Advertisement
E-Paper

দেখা যাবে বাইচের নৌকা থেকে পালের বৈচিত্র, চেনা ছকের বাইরেও এমন ৩ জাদুঘর দেখুন কলকাতায়

চেনা ছকের বাইরেও এমন সংগ্রহশালা রয়েছে কলকাতার বুকেই, যার কথা এখনও হয়তো জানা নেই অনেকেরই। কিংবা জানলেও ঘুরে দেখা হয়নি। শীত ফুরনোর আগে ঘুরে নিতে পারেন এমনই তিন সংগ্রহশালায়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৬
একটু অন্য রকম সংগ্রহশালা। কলকাতার বুকে এমন ত জায়গা চিনে নিন।

একটু অন্য রকম সংগ্রহশালা। কলকাতার বুকে এমন ত জায়গা চিনে নিন। ছবি: সংগৃহীত।

জাদুঘর বললেই পার্ক স্ট্রিট ছাড়িয়ে ময়দানের দিকে যেতে যে প্রাচীন মিউজ়িয়ামটি রয়েছে সেটির কথায় মাথায় আসে। এছাড়া চিরপরিচিত ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, শিশুদের জন্য চিল্ড্রেনস মিউজ়িয়ামও রয়েছে। তবে চেনা ছকের বাইরেও এমন সংগ্রহশালা রয়েছে কলকাতার বুকেই, যার কথা এখনও হয়তো জানা নেই অনেকেরই। কিংবা জানলেও ঘুরে দেখা হয়নি। শীত ফুরোনোর আগে ঘুরে নিতে পারেন এমনই তিন সংগ্রহশালায়।

নৌকা জাদুঘর

নৌকার বিবর্তনের ইতিহাস চাক্ষুষ করুন এখানে।

নৌকার বিবর্তনের ইতিহাস চাক্ষুষ করুন এখানে। ছবি:সংগৃহীত।

সিন্ধু সভ্যতা থেকে শুরু করে নদীমাতৃক বঙ্গদেশের নৌকা, তার রূপবদলের ছবি সুন্দর করে প্রতিফলিত হয়েছে মিউজ়িয়ামটিতে। কাঁকুড়গাছির অম্বেদকর ভবনের নৌকা মিউজ়িয়াম মুহূর্তে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে অতীতে। সাহিত্যের পাতায় যে নৌকার স্থান, সেগুলিকেই ছোট ছোট মডেলের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এমন ৪৬টি নৌকার ক্ষুদ্র সংস্করণ শোভা পাচ্ছে এখানে। যাত্রীবাহী, মালবাহী, পালতোলা, বাইচের নৌকা, মাছ ধরার নৌকা— এমন নানা ধরনের নৌকা দিয়েই সেজে উঠেছে মিউজ়িয়ামটি। ২০১৪ সালে তৈরি হয়েছিল নৌকা ভিত্তিক জাদুঘরটি। শোনা যায়, দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজবংশী শিল্পীরা নিপুণ কাঠের কাজে এই নৌকাগুলির রেপ্লিকা তৈরি করেছেন। দীর্ঘ গবেষণার ফসল এই জাদুঘরটি এখনও তেমন জনপ্রিয় না হলেও, অনেক উৎসাহী মানুষই এটি দেখতে আসেন। সোম থেকে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে ।

কী ভাবে যাবেন: হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে কাঁকুড়গাছি বা ভিআইপি রোডের বাস ধরে অম্বেদকর ভবনে নামতে হবে।

পোস্টাল মিউজ়িয়াম

খবরের বোঝা কাঁধে রানার ছুটে চলে।

খবরের বোঝা কাঁধে রানার ছুটে চলে। ছবি:সংগৃহীত।

‘‘রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে…’’ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘রানার’ কবিতাটি অজেয় হয়ে রয়েছে সলিল চৌধুরীর সুরে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গানে। সেই রানারের ছোটা, খবর পৌঁছে দেওয়ার অতীত দিনের ছবিটি প্রতিফলিত হয়েছে থ্রিডি মডেলে। কলকাতার জিপিও-ভবনের একতলায় রয়েছে সংগ্রহশালা, যা ‘পোস্টাল মিউজ়িয়াম’ নামে পরিচিত। সেখানেই ভারতীয় ডাক ব্যবস্থার অতীতের দিনগুলি তুলে ধরা হয়েছে ছবিতে, পোস্টারে, মডেলে। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত বিশেষ বিশেষ ডাকটিকিটও চাক্ষুষ করার সুযোগ মেলে এখানে। সংগ্রহশালায় গেলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পাসবই ও তাঁর সেই স্বাক্ষর এখনও দেখা যায়। পুরনো মানচিত্র, ডাকবাক্স, সিল, স্ট্যাম্পের বিবর্তন, সবই রয়েছে চোখের নাগালে। মঙ্গলবার থেকে রবিবার সকাল ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত মিউজ়িয়াম খোলা থাকে।

কী ভাবে যাবেন:কলকাতার জিপিও ভবন জনপ্রিয় একটি ভবন। শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে একাধিক বাস সেখানে যায়। ট্যাক্সি করে বা অ্যাপ ক্যাবেও পৌঁছতে পারেন। ফেয়ারলি প্লেস বা বিবাদি বাগ থেকে হেঁটেও আসা যাবে।

আরবিআই মিউজ়িয়াম

নোটের ইন্সটলেশন শোভা পাচ্ছে এখানে।

নোটের ইন্সটলেশন শোভা পাচ্ছে এখানে। ছবি:সংগৃহীত।

বিশাল বড় এক টাকার মুদ্রা আকৃতির মধ‌্যে দিয়ে প্রবেশ। ভিতরে সাক্ষী হওয়া যায় রিজার্ভ ব‌্যাঙ্কের ইতিহাস, পুরনো টাকা-পয়সা সম্পর্কিত তথ‌্যচিত্রের। কী ভাবে বিনিময় প্রথা থেকে বর্তমান টাকা পয়সার আবির্ভাব, তা-ও দেখতে পাবেন। এক সময়ে নুন, পাথর, কড়ি মুদ্রা হিসাবে ব‌্যবহার করা হত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও নোট দেখা যাবে এখানে। ভারতীয় রিজার্ভ ব‌্যাঙ্কের ‘গোল্ড ভল্ট’ কেমন দেখতে, কী ভাবে সোনার বার রাখা থাকে, কী ভাবে সেখানে কাজ হয়, সোনার একটি বারের ওজন কেমন, তা-ও নিজের হাত দিয়ে তুলে দেখা যায়। মডেলের মাধ্যমে তুলে ধরা রয়েছে সেই সব। রয়েছে একটি নোটের জীবন-মৃত্যুর ইতিহাস। বিভিন্ন নোটের ইনস্টলেশন। জাদুঘর মানেই প্রথাগত যে ভাবনা রয়েছে, তার বাইরে গিয়ে এই নতুনত্ব ছোট থেকে বড়, সকলকেই আকর্ষণ করবে। মঙ্গল থেকে রবিবার সকাল ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত মিউজ়িয়াম খোলা থাকে।

কী ভাবে যাবেন:হাওড়া বা শিয়ালগহ থেকে ডালহৌসি বা বিবাদি বাগের বাস ধরতে হবে। লালদিঘির পাশেই এটি রয়েছে। এই জায়গাটি জিপিও-র অদূরেই। ঠিকানা ৮, কাউন্সিল হাউস স্ট্রিট।

RBI museum Boat Museum
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy