আপন বলতে তিনকুলে কেউ নেই। বিয়ে-থা করেননি। তাই পরিবারও নেই। দূর সম্পর্কের আত্মীয়দের ভরসা করেন না। তাই জীবিত অবস্থাতেই নিজের অন্তেষ্টিক্রিয়ার ভোজের আয়োজন করে ফেললেন উত্তরপ্রদেশের এক বৃদ্ধ। অরাইয়া জেলার বাসিন্দা ওই বৃদ্ধ গত ৩০ মার্চ নিজের ‘জ়িন্দা ভান্ডারা’ বা শ্রাদ্ধের ভোজের আয়োজন করেছিলেন। এই অনুষ্ঠানটি স্থানীয় এলাকায় মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত ১৩ দিনের লোকাচারের প্রতীক। সোখানে আত্মীয়, বন্ধু, পরিজনদের ভোজ খাওয়ানো হয়। লক্ষ্মণপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত এই ঘটনাটি ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। হাজার দু’য়েক অতিথির জন্য আয়োজন করেছিলেন বৃদ্ধ।
এই অনুষ্ঠানটি ছিল অন্যান্য ঘটনার থেকে কিছুটা ব্যতিক্রমী। বৃদ্ধ নিজের ছবি সম্বলিত ‘জীবন্ত ভোজ’ শিরোনামে আমন্ত্রণপত্র বাসিন্দাদের মধ্যে বিতরণ করেছিলেন। সেই আমন্ত্রণপত্র সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ভাইরাল হয়েছে। ৬৫ বছর বয়সি রাকেশ যাদব, অবিবাহিত। আশপাশের গ্রামগুলির বাসিন্দারা এই ভোজে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। খাবারের তালিকায় ছিল কচুরি, লাড্ডু ও বিভিন্ন পদের তরকারি।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, রাকেশরা তিন ভাই। তাঁদের মধ্যে দু’জন ইতিমধ্যেই মৃত। এক ভাই অসুস্থ হয়ে মারা যান এবং তার অন্য ভাই খুন হন। ভাইরাও ছিলেন অবিবাহিত। এই ব্যক্তিগত ঘটনাগুলি তাঁর জীবনে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। তবে, তাঁর এক বিবাহিত বোন আছে। রাকেশ জানিয়েছেন, বৃদ্ধ বয়সে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই, এমনকি তাঁর মৃত্যুর পর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বা ১৩ দিনের উৎসবের আয়োজন করার মতোও কেউ নেই। এই উদ্বেগই তাঁকে কুরে করে খাচ্ছিল। তাই জীবিত থাকাকালীন নিজেই শ্রাদ্ধের ভোজের আয়োজন করে ফেলেছেন। পৈতৃক বাড়িটি এক আত্মীয়কে দান করে বর্তমানে একটি কুঁড়েঘরে বাস করছেন রাকেশ।