উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্থানীয় আইএসএফ নেতা হাসানুর সরকারের বিরুদ্ধে। ‘আক্রান্ত’ পড়ুয়ার পিতা তৃণমূল নেতা তথা স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য জামিরুল মণ্ডল। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে।
‘আক্রান্ত’ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর নাম সোহেল মণ্ডল। সে যদুরহাটি আদর্শ বিদ্যাপীঠের ছাত্র। স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার সন্ধ্যায় বাদুড়িয়া থানার উত্তর শেরপুর এলাকায় আইএসএফ নেতা হাসানুরের বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিল সোহেল। সেই সময় হাসানুর সোহেলের পিতাকে নিয়ে কটু মন্তব্য করে বলে অভিযোগ। এ-ও অভিযোগ যে, সোহেল তার প্রতিবাদ করলে তাকে জোর করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায় হাসানুর। বাড়িতে বন্দি করে সোহেলকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে হাসানুরের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মারধরের সময় সোহেলের চিৎকার শুনে হাসানুরের বাড়িতে যান তাঁরা। সোহেলকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সোমবার তার পরীক্ষা রয়েছে। তাই ভোরেই হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সোহেলের পিতা এই ঘটনায় অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। যদিও ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক। তাঁর সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, সোহেলের পিতা জামিরুল আইএসএফ প্রার্থী হিসাবে পঞ্চায়েত নির্বাচনে জিতেছিলেন। তার পর তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। সেই রাগেই তাঁর ছেলেকে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি জামিরুলের।
এই ঘটনার নিন্দা করেছে আইএসএফ। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুতুবুদ্দিন ফতেহি বলেন, “ঘটনাটি নিন্দনীয়, এক জন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে কখনওই এমন ভাবে মারা উচিত নয়। এটা তার ভবিষ্যতের ব্যাপার। যিনি মেরেছেন, তিনি যে দলই করুন, প্রশাসন যেন তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করে।” বাদুড়িয়ায় তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি আশিক বিল্লা এই প্রসঙ্গে বলেন, “এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় একটি ঘটনা। ছেলেটির মাধ্যমিক পরীক্ষা। অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র সে। হাসানুর সরকার আইএসএফ করে বলেই ওর মানসিকতা এই রকম। এখন ছেলেটি মাধ্যমিক পরীক্ষা কী ভাবে দেবে সেটা নিয়েই চিন্তা। তবে আমরা ওর পাশে আছি। আমরা আইএসএফ নেতা হাসানুর সরকারের কঠিন শাস্তির দাবি করছি।”