১০ বছর ধরে ফরাসি স্ত্রীকে আটকে রেখেছিলেন স্বামী। পুত্রের সহায়তায় মুক্তি পেলেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের একটি প্রত্যন্ত এলাকা বারায়। স্ত্রী এবং পাঁচ সন্তানকে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাড়িতে আটকে রেখে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে পাকিস্তানি যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফরাসি নাগরিক সিলভি ইয়াসমিনা নামের ওই মহিলা পুলিশকে জানিয়েছেন যে, তাঁর স্বামী অত্যন্ত হিংসাত্মক প্রকৃতির ছিলেন এবং পরিবারটিকে নিয়মিত নির্যাতন করতেন। ইয়াসমিনার এক ছেলে পালিয়ে পুলিশের কাছে সাহায্য চাওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ছেলের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁদের বাড়িতে অভিযান চালায়। বাড়ির ভিতরে ইয়াসমিনা এবং তাঁর সন্তানদের একটি সঙ্কীর্ণ ঘর থেকে উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এর পর ইয়াসমিনা এবং তাঁর সন্তানদের পেশোয়ারের একটি নারী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তাঁরা ফ্রান্সে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
আরও পড়ুন:
৫৪ বছর বয়সি ইয়াসমিনা দাবি করেন, ২০০৩ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতি পাকিস্তানে আসার আগে বড় দুই সন্তানকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করতেন। ইয়াসমিনা জানান, পাকিস্তানে আসার পর বাইরের জগতের সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগাযোগ ছিল না। এর পর ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে পাকিস্তানে আসার পর স্বামী তাঁদের কার্যত বন্দি করে রেখেছিলেন। বিবিসি উর্দুকে পাক পুলিশের এক বর্ষীয়ান কর্মকর্তা বলেন, ‘‘ওই মহিলা জানান, তাঁকে কারও সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হত না। তাঁদের বড় দুই সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং ছোট তিন সন্তানের জন্ম পাকিস্তানেই হয়েছিল। তাদের কখনও স্কুলে ভর্তি করানো হয়নি।’’
আরও পড়ুন:
কর্তৃপক্ষ ধৃত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি। তবে জানিয়েছেন যে তিনি পাকিস্তানের নাগরিক। ইয়াসমিনার সঙ্গে যখন তাঁর পরিচয় হয়, তখন তিনি অস্ট্রেলিয়ায় অবৈধ ভাবে বসবাস করছিলেন। পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ইয়াসমিনা দীর্ঘ দিনের কষ্টের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘‘আমরা স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত ছিলাম। স্বামী এবং সন্তানদের বাবা হিসাবে আমার স্বামীর আমাদের যে ভাবে দেখাশোনা করা উচিত ছিল, তিনি তা করেননি। তিনি আমাদের মারধর করতেন এবং প্রতিনিয়ত আমাদের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমার মনে হয়েছিল আমার ভবিষ্যৎ তো ধ্বংস হয়েই গিয়েছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎও ধ্বংস হয়ে যাবে।’’