দ্রুত পরিচিতি। ক্ষণিকেই জনপ্রিয়তা। এর টানেই সমাজমাধ্যমে ছোট ভিডিয়ো বা ‘রিল’ তৈরির ঝোঁক এখন প্রকট। বাদুড়িয়ায় নির্মীয়মাণ সেতুর উপরে সেই ‘রিল’ তৈরির হিড়িকেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বাদুড়িয়ার ইছামতী নদীর কাটাখালির উপরে তৈরি হচ্ছে সেতু। যান চলাচল শুরু না হওয়ায় রোজই বসিরহাট মহকুমার বিভিন্ন এলাকা থেকে অল্পবয়সি ছেলেমেয়েরা জড়ো হচ্ছে সেখানে। তৈরি হচ্ছে ‘রিল।’ গানের তালে নাচ, মোটর বাইকে ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন খেলা, এমনকি, সেতুর রেলিংয়ের উপর দিয়েও নানা কসরত চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর জেরে কারও হাত কেটে যাওয়া, কারও পা মচকে যাওয়া, আবার কারও হাত-পা ভাঙার ঘটনাও ঘটেছে।
সেতুর দু’পাশে পিডব্লিউডি-র তরফে ‘নো এন্ট্রি’ বোর্ড টাঙানো রয়েছে। তবু তা মানছেন না এই তরুণ-তরুণীরা। স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী গৌতম গুপ্ত বলেন, “প্রথমে মনে হয়েছিল মানুষের আবেগ। কিন্তু সাইকেল নিয়ে রেলিংয়ের উপর দিয়ে চলার দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছি। সামান্য ভুল হলেই ইছামতীর জলে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা!”
সমাজমাধ্যমে এমন ভিডিয়ো তথা কনটেন্ট তৈরির নেশায় দুর্ঘটনা বা দেশের নানা প্রান্তে প্রাণহানিও হয়েছে বহু বার। অভিযোগ, তারপরেও হুঁশ ফিরছে না এই কনটেন্ট নির্মাতাদের। ভিডিয়ো করতে আসা মানিরা খাতুন জানালেন, সেতু চালু হলে তা নিয়ে উদ্যাপনের ভিডিয়ো বানানোরও পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাদুড়িয়া লরি স্ট্যান্ড ও ফরিদকাটি এলাকায় সেতু চালু না হওয়া পর্যন্ত অন্তত অস্থায়ী পুলিশ পিকেট বসানো হোক।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)