Advertisement
E-Paper

আইজল-চাম্ফাই-থেনজোয়াল-লুংলেই-রেইক

ঘরের বেশ কাছেই। অথচ, কত যেন দূরের। সেই দূরত্ব এ বার ঘুচিয়ে বেড়িয়ে আসুন মিজোরাম। অনিন্দ্যসুন্দর প্রকৃতি আপনার হাতের নাগালে।ঘরের বেশ কাছেই। অথচ, কত যেন দূরের। সেই দূরত্ব এ বার ঘুচিয়ে বেড়িয়ে আসুন মিজোরাম। অনিন্দ্যসুন্দর প্রকৃতি আপনার হাতের নাগালে।

শ্রীমা সেন মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৯ জুলাই ২০১৭ ২২:৪৭
রিহদিল লেকে মনের সুখে স্থানীয় বালক।

রিহদিল লেকে মনের সুখে স্থানীয় বালক।

উত্তর-পূর্ব ভারতের সপ্তকন্যার অন্যতম মিজোরাম। মিজোরাম শব্দের অর্থ ‘পাহাড়ি মানুষের দেশ’। মনকাড়া সবুজ প্রকৃতি, সদাহাস্যময় মানুষজন, দূষণহীন পরিবেশ এই রাজ্যের সম্পদ। খানিকটা অজ্ঞতার কারণেই এ সুন্দরী আজও পর্যটকদের কাছে অধরা। সমস্ত ভয়-ভাবনার ইতি ঘটিয়ে এক বার পৌঁছে গেলে প্রাপ্তির ঝুলিটা ভরবে। অপ্রাপ্তির খাতাটা শূন্যই থেকে যাবে।

আইজল: কলকাতা থেকে জেট এয়ারওয়েজ, এয়ার ইন্ডিয়া বা স্পাইস জেটের বিমান পৌঁছে দেবে আইজলের নিকটবর্তী বিমানবন্দর লেংপুইতে। আইজল থেকে দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার। পাহাড়ের গায়ে অনেকটা এলাকা জুড়ে শহরের পরিধি।

আরও পড়ুন: রামধনু আর মেঘের টানে এই শ্রাবণে যোগপ্রপপাত

চোখের সামনে গোটা আইজল শহর

আইজলের অর্থ ‘ফলের বাগান’। কিছু বেসরকারি হোটেল থাকলেও সরকারি চালতালাং টুরিস্ট লজ বেশ ভাল। দ্রষ্টব্যের তালিকায় আছে সলোমনস চার্চ এবং কেডি’স প্যারাডাইস। সোম থেকে শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা।

দেখতে ভুলবেন না আইজলের অন্যতম আকর্ষণ কেডি’স প্যারাডাইস

চাম্ফাই: ইন্দো-মায়ানমার সীমান্তবর্তী শহর চাম্ফাই আইজল থেকে সড়কপথে ১৮৫ কিলোমিটার। গোটা পথটাই পাহাড়ি। কোথাও বনানী, কোথাও বা জনপদ। সেলিং, তুইরিনি, কেইফাং, কাওয়াকুলহ, খাওয়াজল পেরিয়ে চাম্ফাই পৌঁছতে সূর্য পাটে চলে যাবে। অর্কিডে ঘেরা টুরিস্ট লজটি বেশ ভাল। কর্মীরাও আন্তরিক। এখানে দু’রাত থাকা প্রয়োজন। চাম্ফাই থেকে ২৮ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে জোখাওথার শহর। বয়ে চলেছে টুয়াই নদী।

আরও পড়ুন: ভুজ-লিটল রণ-পাটন-বদোদরা

অপরূপ প্রকৃতি

সেই নদীর উপরে বেইলি ব্রিজ। দুই প্রতিবেশী দেশের মাঝের যোগচিহ্ন। এই ব্রিজ পার হলেও মায়ানমারের প্রবেশদ্বার। এই ব্রিজ পেরিয়ে বিনা পাসপোর্টে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি মেলে। সীমান্তের ইমিগ্রেশন অফিসটিতে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণস্বরূপ যে কোনও একটি সচিত্র পরিচয়পত্র জমা রাখা বাধ্যতামূলক। পাঁচ কিলোমিটার পথের শেষে অপূর্ব নৈসর্গের মাঝে রিহদিল হ্রদ। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, মৃত মানুষের আত্মা এই পবিত্র হ্রদের জলে স্নান সেরে স্বর্গের পথে পাড়ি দেয়।

পাহাড়ে ঘেরা সুন্দরী রিহদিল হ্রদ

থেনজোয়াল: ঝর্নার দেশ থেনজোয়াল। এখানকার সরকারি ট্যুরিস্ট লজটির অবস্থান চমত্কার। অবসরযাপনের জন্য অন্তত দিন দু’য়েক থাকা দরকার। একটা দিন কাটুক ঝর্নার সান্নিধ্যে। অন্য দিনটি একান্ত ব্যক্তিগত আলাপচারিতায়। গাড়ির রাস্তা ছেড়ে পায়ে হেঁটে তিন কিলোমিটার ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে পৌঁছতে হবে ভ্যানতানাং ফলস্‌-এ। সূর্যাস্তের সন্ধিক্ষণে পৌঁছে ওয়াচ টাওয়ারের দখল নিন। মন ক্যামেরায় চিরস্থায়ী হবে কমলা রঙে মাখামাখি হওয়া রুপোলী ধারার সাবলীল পতন।

ভ্যানতানাং-এর ওয়াচ টাওয়ার থেকে সূর্যাস্ত দেখা

আর এক ঝর্না তুই রিও। ঘন বনের পথ নয়। এ বার পিচ্ছিল সোপান। ফার্ন, অর্কিডে মোড়া দেওয়াল ধরে নেমে আসা একদম সোজা ঝর্নাতলায়। তবে নির্জনে নয়। মিজো তরুণ-তরুণীর যৌবনের জয়গানে সরগরম। স্নান, নিজস্বী বিলাস সবই চলছে।

লুংলেই: দক্ষিণ-মধ্য মিজোরামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর লুংলেই। আইজলের ১৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান। নামের অর্থ ‘পাথুরে সেতু’। পর্যটক আকর্ষণের প্রধান কারণ এর অনাবিল প্রকৃতি।

রেইক: আইজলের ১২ কিলোমিটার দূরত্বে রেইক। এখানে ঐতিহ্যবাহী মিজোগ্রামের দেখা মেলে। বাঁশ-কাঠের তৈরি ঘরবাড়ি স্মৃতির পাতায় অমলিন থাকবে দীর্ঘ দিন। রেইক-এর সরকারি টুরিস্ট লজে থাকা যায়। চাইলে আইজল থেকেও ঘুরে আসা যায়।

পাহাড়ের গায়ে শোভা বাড়াচ্ছে নাম না জানা অর্কিড

জরুরি কথা: মিজোরাম যাওয়ার জন্য ইনার লাইন পারমিট লাগে। দু’কপি পাসপোর্ট ছবি এবং ভোটার/আধার কার্ডের প্রত্যয়িত নকল-সহ নির্দিষ্ট আবেদনপত্রে আবেদন করতে হবে বালিগঞ্জের মিজোরাম হাউজে। সাত দিনের পারমিটের জন্য লাগবে ১২০ টাকা।

জেট এয়ারওয়েজ, এয়ার ইন্ডিয়া এবং স্পাইস জেটের বিমান কলকাতা থেকে আইজলকে যুক্ত করেছে আকাশপথে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিমানগুলি যাত্রা শুরু করে। তবে প্রস্থান সময় পরিবর্তন সাপেক্ষ। বিমানে মোটামুটি এক ঘণ্টা সময় লাগে।

লজ বুকিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত নম্বরে যোগাযোগ করুন অন্তত মাস দু’য়েক আগে।

চালডালাং টুরিস্ট লজ: (০৩৮৯) ২৩৪ ১০৮৩/৯৪২১

চাম্ফাই টুরিস্ট লজ: ৯৪৩৬৩৬০৩৩৯

থেনজোয়াল টুরিস্ট লজ: ৯৬১২০৬৫৫২৭

লুংলেই টুরিস্ট লজ: (০৩৭২) ২৩৪ ২০১৩/৮৭৩১০/৭০৪৫২

গাড়ির জন্য কথা বলতে পারেন: (০৩৮৯) ২৩০ ০০৬৬ বা (০৩৮৯) ২৩২ ৩৫৮৪ নম্বরে। সুমোর দেখা বেশি মেলে এখানে। দিন প্রতি গাড়ির খরচ ৩৫০০ থেকে ৪৫০০ টাকা (তেল ছাড়া)। পর্যটক মরসুমে খরচ বাড়তে পারে।

(লেখক পরিচিতি: পেশায় ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার। দীর্ঘ ১৮ বছর তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থায় চাকরি করেছেন। তবু, শ্রীমার প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় নেশা ভ্রমণ, ভ্রমণ ও ভ্রমণ। বেড়ানোর লেখালেখির শুরু ২০০৪ থেকে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিয়মিত ভ্রমণ কাহিনি লেখেন। ঐতিহাসিক স্থানমাহাত্ম্য তাঁকে বার বার টানে। বছরে বার পাঁচেক বেরিয়ে পড়া চাই-ই চাই।)

ছবি: লেখিকা

Aizawl Mizoram Champhai Thenzawl Reiek Hill Destination Travel Destinations Tourists Attractions মিজোরাম আইজল চাম্ফাই থেনজোয়াল রেইক
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy