিবনার অদূরেই শুশুনিয়া। পাহাড়কে বেড় দিয়ে রেখেছে অজস্র পলাশ গাছ। বসন্তের আগমনে রাস্তার দু’পাশের সেই গাছগাছালি ভরে ওঠে ফুলে। বসন্তপ্রকৃতির এমন শোভা দেখতেই আসা যায় এখানে। খুব বেশি নয়, হাতে দু’তিন দিন থাকলেই যথেষ্ট। প্রস্তুতিরও বিশেষ দরকার নেই। ট্রেনের টিকিট না পেলে বাস অথবা গাড়ি নিয়ে ৬-৭ ঘণ্টাতেই পৌঁছোনো যায়।
বসন্তের বাঁকুড়ায় এমনই শোভা পায় পলাশ। ছবি: পার্থ দে।
এক বার সেখানে গেলে ঘুরে ঘুরে দেখতে পারেন শুশুনিয়া পাহাড়, রাজা চন্দ্রবর্মণের প্রাচীন শিলালিপি। দুপুর দুপুর বেরিয়ে পড়ুন শুশুনিয়া পাহাড়ে। হাঁটু-গোড়ালিতে ব্যথা না থাকলে, চড়াই বেয়ে উঠতে শুরু করুন। দেখতে পাবেন পাথরের গায়ে আবছা হয়ে যাওয়া শিলালিপি। সূর্য যখন আকাশ রাঙিয়ে ডুব দেবে, সেই সময় পাহাড়েই থাকলে, সাক্ষী হতে পারবেন এক রোম্যান্টিক বিকেলের।
আরও পড়ুন:
দর্শনীয় আর কী
শিউলিবনা থেকে গাংদুয়া জলাধার প্রায় ৪০ কিলোমিটার। গাড়ি নিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টায়। স্থানীয় এলাকায় চাষের জন্য জলের চাহিদা মেটাতে শালী নদীর উপর জলাধার তৈরি হয়েছে। সবুজ প্রকৃতির মধ্যে গাংদুয়ার রূপ ক্রমশই পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।
গাংদুয়া ঘুরে চলে যান ভরতপুর। শিউলবনার আশপাশে একাধিক আদিবাসী গ্রাম রয়েছে। তারই মধ্যে কিছু গ্রামে বাস শিল্পীদের। ভরতপুরের পটচিত্রে বিখ্যাত। নিখুঁত তুলির টানে কাগজ, ব্যাগে ছবি আঁকেন এখানকার গ্রামবাসীরা। উৎসাহী পর্যটক পেলে তাঁরাও পসরা সাজিয়ে বসান, দেখান, গল্প করেন। এই গ্রামের মাটির বা ইটের দেওয়ালের বাড়িগুলিতেও রয়েছে গ্রামবাসীদের শৈল্পিক নিদর্শন। দেওয়াল সেজেছে রকমারি ছবিতে।
ঘুরে নিতে পারেন বিসিন্দা পাহাড়-ইকোপার্ক সহ আরও কিছু দর্শনীয় স্থান। শুশুনিয়া পাহাড়ের পাথরের কাজও জনপ্রিয়। এদিক-ওদিক ঘুরতেই পেয়ে যাবেন এমন জিনিসপত্র। কেনাকাটাও সারতে পারেন এখানে।
দোলে যে গ্রামবাসীরা তেমন কিছু উৎসব করেন, এমন নয়। তবে এখানকার হোম স্টে গুলিতে থাকলে, তাঁরা পর্যটকদের জন্য আদিবাসী নাচ এবং অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দেন।
কোথায় থাকবেন?
শিউলিবনায় দু’টি হোম স্টে রয়েছে। গ্রামের পরিবেশ উপভোগ করতে হলে এখানে থাকাই ভাল। শুশুনিয়া পাহাড় এলাকাতেও রয়েছে থাকার ব্যবস্থা।
কী ভাবে যাবেন?
শিউলবনা পৌঁছোনোর একাধিক উপায় আছে। গাড়িতে সরাসরি আসতে পারেন। কলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে বর্ধমান, পানাগড়, দুর্গাপুর, ছাতনা হয়ে শিউলিবনা। ট্রেনে বাঁকুড়া বা রানিগঞ্জ স্টেশনে নেমে সেখান থেকে গাড়িতে বাকি পথ আসতে পারেন। কলকাতা থেকে এলে ধর্মতলাতেই ছাতনা বা বাঁকুড়া আসার বাস পেয়ে যাবেন।