Advertisement
E-Paper

‘তৃণমূলের প্রচারে গিয়েছি, শিল্পী হিসাবে আমাদের উপর অনেক চাপ থাকে!’ আর কী বললেন শ্রাবন্তী!

পালাবদলের খবর পেয়ে প্রথমেই অভয়ার মায়ের মুখটা ভেসে উঠেছিল শ্রাবন্তীর চোখের সামনে। এক জন মা হিসাবে তিনি চান, ওই মা যেন মেয়ের বিচার পান। আর সেইসঙ্গে অভিনেত্রী মনে করেন, বাংলার ভাল হলে সেই পরিবর্তন স্বাগত।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ ১৬:২৫
রাজ্যে গেরুয়া ঝড়, কী বলছেন শ্রাবন্তী!

রাজ্যে গেরুয়া ঝড়, কী বলছেন শ্রাবন্তী!

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হতেই প্রকাশ্যে আসছে অনেকের মনের ক্ষোভ, বিক্ষোভের কথা। শনিবার বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ব্রিগেডে উৎসবের আবহ। ঠিক সেই মুহূর্তে নিজের মনের কথা মেলে ধরলেন অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়।

পালাবদলের খবর পেয়েই প্রথমে কী মনে হয়েছিল নায়িকার? শ্রাবন্তীর কথা, ‘‘সত্যি কথা বলতে, প্রথমেই অভয়ার মায়ের মুখটা ভেসে উঠেছিল। মনে হল, এই বার তিনি বিচার পাবেন। সেই আশায় বসে আছি। নির্যাতিতার মায়ের প্রতি আমার অসীম শ্রদ্ধা। তিনি অভয়ার জন্য লড়ে যাচ্ছেন। এক জন মা হিসাবে অবশ্যই চাইব তিনি যেন তাঁর মেয়ের বিচার পান।’’ এই পরিবর্তন কি চেয়েছিলেন? শ্রাবন্তীর বক্তব্য, ‘‘আসলে জনতাই জনার্দন। সত্যিই যদি পরিবর্তন আসতে পারে, সত্যিই যদি এই বাংলার জন্য ভাল কিছু হতে পারে তা হলে কেন চাইব না পরিবর্তন? যাঁরা চাকরি পাচ্ছেন না তাঁরা যদি চাকরি পান, ভাল তো!’’

এই নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে প্রচার করছিলেন শ্রাবন্তী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকেই কি প্রচারে গিয়েছিলেন? এ বিষয়ে নায়িকার স্পষ্ট বক্তব্য, ‘‘আমি এক জন শিল্পী। আর এক জন শিল্পী হিসাবেই গিয়েছিলাম প্রচারে। শিল্পীদের উপর অনেক চাপ থাকে। আমি ছাড়াও অনেকেই দিদির আহ্বানে প্রচারে গিয়েছিলেন। আমি তো নগণ্য। ভোটের প্রার্থীতালিকা প্রকাশের আগে আমায় অনেকেই প্রশ্ন করেছিলেন, আমি প্রার্থী হচ্ছি কি না। আমি তো দলে যোগ দিইনি। কারণ আমি জানি আমি হব না।’’

তা হলে আর কি বিজেপিতে ফেরার ইচ্ছে আছে? এ কথার জবাবে শ্রাবন্তী স্পষ্ট বললেন, ‘‘আমি মনে করি, রাজনীতি আমার জায়গা নয়। আমি যখন প্রার্থী হয়েছিলাম, তখন হয়তো এক জন অভিনেত্রীকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে মেনে নিতে অসুবিধা হয়েছিল মানুষের। এখন আমি অভিনেত্রী হিসাবেই ভাল আছি। আজকে এত কুৎসা হচ্ছে, শিল্পীদের নিয়ে এত কথা এত ট্রোলিং চলছে, কী বলব! শিল্পীরা কী ভাবে চলেন, এ সব বলার আগে সাধারণ মানুষ কি এক বারও ভাবেন? আমাদের উপরেও তো চাপ থাকে।’’

বিজেপির হয়ে প্রচারের ফাঁকে শ্রাবন্তী

বিজেপির হয়ে প্রচারের ফাঁকে শ্রাবন্তী ছবি: সংগৃহীত

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপির হয়ে বেহালা পশ্চিম থেকে লড়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী ছিলেন তৃণমূলের পার্থ চট্টোপাধ্যায়। প্রায় ৫০,৮৮৪ ভোটে হেরেছিলেন শ্রাবন্তী। সেই লড়াই জিততে না পারার আফসোস এখনও আছে তাঁর। শ্রাবন্তী যোগ করেন, ‘‘বেহালা পশ্চিম আমার পাড়া, আমার স্কুল, আমার বেড়ে ওঠা— সবটাই ওই জায়গায়। তাই সেই সুযোগটা পেয়েছিলাম বলে খুশি হয়েছিলাম, তাই বিজেপির কাছে আমি কৃতজ্ঞ। মানুষ আমায় গ্রহণ করেনি, জনগণের রায়ে সেই হার মাথা পেতে নিয়েছিলাম। কিন্তু তার কিছু দিন পরেই যখন আমার বিরোধী প্রার্থীর (পার্থ) বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধার হল, তাঁর দুর্নীতির সব সামনে এল, তখন খুব আফসোস হয়েছিল। মনে হয়েছিল, মানুষ যদি আমায় একটু বিশ্বাস করতেন তা হলে আমি ভাল কাজ করতে পারতাম। কিন্তু যখন হেরে গেলাম তখন আমি বুঝেছিলাম রাজনীতি আমার জন্য নয়।’’

ওই হারের পরে নায়িকাকে বি্জেপির কোনও কর্মসূচিতে তেমন দেখা যায়নি। ওই অভিজ্ঞতার পরে তাঁর কী উপলব্ধি হয়েছিল বিজেপি সম্পর্কে? অভিনেত্রী যোগ করেন, ‘‘আমার ব্যক্তিগত মত, সেইবছর যেহেতু আমি দলে ছিলাম, মনে হয়েছিল যে, হয়তো বাংলাকে আরও একটু বোঝার প্রয়োজন বিজেপির। এখন তারা বাংলাকে বুঝে, জেনে নিয়েছেন। তাই হয়তো এত মানুষ তাদের নির্বাচন করেছেন।’’

আগামিদিনে নতুন সরকারের কাছে নিজের চাহিদার কথাও জানিয়েছেন শ্রাবন্তী। নায়িকা বলেন, ‘‘নারী নিরাপত্তার দিকটা সুনিশ্চিত হোক। বহু মানুষ রাত করে বাড়ি ফেরেন। তাঁরা যেন নির্ভয়ে ফিরতে পারেন। আমি চাই, যাঁরা যোগ্যতা থাকার পরেও বাড়িতে বসে আছেন তাঁরা যেন চাকরি পান। অবশ্যই রাস্তাঘাটের কথা বলব, বিশেষ করে বেহালায়, জল জমে, ট্র্যাফিক জ্যাম হয়— সেগুলো যেন উন্নত হয়। দরিদ্রদের সন্তানেরা যেন পড়াশোনার সুযোগ পায়’’

পালাবদলের পর ইন্ডাস্ট্রির ‘বন্ধু’কে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন শ্রাবন্তী। ‘‘রুডি, মানে রুদ্রনীল ঘোষের সঙ্গে আমার একেবারে ছোট থেকে সম্পর্ক। তাঁকে আমি শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আর ইন্ডাস্ট্রির কারওর সঙ্গে সেই ভাবে কথা হয়নি। তবে অবশ্যই ইন্ডাস্ট্রির মানুষ হিসাবে চাই, আর কোনওদিন কোনও শিল্পীকে যেন ‘ব্যান্‌ড’ হতে না হয়। শিল্পীদের ‘ব্রেড অ্যান্ড বাটার’ তো কাজই। গ্রুপিজ়ম, লবি— এগুলোর বাইরে এসে যেন যোগ্যেরা কাজ পান। ইন্ডাস্ট্রিতে যেন সকলে প্রাণ খুলে কাজ করতে পারেন।’’

Srabanti Chatterjee BJP R G Kar Protest Women Safety
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy