কখনও চড়-থাপ্পড়, কখনও কানমলা। কান ধরিয়ে ওঠবোস করানোর পর পায়ে দড়ি বেঁধে উল্টো করিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া। ১১ বছরের এক স্কুলপড়ুয়াকে এ ভাবেই শাস্তি দেওয়ার নামে নির্যাতনের অভিযোগ উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে। ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা) খোঁজখবর করছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, নির্যাতিত বালকের নাম জয় শিকারি। ১১ বছরের বালকটি স্থানীয় স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। দিন চারেক আগে জয় বন্ধুদের সঙ্গে লাঠি নিয়ে খেলছিল। সেই সময় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন জনৈক তপন হালদার। অসাবধানতাবশত জয়ের হাত থাকা লাঠিটি লেগে যায় তপনের গায়ে। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে যান ব্যক্তি। অভিযোগ, নাবালকের চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে নিজের বাড়ি নিয়ে যান তপন। সেখানে ছেলেটির উপর নৃশংস অত্যাচার করেন তিনি এবং তাঁর পরিবারের লোকজনেরা। ছেলেটির পায়ে দড়ি বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তার পরনের পোশাক খুলে নেওয়া হয়। এমনকি, সেই ‘শাস্তি’ দেওয়ার ভিডিয়ো মিজেরাই মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করেন। ছেলেটিকে ছাড়ার সময় হুমকি দেওয়া কাউকে এ নিয়ে কিছু বললে আরও বড় শাস্তি পাবে সে।
বাড়ি ফিরে প্রথমে কাউকেই কিছু জানায়নি জয়। কিন্তু তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখে বড়দের সন্দেহ হয়। তাঁরা খোঁজখবর করে এই ঘটনার কথা জানতে পারেন। অভিযুক্তদের কারও মোবাইল থেকে নির্যাতনের ভিডিয়ো বার করেন।
আরও পড়ুন:
পরিবার সূত্রে খবর, চিকিৎসার জন্য বালককে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার মাথার সিটি স্ক্যান এবং বুকের এক্স-রে করানো হয় তার। চিকিৎসকের পরামর্শে এখন বিশ্রামে রয়েছে জখম জয়। ট্রমার মধ্যে রয়েছে সে।
জয়ের বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ জানানোর পরেও পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি। অন্য দিকে, তাঁরা থানায় গিয়েছেন শুনে মূল অভিযুক্ত গা-ঢাকা দিয়েছেন। তাঁর বাড়ির দরজায় এখন তালা ঝুলছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।