ট্রেনের শৌচাগারে ঢুকতে যাচ্ছিলেন যাত্রী। ভিতরে উঁকি দিতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল তাঁর। বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন তিনি। কী দেখলেন তরুণ যাত্রী? সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে বিহার সম্পর্কক্রান্তি এক্সপ্রেসের একটি সংরক্ষিত কামরার শৌচাগারে। জানা গিয়েছে, শৌচাগারটি দখল করে রেখেছিলেন টিকিটবিহীন যাত্রীরা। এক যাত্রী শৌচাগারে ঢোকার সময় বিনা টিকিটের ওই যাত্রীদের দেখে হতবাক হয়ে যান। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। ভিডিয়োর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন রেলওয়ে সেবা কর্তৃপক্ষ। জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য বিষয়টি প্রয়াগরাজের ডিআরএম-এর কাছে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, একদল লোক ট্রেনের একটি সংরক্ষিত কামরার শৌচাগারের ভেতরে এবং আশপাশে বসে রয়েছেন। যাত্রীরা ভিড় ঠেলে সরু পথ দিয়ে যাতায়াত করছেন। ভিডিয়োর পরবর্তী অংশে এক যাত্রী শৌচাগার বন্ধ করে ভেতরে বসে থাকা বিনা টিকিটের দুই যাত্রীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। তবে বার বার তাঁদের বেরিয়ে আসতে বলার পরেও এবং কেন ভিতরে বসে রয়েছেন, সে প্রশ্ন করা সত্ত্বেও তাঁরা নির্বিকার ছিলেন। পরে ঔদ্ধত্যও দেখান তাঁরা। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
আরও পড়ুন:
সরফরাজ় জ়ইন নামের এক ব্যবহারকারীর এক্স হ্যান্ডলে ভিডিয়োটি পোস্ট করেছেন। সরফরাজ় দাবি করেছেন যে, সংরক্ষিত কামরার শৌচাগারের জায়গাটি বেশ কয়েক জন টিকিটবিহীন যাত্রী দখল করে রেখেছেন। ফলে শৌচাগার সঠিক ভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না এবং অন্যান্য যাত্রীরাও অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। নিজের পোস্টে সরফরাজ় ‘রেলওয়ে সেবা’কে ট্যাগ করে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানান। তিনি লেখেন, ‘‘আমার সংরক্ষিত কামরার শৌচাগারের ভিতরে বেশ কয়েক জন বিনা টিকিটের যাত্রী বসে রয়েছেন। শৌচাগার ব্যবহার করা যাচ্ছে না। জায়গাটি খালি করতে বলা হলে তাঁরা দুর্ব্যবহার করছেন এবং ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন। কামরার চলাচলের পথটিও অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে, যা যাত্রীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দয়া করে অবিলম্বে আরপিএফ বা টিটিইকে পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিন। শৌচাগার খালি করান এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।’’
আরও পড়ুন:
‘রেলওয়ে সেবা’ এক্স হ্যান্ডলে তরুণের অভিযোগের জবাব দেয় এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানায়। অনলাইনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য বিষয়টি প্রয়াগরাজের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের কাছে পাঠানো হয়েছিল।
তবে ঘটনাটি সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী দূরপাল্লার ট্রেনে ক্রমবর্ধমান এই সমস্যা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। অনেকে অভিযোগ করেছেন, টিকিটবিহীন যাত্রীরা প্রায়ই সংরক্ষিত কামরায় ঢুকে পড়েন। ফলে ভিড় বেড়ে যায় এবং নিশ্চিত আসন বা কনফার্মড রিজ়ার্ভেশন থাকা যাত্রীরা অস্বস্তিতে পড়েন।