আইফেল টাওয়ারকে সম্পূর্ণ ফ্রেমে নিয়ে নিজস্বী তোলার চেষ্টা করছিলেন এক তরুণী। মোবাইলের সামনের ক্যামেরা চালু করে ভিডিয়ো তোলারও চেষ্টা করছিলেন তিনি। তরুণীর দিকে এগিয়ে যান এক তরুণ। স্বেচ্ছায় তাঁর ছবি তুলে দিতে চান। কিন্তু তরুণী কোনও আগ্রহ দেখাননি। স্পষ্ট ভাবে ‘না’ বলার পরেও বার বার তরুণীকে নানা রকম প্রস্তাব দিতে থাকেন তরুণ। তরুণীর ‘না’ শব্দটি যেন শুনতেই পাচ্ছিলেন না তরুণ। অবশেষে তরুণী বাধ্য হয়ে বলেন, ‘‘আমি কিন্তু নারীবাদী।’’ তা শুনে আর এক মুহূর্তও সেখানে অপেক্ষা করলেন না সেই তরুণ। সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে চলে যান। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের পাতায় এমনই একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
আরও পড়ুন:
‘আইএমহেলিশিয়া’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে ইনস্টাগ্রামের পাতায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে যে, এক তরুণী আইফেল টাওয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ভিডিয়ো তোলার চেষ্টা করছেন। সেই মুহূর্তে এক অপরিচিত তরুণ তাঁর সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। পুরো ঘটনাটিই ক্যামেরাবন্দি করেন তরুণী। তরুণীকে একা দেখে সেই অপরিচিত তরুণ জিজ্ঞাসা করেন, ‘‘আমি কি আপনার ছবি তুলে দিতে পারি?’’ তরুণী ধন্যবাদ জানিয়ে মানা করেন। তার পর তরুণীর ফোন নম্বর চাইতে শুরু করেন সেই তরুণ।
তিনি বলেন, ‘‘আপনি খুব মিষ্টি দেখতে। আপনার ফোন নম্বর দিন। আপনাকে আমি ডেটে নিয়ে যেতে পারি।’’ বার বার না বলা সত্ত্বেও তরুণীকে জোর করতে থাকেন তিনি। তিতিবিরক্ত হয়ে তরুণী বলেন, ‘‘আমি আপনাকে অসংখ্য বার মানা করলাম। ‘না’ শব্দের অর্থ ‘না’ হয়। আমি তো আপনাকে জানালাম যে, আমি আগ্রহী নই। আমি আবার না বলছি।’’ শেষে তরুণী নিজেকে ‘নারীবাদী’ হিসাবে পরিচয় দেন। তা শুনে অদ্ভুত কাণ্ড ঘটান তরুণ। কয়েক কদম পিছিয়ে যান। তার পর বলেন, ‘‘আচ্ছা। আপনি যখন নারীবাদী তখন ‘না’ মানে সত্যিই ‘না’।’’ এই বলে সেখান থেকে চলে যান তিনি।
তরুণী অবাক হয়ে বলেন, ‘‘নারীবাদী হলেই কি ‘না’ শব্দের জোর রয়েছে!’’ ভিডিয়োটি দেখে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন নেটপাড়ার অধিকাংশ। তরুণীর উদ্দেশে এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘নারীবাদ সম্পর্কে সকলের মনে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। আপনি তো বহু ক্ষণ ধরেই নিষেধ করছিলেন। আপনি নারীবাদী না হলে আপনার কথার কি কোনও মূল্য থাকত না?’’