Advertisement
E-Paper

পর পর চারটি ছুটির দিন! কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই শেষ মুহূর্তে বেরিয়ে পড়তে চান, কোথায় যাবেন?

সপ্তাহশেষে লম্বা ছুটি। শেষ মুহূর্তে বেড়ানোর পরিকল্পনা করলে কোথায় যেতে পারেন?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:১৪
ছবি সৌজন্যে এআই।

ছবি সৌজন্যে এআই।

২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিন। মাঝে শনি, রবি। আবার ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস। একসঙ্গে টানা ৪ দিনের ছুটি বরাতে তেমন জোটে না। এই ছুটি কাজে লাগিয়ে কোথাও যেতে চান, কিন্তু পরিকল্পনা করা হয়নি। জায়গার খোঁজ জানা নেই। তা হলে যাবেন কোথায়? কলকাতা থেকে খুব দূরে নয়, গাড়িতে বা ট্রেনে যাওয়া যায় এমন ৩ জায়গার সন্ধান জেনে নিন।

মুর্শিদাবাদ: নবাবের শহর মুর্শিদাবাদের সর্বত্রই ছড়িয়ে ইতিহাস। এই শহর সাক্ষী নানা উত্থান-পতনের। এখনও পর্যন্ত যদি শহরটি না ঘোরা হয়ে থাকে, তাহলে ২-৩ দিনের জন্য চলে যেতে পারেন সেখানেই। সুবিধা হল কলকাতা থেকে গাড়ি নিয়ে দিব্যি যাওয়া যায় মুর্শিদাবাদ। তা ছাড়া ট্রেন আছে, আছে বাসও। বহরমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে লালবাগে মুর্শিদাবাদের অন্যতম আকর্ষণ হাজারদুয়ারি।

হাজারদুয়ারি।

হাজারদুয়ারি।

অতীতের নিজ়ামত কেল্লায় ১৮৩৭ সালে তদানীন্তন নবাব নাজ়িম হুমায়ুন জাহের বাসের জন্য ব্রিটিশরা ইটালীয় শৈলীতে গড়েছিলেন এই ত্রিতল গম্বুজওয়ালা প্রাসাদ। ৮টি গ্যালারি-সহ ১২০ ঘরের এই প্রাসাদের ১০০০ দরজা থেকে এর নাম হয়েছে হাজারদুয়ারি। তবে প্রকৃত দরজা ৯০০, বাকি ১০০ কৃত্রিম। প্রাসাদের সামনেই রয়েছে মদিনা মসজিদ আর মদিনার চত্বরে সুউচ্চ ঘড়িঘর। প্রাসাদের বিপরীতে বড় ইমামবাড়া। হাজারদুয়ারির পিছনে দক্ষিণে যেতে গঙ্গার তীরে অতিথিনিবাস ওয়াসেফ মঞ্জ়িল। হাজারদুয়ারি থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে ঘুরে নিতে পারেন নসীপুরে জগৎশেঠের বাড়ি। কাছেই কাঠগোলা বাগান। অনতিদূরেই রয়েছে নসীপুর রাজপ্রাসাদ যা হাজারদুয়ারির ক্ষুদ্র সংস্করণ। হাজারদুয়ারি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে নিমকহারাম দেউড়ির মধ্যেই জ়াফরাগঞ্জ সমাধিক্ষেত্র— মিরজ়াফর ও তাঁর বংশধরদের সমাধি। অদূরে মুর্শিদকুলির কন্যা আজ়িমউন্নিসার সমাধি। কাটরায় রয়েছে কদম শরীফ। কাটরা থেকে ১ কিমি দূরে তোপখানা। এখানেই রয়েছে জাহানকোষা অর্থাৎ বিশ্বজয়ী কামান। হাজারদুয়ারি থেকে ২ কিমি দূরে সদরঘাটে ভাগীরথী পেরিয়ে ১ কিলোমিটার মতো গেলে খোশবাগ। নবাব পরিবারের সমাধিক্ষেত্র। এ ছাড়াও বহরমপুর থেকে দেখতে যান মোতিঝিল। এককালে ঘসেটি বেগমের প্রাসাদ। সে সব যদিও ভগ্নপ্রায়। এখানেই রয়েছে ৭৫০ বিঘার বিশাল ঝিল। পাশেই পর্যটক বিনোদনের জন্য তৈরি হয়েছে ৩৩ বিঘার মোতিঝিল পার্ক। পলাশি এবং বহরমপুর ঘুরতে দিন দুয়েক সময় লাগবেই। সঙ্গে পলাশি জুড়লে আরও একটি দিন বাড়বে।

কী ভাবে যাবেন?

কলকাতা থেকে বেথুয়াডহরি-পলাশি হয়ে বহরমপুর পৌঁছোতে পারেন ব্যক্তিগত গাড়িতে। ধর্মতলা থেকে বহরমপুরের সরাসরি বাস পেয়ে যাবেন। শিয়ালদহ থেকে ট্রেনও আছে একাধিক।

কটক: শেষ মুহূর্তে বেড়ানোর জায়গা হিসাবে কটকও ভাল। সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মস্থান ওড়িশার কটক শহরে অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে।শহরের প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে ‘নেতাজি বার্থ প্লেস মিউজ়িয়াম’। সুভাষচন্দ্রের জন্মস্থান, তাঁর বাড়ি, ব্যবহারের জিনিস, স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে সম্পর্কিত নথি রয়েছে এখানে। মহানদীর উপর দিয়ে রয়েছে সেতু। ধবলেশ্বর মন্দির যাওয়ার পথে সেই সৌন্দর্য দারুণ উপভোগ করা যায়।

কটক জাদুঘর।

কটক জাদুঘর।

কটক পৌঁছোলে কাছেপিঠের কয়েকটি জায়গা দেখে নিতে পারেন। পরের দিন সকালে চলুন বারবাটী দুর্গ। ৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে সোমবংশীয় রাজা মার্কট কেশরী দুর্গটি নির্মাণ করিয়েছিলেন। পরিখাবেষ্টিত বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে দুর্গটির অবস্থান। সকালবেলাতেই দুর্গটি ঘুরে নিন। চণ্ডী মন্দির, ওড়িশা স্টেট মিউজ়িয়াম-সহ বেশ কয়েকটি দ্রষ্টব্য স্থান রয়েছে এখানে। মন্দিরটি কটকের অন্যতম প্রাচীন এবং জাগ্রত মন্দির। দেবী চণ্ডী এই শহরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হিসেবে পূজিত হন। মন্দিরের শান্ত পরিবেশ এবং স্থাপত্য দেখার মতো। এই শহরে এলে যেটি দেখতেই হবে, সেটি হল বারবাটী দুর্গ। ৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে সোমবংশীয় রাজা মার্কট কেশরী দুর্গটি নির্মাণ করিয়েছিলেন।

কী ভাবে যাবেন?

হাওড়া এবং সাঁতরাগাছি থেকে বহু ট্রেনই কটক হয়ে যায়।তা ছাড়া ধর্মতলা থেকে বাসেও কটক যাওয়া যায়। কলকাতা থেকে গাড়ি করেও এই শহরে পৌঁছোতে পারেন।

ধানবাদ: সহজ পাঠের সেই উস্রির ঝর্নাই ঘুরে নিতে পারেন এবার। হাওড়া থেকে ধানবাদ যাওয়া কঠিন নয়। অনেক ট্রেন আছে। গাড়িতেও সরাসরি যাওয়া চলে। ধানবাদে একটি রাত থাকলে ঘুরে নিতে পারেন আশপাশের অনেক জায়গা। এখানকার অন্যতম সুন্দর জলপ্রপাত হল বথিন্ডা। গাছগাছালি ঘেরা স্থানে পাহাড়ের বুকে ধাপে ধাপে নেমে আসছে জল। শীতে জলস্রোত কম থাকলেও জায়গাটি মনোরম। আর যদি প্রোফেসর শঙ্কুর গিরিডি আর উস্রির স্মৃতি মনে রয়ে গিয়ে থাকে তবে চলুন উস্রি।

উস্রির ঝর্না।

উস্রির ঝর্না।

উস্রির জলধারা নেমে আসে পাহাড়ের বুকে দুই জায়গা দিয়ে। অবশ্য পাহাড় বললে ভুল হয়। তার চেয়ে টিলা বলাই ভাল। চারপাশে অজস্র পাথর ছড়ানো। সেই পাথরেও চোখে পড়ে জলের ক্ষয়কাজের অপূর্ব রূপ। তবে বর্ষায় যদি টানা কয়েক দিন বৃষ্টি হয়, তাহলে উস্রি বয়ে যায় গিরিখাত ছাপিয়ে। বর্ষায় তার ‘যৌবনমত্ত’ রূপ। প্রবল শব্দে ঝরে পড়ে উস্রি। কিন্তু শীতে তার রূপ খানিক ভিন্ন। জল কমে যায়, ফলে পাথুরে ক্ষয়কাজ আরও স্পষ্ট ভাবে দেখা যায়। এখান থেকে ঘুরে নিন তোপচাঁচি হ্রদ। উস্রি আর তোপচাঁচি একসঙ্গে ঘুরে নিতে পারেন। পাহাড় ঘেরা তোপচাঁচি এক সময়ে বাংলা সিনেমার পরিচিত শুটিং স্পট ছিল। উত্তমকুমারের একাধিক সিনেমার কাজ হয়েছে সেখানে। শীতের তোপচাঁচি বেশ মনোরম। সকালের ট্রেন ধরে দুপুরে ধানবাদ পৌঁছোলে সেই দিন দেখে নিন উস্রি আর তোপচাঁচি। পরের দিন ভোরেই বেরিয়ে পড়ুন বথিন্ডার উদ্দেশে। ধানবাদ থেকে ট্রেন ধরে চলে আসুন আসানসোল বা কুমারডুবি স্টেশন। সেখান থেকে ঘুরে নিন মাইথন এবং কল্যাণেশ্বরী মন্দির।

কী ভাবে যাবেন?

হাওড়া থেকে ট্রেনে চলুন ধানবাদ।একাধিক ট্রেন আছে।মাইথন যেতে হলে আসানসোল বা কুমারডুবি স্টেশনে নামুন। চাইলে ধর্মতলা থেকে বাসে আসানসোল পৌঁছে মাইথন ঘুরে নিন। সেখান থেকে ট্রেন ধরেও ধানবাদ যেতে পারেন।

travel Murshidabad Dhanbad
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy