কোথায় বেড়াতে যেতে ভালবাসেন? সে প্রশ্ন করলে অধিকাংশ মানুষ হয় পাহাড় বলবেন, নয় সমুদ্র। তবে জঙ্গলসফরের পাল্লাও কিন্তু ভারী থাকে। আর সে সফরে যদি কখনও কোনও বন্যপ্রাণীর দেখা পাওয়া যায়, তবে তো সোনায় সোহাগা। সম্প্রতি তেমনই একটি ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। একটি জাতীয় উদ্যানের পথের মাঝে এক চিতাবাঘকে নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানের। সেখানেই এই অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন পর্যটকেরা।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিয়োটিতে দেখা গিয়েছে, দু’পাশে জঙ্গল। মাঝে একটি পথ। আর সেই পথেই গা এলিয়ে শুয়ে রয়েছে একটি চিতাবাঘ। মাঝেমধ্যে গড়াগড়িও দিচ্ছে সে। তাকে দেখে আশপাশে থেমে গেছে জঙ্গলে সফর করতে আসা সব জিপ। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ছাদখোলা জিপও ছিল। চিতাবাঘটির কার্যকলাপকে ক্যামেরাবন্দি করতে দেখা গিয়েছে বহু পর্যটককে। যানবাহন এবং মানুষের উপস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ নির্বিকার ছিল চিতাবাঘটি। তার ভাবখানা এমন ছিল, যেন সে ছবি তোলানোর জন্য ‘পোজ়’ দিচ্ছিল। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, চিতাবাঘটি প্রথমে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে ধীরে ধীরে রাস্তার উপর বসে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে বনবিভাগের কর্মীরা সাফারি করতে আসা জিপগুলিকে থেমে যেতে বলেন। কোনও প্রকার কোলাহল করতেও নিষেধ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চিতাবাঘটি প্রায় ঘণ্টাখানেক সেখানে আয়েশ করে সময় কাটায়। এর পর সে নিজেই আবার জঙ্গলে ফিরে যায়। কারও কোনও রকম ক্ষতি করেনি সেটি। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, পশুদের এই ধরনের আচরণ একেবারেই অস্বাভাবিক নয়। কারণ বন্যপ্রাণীরা নিরাপদ বোধ করলে মাঝে মাঝে খোলা বনপথকে বিশ্রামস্থল হিসেবে ব্যবহার করে। পর্যটকদের ধৈর্য ধরতে এবং সেই সময় ওই প্রাণীদের বিরক্ত না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এক্সের (সাবেক টুইটার) ‘ফ্রিপ্রেসএমপি’ নামের হ্যান্ডল থেকে ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়তেই হইচই পড়ে গিয়েছে নেটপাড়ায়। অনেকেই ভিডিয়োটি শেয়ার করেছেন। অজস্র মন্তব্যও জমা পড়েছে। এক নেটাগরিক লিখেছেন, “এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই তো! জঙ্গল তো ওরই (চিতাবাঘ) বাড়ি। মানুষ সেখানে বহিরাগত।”