বন্দে ভারতের শৌচাগারে সাপ! এমন দাবি তুলে ট্রেনের কর্মীকে একটি ভিডিয়ো দেখালেন এক যাত্রী। যাত্রীর কাছে এই ধরনের মারাত্মক অভিযোগ শুনে চমকে ওঠেন বন্দে ভারতে থাকা কর্মী। যাত্রী তাঁর মোবাইলে শৌচাগারে থাকা সাপের ছবিটি দেখাতেই আঁতকে ওঠেন কর্মী। যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য বাকি কর্মীদের কাছেও নিয়ে যান তিনি। যাত্রীর কথা শুনে বাকি কর্মীরাও চিন্তিত হয়ে পড়েন। সেই ঘটনারই একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। ভিডিয়োটি দেখে নেটাগরিকেরাই ফাঁস করেছেন ভিডিয়োর আসল সত্যটি। বিতর্ক শুরু হতেই ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
ভিডিয়োর শুরুতে দেখা গিয়েছে, এক যাত্রী দাবি করছেন যে বন্দে ভারত ট্রেনের শৌচাগারে একটি সাপ আছে। এর পর, ট্রেনের বেশ কয়েক জন কর্মী একে একে তাঁর তোলা ছবিটি দেখেন। সেই ছবি দেখে তাঁরা বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে ভুগতে শুরু করেন। কারণ রেলকর্মীরা বসার জায়গা থেকে শুরু করে শৌচাগার পর্যন্ত সব কিছু পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পরিষ্কার করেন। তাই, ট্রেনে সাপ থাকার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। কারণ এই ট্রেনের দরজাগুলি সাধারণ ট্রেনের মতো নয়, বরং স্বয়ংক্রিয়। রেলকর্মীরা যখন যাত্রীটির তোলা ছবিটি দেখেন, তারাও হতবাক হয়ে যান। প্রত্যেকেই যাত্রীর কাছে ছবিটি চেয়ে নিয়ে দেখেন। কর্মীরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে শুরু করেন যে যাত্রীদের সতর্ক করতে হবে। এরই মধ্যে এক কর্মী জানান, তিনি যখন দিল্লি থেকে উঠে সমস্ত কিছু তদারক করেছিলেন, তখন এটা ছিল না। সেই যাত্রী অনবরত তাঁদের বলতে থাকেন, “হতে পারে সাপটি শেড দিয়ে ঢুকেছিল।”
ভিডিয়োটির শেষে গিয়ে মনে হয় ওই যাত্রী রেলকর্মীদের হয়তো সত্যিটা বলেননি। কারণ যাত্রী যে সাপের ছবিটি দেখিয়ে ব্যতিব্যস্ত ও আতঙ্কিত করে তুলেছিলেন তা আদতে কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি। পুরো ভিডিয়োয় তিনি এক বারও কাউকে বলেননি যে সাপটি আসল নয়, বরং এআই-এর তৈরি ছবি। বন্দে ভারতের শৌচাগারে কোনও সাপই ছিল না। গোটা ঘটনাটিই রিল ভিডিয়োর জন্য অভিনয় করা।
ভিডিয়োটি ‘এসডি প্র্যাঙ্ক’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিয়োয় যাত্রীর কাণ্ড দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নেটাগরিকদের একাংশ। ভুয়ো ছবি দেখিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা যাত্রীকে ভিডিয়োটি মুছে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকেই। আবার অনেকের মতে, এমনও হতে পারে যে ভিডিয়োটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। পরে যাত্রী প্যান্ট্রির কর্মীদের কাছে সত্যিটা প্রকাশ করে দিয়েছেন। ভিডিয়োটি ইতিমধ্যেই কয়েক লক্ষ বার দেখা হয়েছে। প্রচুর নেটমাধ্যম ব্যবহারকারী ভিডিয়োয় ভারতীয় রেলকে ট্যাগ করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘এটা মুছে দিন, নইলে পরের রিলে আপনাকে পুলিশের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’’