অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের ‘ডক্টর্স সেল’র পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যমেলার আয়োজন করা হল। রবিবার বাগদা হাইস্কুলে মেলা বসেছিল। বাগদার বহু অসুস্থ মানুষ এ দিন মেলায় এসে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেন। বিনামূল্যে ওষুধপত্রও দেওয়া হয়।
মেলার আয়োজন নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কারণ, স্বাস্থ্যমেলার মূল উদ্যোক্তা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি তথা বনগাঁর প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মমতা ঠাকুর। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে বনগাঁ আসনে জয়ী হয়েছিলেন মমতার স্বামী কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর। পরবর্তী সময়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তখন উপ নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে জয়ী হয়ে সাংসদ হয়েছিলেন মমতা। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূল তাঁকে প্রার্থী করলেও তিনি বিজেপির শান্তনু ঠাকুরের কাছে পরাজিত হন।
বছর ঘুরলেই লোকসভা ভোট। তার আগে মমতার এই স্বাস্থ্য মেলার আয়োজনের পিছনে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খুঁজে পাচ্ছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূলের একটি সূত্র জানাচ্ছে, স্থানীয় রাজনীতিতে এই মুহূর্তে মমতার বিশেষ প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। বরং তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাসের গুরুত্ব বেড়েছে সম্প্রতি। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথাও আলোচনায় উঠে আসছে। এ বার ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে বিশ্বজিৎকে ভাষণ দিতে দেখা গিয়েছে। সূত্রের খবর, অভিষেকের ইচ্ছাতেই তিনি সেই সুযোগ পান।
মমতা নিজেকে প্রাসঙ্গিক করতেই এই জনসংযোগ কর্মসূচি নিয়েছেন বলে মনে করছে দলেরই একাংশ। পঞ্চায়েত ভোটের আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঠাকুরনগরে মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে এসেছিলেন। সেখানে গোলমালের জেরে হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে ঢুকতে পারেননি তিনি। দলের একাংশ মনে সন্দেহ দানা বাঁধে, ঠাকুরবাড়িতে মমতা ঠাকুরের রাশ কি কমছে? না হলে সে দিন গোলমাল হত না। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব মতুয়াদের কাছে টানতে এত দিন মমতার দিকেই তাকিয়ে থাকতেন। সব মিলিয়ে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে চেষ্টায় নেমেছেন মমতা— এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
মমতা অবশ্য বলেন, "এই কর্মসূচির সঙ্গে লোকসভা ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই। গরিব অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্যোগ। রবিবার বাগদা হাইস্কুলে স্বাস্থ্যমেলা হল। পর্যায়ক্রমে বনগাঁ লোকসভার অন্তর্গত আরও ৬টি বিধানসভা এলাকায় এমন মেলা করব।" এ দিনের স্বাস্থ্যমেলায় অনেক নেতা-মন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও আসেননি। তবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বজিৎ। তিনি বলেন, "স্বাস্থ্যমেলার আয়োজন করেছে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ। এটা মানুষের সেবামূলক কাজ। এর সঙ্গে লোকসভা ভোটের সম্পর্ক নেই।"
মমতার উদ্যোগকে অবশ্য কটাক্ষ করেছে বিজেপি। দলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবদাস মণ্ডল বলেন, "তৃণমূলে এখন মমতা ঠাকুরের অবস্থা নড়বড়ে। তিনি গুরুত্বহীন। নিজেকে প্রাসঙ্গিক করে তুলতে স্বাস্থ্যমেলার আয়োজন করছেন।" বিজেপির বক্তব্য প্রসঙ্গে বিশ্বজিৎ বলেন, "বিজেপি নেতাদের লজ্জা নেই। পঞ্চায়েত ভোটে মানুষ ওঁদের উচিত শিক্ষা দিয়েছেন।"
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)