• সবচেয়ে জরুরি টাকাপয়সা। দেশে বা এয়ারপোর্টে বা বিদেশে পৌঁছে কারেন্সি এক্সচেঞ্জ করা যায়। তবে ইন্টারনেটের সাহায্যে বর্তমান এক্সচেঞ্জ রেট বা বিনিময় মূল্যটি নিজে জেনে নেবেন।

• প্লাস্টিক মানির যুগে প্রচুর টাকা সঙ্গে না নিয়ে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড রাখা যায়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সেগুলো কাজ করে কি না, তা রওনা হওয়ার আগে জেনে নেবেন। না হলে খুব সহজ পদ্ধতিতেই তা সক্রিয় করিয়ে নেওয়া সম্ভব। তবে  কার্ডে সরাসরি পেমেন্ট করলে অতিরিক্ত চার্জ কিন্তু কাটবে।

• পাসপোর্ট কখনও কাছছাড়া করা যাবে না। অবশ্য ভিনদেশে বন্ধু থাকলে তাঁর জিম্মায় রাখতে পারেন। তবে রাস্তাঘাটে বিপদে পড়লে ওটাই ভরসা। পাসপোর্টের প্রথম ও শেষ পাতা এবং ভিসার পাতার ফোটোকপি সঙ্গে রাখলে ভাল। হোটেল এবং অন্যত্র তা জমা দিতে হতে পারে।

• নির্ভরযোগ্য ভ্রমণ সংস্থা কিংবা সম্ভব হলে নিজেরা ভিসা করাবেন। হোটেল ও ফ্লাইট বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও সে কথা প্রযোজ্য। বিদেশে পৌঁছনোর পরে যদি দেখা যায় ভিসা বা বুকিংয়ের কাগজ জাল, তখন কিছু করার থাকে না।

• যে দেশে যাচ্ছেন, তার ভিসার জন্য স্বাস্থ্যবিমা বাধ্যতামূলক কি না, তা আগে থেকে দেখে রাখবেন। দরকার মতো কাজটা সেরে নেবেন।

• যেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন, সেই জায়গা সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু তথ্য নিজে জেনে রাখবেন। তাতে সব দিক থেকেই সুবিধে। এ ব্যাপারে গাইডবুক ছাড়াও সহায়ক হতে পারে বিভিন্ন ব্লগ। দল বেঁধে বেড়াতে গেলে কাউকে অন্ধ অনুসরণ করা উচিত নয়।

• ইন্টারন্যাশনাল রোমিংয়ের খরচ বিপুল। তাই গন্তব্য দেশে পৌঁছে সেখানকার সিমকার্ড নিয়ে নেওয়াই ভাল। তা ছাড়া, প্রায় সব হোটেলেই ওয়াই-ফাই থাকে। হোয়াটসঅ্যাপেই কল সেরে নিতে পারেন।

• যে দেশে বেড়াতে যাচ্ছেন, সে দেশে যে অ্যাপগুলো লাগতে পারে, সেগুলো আগে থেকে ডাউনলোড করে রাখবেন। যেমন ক্যাব সংক্রান্ত অ্যাপ, গুগল ম্যাপ বা গুগল ট্রান্সলেট।

• মাল্টিপল অ্যাডাপ্টার সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। বিশ্বের এক এক দেশে প্লাগের ধরন এক এক রকম। অ্যাডাপ্টার না থাকলে কোনও প্লাগপয়েন্টই হয়তো ব্যবহার করতে পারবেন না।

• মালপত্র হিসেব করে নেবেন। ফ্লাইটে লাগেজ নেওয়ার ঊর্ধ্বসীমা আছেই। আর একগাদা লটবহর নিয়ে চলাফেরা করাও অসুবিধের কারণ হতে পারে।

• সবচেয়ে জরুরি, প্ল্যানিংয়ের পরে বা ব্যাগ গোছানোর আগে চেকলিস্ট তৈরি করে ফেলা। মনে রাখা দরকার, বিদেশে গিয়ে যদি কখনও পাসপোর্ট হারিয়ে যায়, তা হলে ঠিক কোন প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে যেতে হয়। প্রথমেই দেখা করতে হবে দূতাবাসে। সেখানে বৈধ ভ্রমণ নথি হিসেবে দেওয়া হয় একটি ইমার্জেন্সি সার্টিফিকেট বা আপৎকালীন শংসাপত্র। তার সাহায্যে সেই দেশ থেকে বেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করা যায়। এবং সেটা দেখিয়েই নতুন পাসপোর্ট জোগাড় করতে হয়। তবে মনে রাখতে হবে, এই সার্টিফিকেটে মাত্র এক বারই দেশে ফেরার সুযোগ পাবেন।