সপ্তাহে মাত্র এক দিন ছুটি। বাকি ছ’দিন টানা ন’ঘণ্টা কাজ করা বাধ্যতামূলক। সাত দিনে অফিসের পরিবেশ ‘বিষাক্ত’ হয়ে উঠেছিল তরুণের কাছে। পাঁচ লক্ষ টাকা বেতনের চাকরি পেয়েও সাত দিনের মাথায় তা ছেড়ে দিলেন তরুণ। চাকরি ছাড়ার পর সংস্থার রোষানলে পড়লেন তিনি। সম্প্রতি সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতনের সঙ্গে হোয়াট্সঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট সমাজমাধ্যমের পাতায় পোস্ট করেছেন তরুণ (যদিও তার সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
আরও পড়ুন:
‘আর/ইন্ডিয়ানওয়ার্কপ্লেস’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে রেডিটের পাতায় একটি স্ক্রিনশট পোস্ট করা হয়েছে। সেই পোস্টটি করে তরুণ জানিয়েছেন, সম্প্রতি একটি মার্কেটিং সংস্থায় চাকরি পেয়েছিলেন তিনি। বার্ষিক বেতন পাঁচ লক্ষ টাকা। মোটা বেতনের চাকরি হলেও সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারছিলেন না তরুণ। তিনি জানান, তাঁর অফিসে সপ্তাহে ছ’দিন কাজ করতে হয়। মাত্র এক দিন ছুটি।
প্রতি দিন নিয়ম মেনে ন’ঘণ্টা কাজ করা বাধ্যতামূলক। ছোট ছোট কাজের জন্যও ঊর্ধ্বতনের অনুমতি নিতে হয়। অফিসের প্রতিটি ডেস্কের সামনে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। তাঁর অফিসে মোট ২০ জন কর্মী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই সদ্য কলেজ পাশ করে প্রথম চাকরিতে ঢুকেছেন। তরুণের বস্ অফিসে আসেন না। তিনি বাইরে থেকে কাজ করেন।
আরও পড়ুন:
company refused to pay because I resigned within a week due to toxic behavior
by u/notdavinciforsure in IndianWorkplace
তরুণের অভিযোগ, এক দিন তিনি নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে ২০ মিনিট আগে অফিসে ঢুকেছিলেন। কিন্তু মাইগ্রেনের যন্ত্রণার কারণে ১০ মিনিট আগে অফিস থেকে বেরিয়ে যেতে চাইছিলেন তিনি। ঊর্ধ্বতনকে সে কথা জানানোয় তরুণের প্রতি খেপে যান বস্। যে কোনও পরিস্থিতিতে ন’ঘণ্টা কাজ করতেই হবে। প্রতি দিন অফিস থেকে বেরোনোর সময় বসের অনুমতি নিতে হবে। তরুণ যদি সে নিয়ম ভাঙেন তা হলে তাঁর পেশাজীবন নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দেন বস্।
আরও পড়ুন:
অফিসের ‘বিষাক্ত পরিবেশ’ সহ্য করতে না পেরে সাত দিনের মাথায় চাকরি ছেড়ে দেন তরুণ। তিনি যে সাত দিন কাজ করেছেন, তার পারিশ্রমিক চান সংস্থার কাছে। কিন্তু সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন পাল্টা হুমকি দিয়ে হোয়াট্সঅ্যাপে লিখে জানান, ‘‘চাকরি ছাড়ার আগে আপনি কোনও নোটিস দেননি। আবার আমাদের নতুন লোক খুঁজতে হচ্ছে। আপনি কোনও টাকা পাবেন না। বরং, এই আচরণের জন্য যে আপনার কাছে আমরা কোনও টাকা দাবি করছি না তা ভেবে আনন্দে থাকুন।’’
এই চ্যাটের স্ক্রিনশট পোস্ট করে নেটাগরিকদের কাছে পরামর্শ চেয়েছেন তরুণ। তিনি লেখেন, ‘‘আমি কারও ক্রীতদাস হতে পারব না। পরে আমার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হতে পারে। সেই ঝুঁকি নিতে রাজি নই।’’ এই প্রসঙ্গে এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘আপনি টাকা পাওয়ার আশা ছেড়ে দিন। চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাল করেছেন। এমন পরিবেশে কাজ করা যায় না।’’