কোমরের হাড় ভাঙা। চলাফেরা করতে পারেন না। পেনশন তুলতে ঠেলাগাড়িতে শুয়ে ব্যাঙ্কে যেতে হল ৭৩ বছর বয়সি এক বৃদ্ধাকে! অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের ফারুখাবাদে। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পরেই জনরোষের মুখে পড়েছেন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। রোষের মুখে পড়ে ক্ষমাও চেয়েছে ব্যাঙ্ক। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বৃদ্ধার নাম কিসান পিয়ারি। তিনি ফতেহগড়ের হাতি খান এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী বিদ্যুৎ বিভাগে কাজ করতেন এবং অবসরের পর পেনশন পেতেন। স্বামীর মৃত্যুর পর পেনশন পিয়ারির নামে স্থানান্তরিত হয়। কিন্তু সেটি সংগ্রহ করা তাঁর জন্য দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ার কারণে পিয়ারি হাঁটাচলার শক্তি হারান। ওই অবস্থা সত্ত্বেও পেনশন তোলার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য তাঁকে শারীরিক ভাবে ব্যাঙ্কে যেতে হত।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, একটি কাঠের ঠেলাগাড়িতে শুয়ে ব্যাঙ্ক যাচ্ছেন বৃদ্ধা। প্রখর রোদের হাত থেকে বাঁচতে ছাতার আড়ালে শুয়ে রয়েছেন তিনি। নিজেই ধরে রেখেছেন ছাতা। ঠেলাগাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন দুই তরুণ। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযোগ, ব্যাঙ্কের ম্যানেজারই পিয়ারিকে ব্যাঙ্কে আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘ভাদোহি ওয়ালা’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। অনেক নেটাগরিক প্রশ্ন তুলেছেন, পেনশনভোগীদের সহায়তার জন্য একাধিক ব্যবস্থা রয়েছে। তা সত্ত্বেও ন্যায্য পাওনার জন্য এক জনকে কেন এমন দুর্দশার মধ্যে পড়তে হবে? ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে ওই ব্যাঙ্কের নির্দিষ্ট শাখার ম্যানেজার প্রবেশ ভার্মা দোষস্বীকার করেছেন। ভিডিয়োটি ভাইরাল হওয়ার পর, তিনি নিজে পিয়ারির বাড়িতে গিয়ে তাঁর পেনশন পৌঁছে দেন বলেও খবর।