কাঁধে ব্যথা সারানোর জন্য অনলাইন মাধ্যমে এক মাসাজ থেরাপিস্টের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছিলেন এক মহিলা। নির্দিষ্ট ঠিকানায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে পৌঁছেও গিয়েছিলেন তরুণী থেরাপিস্ট। কিন্তু মালিশ করার সামগ্রী চাক্ষুষ করে পছন্দ হয়নি মহিলার। সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করে দেন তিনি। তা নিয়েই মহিলা ক্রেতার সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন ওই তরুণী।
মহিলার বেডরুমে ঢুকে তাঁকে মারধর করতে শুরু করেন তিনি। চুলের মুঠি ধরে বিছানায় ফেলে দেন ওই মহিলাকে। ওই মহিলার পুত্রও সেই সময় ঘরে উপস্থিত ছিলেন। বারংবার মানা করা সত্ত্বেও কারও কথা শোনেননি তরুণী। বাধ্য হয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করলেন মহিলা ক্রেতার পুত্র। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের পাতায় এমনই একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
আরও পড়ুন:
‘মেঘ আপডেটস’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলের পাতায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে যে, চুলের মুঠি ধরে এক মহিলার সঙ্গে মারপিট করছেন এক তরুণী। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বুধবার সন্ধ্যায় এই ঘটনাটি মুম্বইয়ের পূর্ব ওয়াদালা এলাকায় ঘটেছে। ৪৬ বছর বয়সি মহিলার নাম শাহনাজ় ওয়াহিদ সইদ। ১৮ বছরের পুত্রকে নিয়ে সেই এলাকার একটি ফ্ল্যাটে থাকেন শাহনাজ়। কাঁধে প্রচণ্ড ব্যথা হওয়ায় মালিশের জন্য মাসাজ থেরাপিস্টের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করেছিলেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অনলাইন সংস্থার মাধ্যমে এক তরুণী মাসাজ থেরাপিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন শাহনাজ়। ৩২ বছর বয়সি সেই তরুণীর নাম অশ্বিনী শিবনাথ ভারতপি। শাহনাজ়ের বাড়ির ঠিকানায় নির্দিষ্ট সামগ্রী নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন অশ্বিনী। কিন্তু যে পোর্টেবল বিছানায় শুইয়ে মালিশ করানো হবে তা মজবুত ছিল না। স্বচক্ষে তা দেখে তরুণীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করে দিয়েছিলেন শাহনাজ়।
অনলাইনে বুক করেও কেন তিনি পরিষেবা গ্রহণ করেননি, তা নিয়ে শাহনাজ়ের সঙ্গে অশান্তি করতে শুরু করে দেন অশ্বিনী। অভিযোগ, মহিলা ক্রেতাকে মারধরও করেন তিনি। তরুণীর এই অচরণ সহ্য করতে না পেরে তাঁকে বেডরুম থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন শাহনাজ়। তখনই শাহনাজ়ের চুলের মুঠি ধরে তাঁকে বিছানায় ফেলে দেন অশ্বিনী। মারপিট করতে করতে গড়িয়ে বিছানা থেকে নীচে পড়ে যান দু’জনে।
শাহনাজ়ের পুত্র অশান্তি থামাতে গেলেও কোনও লাভ হয় না। পুরো ঘটনাটির ভিডিয়ো করছিলেন শাহনাজ়ের পুত্র। কোনও উপায় না দেখে পুলিশকে ফোন করেন তিনি। জামিনঅযোগ্য অপরাধের ভিত্তিতে অশ্বিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁকে পেশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যে সংস্থার তরফে ওই তরুণীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।